দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

শ্রীপান্থের হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধটি একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী রচনা। এতে তিনি একটি কালি কলমের সাথে তার নিজের জীবনের সংযোগ স্থাপন করেছেন। তিনি কলমের মাধ্যমে তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন এবং তারপরের জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণা করেছেন।

Table of Contents

দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম - অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

শ্রীপান্থ কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?

শ্রীপান্থ হল নিখিল সরকারের ছদ্মনাম।

পাঠ্য ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনাটি কোন্ গ্রন্থের অন্তর্গত?

পাঠ্য ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনাটি নিখিল সরকার রচিত কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই গ্রন্থের অন্তর্গত।

কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই গ্রন্থটি ছাড়া নিখিল সরকার রচিত অপর দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।

কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই গ্রন্থটি ছাড়া নিখিল সরকার রচিত অপর দুটি গ্রন্থ হল যখন ছাপাখানা এলো, মেটিয়াবুরুজের নবাব।

লেখে তিন জন। – এই ‘তিন জন’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে তিন জন বলতে কালি, কলম এবং মনকে বোঝানো হয়েছে।

লেখক যেখানে কাজ করেন সেটা কীসের অফিস এবং সবাই সেখানে কী?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় লেখক শ্রীপান্থ যেখানে কাজ করেন সেটা লেখালেখির অফিস এবং সেখানে সবাই লেখক।

লেখকের অফিসে লেখক ছাড়া সকলের সামনে কী থাকে?

লেখকের অফিসে লেখক ছাড়া সকলের সামনে চৌকো আয়নার মতো একটা কাচের স্ক্রিন বা পরদা অর্থাৎ কম্পিউটার থাকে।

লেখকরা অনবরত তা দিয়ে লিখে চলেছেন – ‘তা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ‘তা’ বলতে ছাপা হরফ-সহ কম্পিউটারের কি-বোর্ডকে বোঝানো হয়েছে।

লেখক একদিন অফিসে কলম নিয়ে যেতে ভুলে গেলে ‘তবেই বিপদ’ কেন বলেছেন?

এক্ষেত্রে বিপদ হল লেখক ছাড়া তাঁর অফিসে কেউ লেখার কাজে কলম ব্যবহার করেন না। এমনকি কারও কাছে কলম পাওয়া গেলেও সেই ভোঁতা মুখের কলমে লিখে লেখক সুখ পান না।

দায়সারা ভাবে কোনও মতে সেদিনকার মতো কাজ সারতে হয়। – ‘দায়সারা’ কথাটি ব্যবহার করেছেন কেন?

অফিসে লেখকই একমাত্র কলম ব্যবহার করতেন। তাই কোনোদিন অফিসে কলম নিয়ে যেতে ভুলে গেলে কারও ভোঁতা মুখের কলমেই অগত্যা কাজ চালাতে হত তাঁকে।

বাংলায় একটা কথা চালু ছিল। – কোন্ কথা চালু ছিল?

বাংলায় চালু কথাটি ছিল- কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি।

কালগুণে বুঝিবা আজ আমরাও তা-ই। – আমরাও তা-ই’ বলতে লেখক কী বলেছেন?

বাংলার এক প্রচলিত প্রবাদ ছিল ‘কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি’। কম্পিউটারের বহুল ব্যবহারের ফলে লেখক বলেছেন কালি ও কলম ছাড়া এখন সবাই মুনশি বা লেখক হয়ে উঠেছে।

বড়োরা শিখিয়ে দিয়েছিলেন – বড়োরা কী শিখিয়েছিলেন?

ছোটোবেলায় কলম তৈরি করার সময় বড়োরা শিখিয়েছিলেন বাঁশের কঞ্চির ছুঁচোলো মুখটা চিরে দিতে, তবেই কালি একসঙ্গে না গড়িয়ে ধীরে ধীরে পড়বে।

লেখকদের শৈশবে লেখার পাত কেমন ছিল?

শৈশবে লেখকদের লেখার পাত বলতে ছিল কলাপাতা। এটিকে কাগজের মতো ব্যবহার করে তাতে লেখক ও তাঁর সহপাঠীরা হোমটাস্ক করতেন।

কলাপাতায় হোমটাস্ক করার পর সেগুলি নিয়ে শৈশবে লেখকরা কী করতেন?

লেখকরা কলাপাতায় হোমটাস্ক করে সেগুলি বান্ডিল বেঁধে স্কুলে নিয়ে গিয়ে মাস্টারমশাইকে দেখাতেন। মাস্টারমশাই সেগুলো দেখার পর আড়াআড়িভাবে ছিঁড়ে ফেরত দিলে তাঁরা সেটা পুকুরে ফেলে দিতেন।

গোরুকে অক্ষর খাওয়ানোও নাকি পাপ। – তাই লেখকরা শৈশবে কী করতেন?

শৈশবে লেখকরা মাস্টারমশাইয়ের ফেরত দেওয়া ছেঁড়াখোঁড়া কলাপাতার টুকরোগুলি পুকুরে ফেলে দিতেন। কারণ সেযুগে মনে করা হত ওগুলো গোরু খেলে অমঙ্গল হবে।

কালি তৈরির উৎকৃষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে প্রচলিত প্রবাদটি লেখো।

কালি তৈরির বিষয়ে প্রচলিত প্রবাদটি হল- তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।

বড়োদের সাহায্য নিয়ে শৈশবে লেখকরা কীভাবে নিজেরাই কালি তৈরি করতেন?
অথবা, আমাদের ছিল সহজ কালি তৈরি পদ্ধতি। – সহজ পদ্ধতিটি কী ছিল?

কাঠের উনুনে ব্যবহার করা কড়াইয়ের নীচে জমে থাকা কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে, একটা পাথরের বাটিতে জলে গুলে নিয়ে শৈশবে লেখকরা নিজেরাই কালি তৈরি করতেন।

বলতে গেলে তাই নিয়ে আমাদের প্রথম লেখালেখি। – কী কী নিয়ে প্রথম লেখালেখি ছিল?

বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত, ঘরে তৈরি কালি এবং লেখার জন্য কলাপাতা-এগুলি নিয়েই শৈশবে লেখকের প্রথম লেখালেখি ছিল।

তখন মনে কষ্ট হয় বইকী। – কী কারণে মনে কষ্ট হয়েছে?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনার লেখক শ্রীপান্থ কলম ক্রমশ উধাও হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় মনে কষ্ট পেয়েছেন।

লেখকের জন্ম মিশরে হলে লেখক কী করতেন বলেছেন?

মিশরে জন্ম হলে লেখক নীল নদের তীর থেকে নলখাগড়া ভেঙে নিয়ে কলম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

প্রাচীন সুমেরীয়রা কীভাবে কলম বানাত?

প্রাচীন সুমেরীয়রা নীল নদের তীর থেকে নলখাগড়া ভেঙে নিয়ে এসে সেটাকে ভোঁতা করে তুলি বানিয়ে লিখত।

ফিনিসীয় হলে লেখক কী করতেন?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় লেখক জানিয়েছেন, তিনি ফিনিসীয় হলে বনপ্রান্ত থেকে হাড় কুড়িয়ে তাকে কলম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

এমনকী আমি যদি রোম সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হতাম। – কোন্ রোমান অধীশ্বরের কথা বলা হয়েছে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনার আলোচ্য অংশে রোম সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হিসেবে জুলিয়াস সিজারের কথা বলা হয়েছে।

স্টাইলাস কী?

ব্রোঞ্জের সরু কাঠি বা শলাকার পোশাকি নাম স্টাইলাস। প্রাচীন রোমে কলম হিসেবে ব্রোঞ্জের শলাকা ব্যবহার করা হত।

স্টাইলাসকে ঘিরে রোমের ইতিহাসের কোন ঘটনার কথা লেখক বলেছেন?

স্টাইলাস বা ব্রোঞ্জের এক শলাকা দিয়ে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার কাসকাকে আঘাত করেছিলেন। সে-কথাই লেখক এখানে বলেছেন।

আমরা ফেরার পথে কোনও পুকুরে তা ফেলে দিয়ে আসতাম। – বক্তা কেন তা পুকুরে ফেলে দিতেন?

লেখকরা শৈশবে কলাপাতায় হোমটাস্ক করতেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী সেগুলো গোরুতে খেয়ে নিলে অমঙ্গল হবে। তাই সেগুলি পুকুরে ফেলে দেওয়া হত।

লেখক শ্রীপান্থ ছোটোবেলায় কীসে ‘হোম-টাস্ক’ করতেন?

লেখক শ্রীপান্থ ছোটোবেলায় কলাপাতাকে কাগজের মাপে কেটে নিয়ে ‘হোম-টাস্ক’ করতেন।

খাগের কলমের ব্যবহার এখন কোন্ সময়ে দেখা যায়?

খাগের কলমের ব্যবহার এখন সরস্বতী পুজোর সময় দেখা যায়।

পালকের কলমের ইংরেজি নাম কী?

পালকের কলমের ইংরেজি নাম হল কুইল।

বাঙালি সাংবাদিকদের ইংরেজি দেখে কে, কী বলতেন?

বাঙালি সাংবাদিকদের ইংরেজি দেখে লর্ড কার্জন ‘বাবু কুইল ড্রাইভারস’ বলতেন।

পালকের কলম বর্তমানে দেখার জন্য কীসের ওপর নির্ভর করতে হয়?
অথবা, ‘কুইল’ এখন কোথায় দেখতে পাওয়া যায়?

পালকের কলম বা ‘কুইল’ বর্তমানে দেখার জন্য পুরোনো দিনের তৈলচিত্র বা ফোটোগ্রাফের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এমন দুটি চিত্রের উল্লেখ করো যাতে পালকের কলম দেখা যায়।

উইলিয়াম জোন্সের ও স-মুনশি কেরি সাহেবের চিত্র দুটিতে পালকের কলম দেখা যায়।

পালক কেটে কলম তৈরি করার জন্য সাহেবরা কী করেছিলেন?

পালক কেটে কলম তৈরি করার জন্য সাহেবরা পেনসিল শার্পনারের মতো এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। কলম বানানোর জন্য তাতে ব্লেড ছিল।

কিন্তু সে সব ফাঁকি মাত্র। – এই উক্তির তাৎপর্য কী?

পালক কলম এবং দোয়াত কলমের পরিবর্তে অফিসে ছদ্মবেশী বল-পেন সাজানো থাকে, যাকে লেখক বলেছেন ফাঁকি মাত্র।

কিছুকাল আগে একজন বিদেশি সাংবাদিক লিখেছিলেন – কী লিখেছিলেন?

কিছুকাল আগে একজন বিদেশি সাংবাদিক লিখেছিলেন যে, কলকাতার চৌরঙ্গিতে তিন জন ফেরিওয়ালার মধ্যে এক জন কলমবিক্রেতা।

দার্শনিক তাঁকেই বলে – দার্শনিক কাকে বলা হয়?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় লেখকের মতে যিনি কানে কলম গুঁজে দুনিয়া খোঁজেন তাকেই দার্শনিক বলা হয়।

কেউ কেউ অবশ্য চুলেও কলম ধারণ করেন। – এই প্রসঙ্গে শ্রীপান্থ কী উদাহরণ দিয়েছেন?

আলোচ্য প্রসঙ্গে শ্রীপান্থ উদাহরণ দিয়েছেন, ভিড় ট্রাম বা বাস থেকে নামার সময় দেখা যায়, কোনো কোনো মহিলা যাত্রীর খোঁপায় কলম গোঁজা রয়েছে।

কলম এখন সর্বজনীন। – তাৎপর্য কী?

সস্তা এবং সর্বভোগ্য হওয়ার ফলে ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় কলম সম্পর্কে লেখক এমন মন্তব্য করেছেন।

কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য। – অস্পৃশ্য কেন?

কলম অতি সস্তা এবং সর্বভোগ্য হওয়ার ফলে পকেটমারও এখন কলম চুরি করে না। তাই বলা হয়েছে তাদের কাছে কলম অস্পৃশ্য।

কলম তাদের কাছে আজ অস্পৃশ্য। – কাদের কাছে?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় লেখক বলেছেন, কলম সস্তা হয়ে যাওয়ার ফলে হাত সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত পকেটমারদের কাছে কলম অস্পৃশ্য হয়ে যায়।

কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব কীভাবে ঘটেছে?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় লেখক বলেছেন কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব ঘটেছে ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারের ফলে।

নামটা রবীন্দ্রনাথের দেওয়াও হতে পারে। – কোন্ নামের কথা বলা হয়েছে?

ফাউন্টেন পেনের যে বাংলা নাম ঝরনা কলম একদা প্রচলিত ছিল, এখানে সেই নামের কথা বলা হয়েছে।

ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে?

ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক হলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান।

আমার মনে পড়ে প্রথম ফাউন্টেন পেন কেনার কথা। – কোথায় লেখক ফাউন্টেন পেন কিনতে গিয়েছিলেন?

লেখক কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের এক নামি দোকানে ফাউন্টেন পেন কিনতে গিয়েছিলেন।

পেনের দোকানদার লেখকের পকেটের অবস্থা বুঝতে পেরে কী পেন দিয়েছিলেন?

পেনের দোকানদার লেখকের পকেটের অবস্থা বুঝতে পেরে একটি সস্তার জাপানি পাইলট পেন দিয়েছিলেন।

এই দেখো। নিব ঠিক আছে। — কোন ঘটনায় দোকানদার এরুপ বলেছিলেন?

একটি কাঠের বোর্ডের দিকে একটা পাইলট পেনের খাপটি খুলে পেনটা ছুঁড়ে দিয়ে দোকানদার দেখিয়েছিলেন পেনটার নিবটা অক্ষতই আছে। এই ঘটনার পরিপেক্ষিতেই তিনি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছিলেন।

তা লেখককে নেশাগ্রস্ত করে। — কী, কীভাবে লেখককে নেশাগ্রস্ত করে?

এখানে ফাউন্টেন পেনের কথা বলা হয়েছে। এই পেন সংগ্রহের আনন্দ লেখককে নেশাগ্রস্ত করে।

কোন লেখকের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ দেখে লেখক ‘নেশাগ্রস্ত’ হওয়ার কথাটি এনেছেন?

সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ দেখে লেখক ‘নেশাগ্রস্ত’ হওয়ার কথাটি এনেছেন।

জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন – ফাউন্টেন পেনের জন্মবৃত্তান্তটি উল্লেখ করো।

লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যানের হাত ধরে ফাউন্টেন পেনের জন্ম হয়েছে। আদিতে এর নাম ছিল রিজার্ভার পেন।

দুজন সাহিত্যিকের নাম করো যাঁদের নেশা ছিল ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করা।

সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের নেশা ছিল।

দোকানদার লেখককে কলম বিক্রি করার আগে কী দেখিয়েছিলেন?

লেখক কলম দেখতে চাইলে দোকানদার কলম বিক্রির আগে জাদু দেখিয়েছিলেন। দোকানদার কলমের মুখ থেকে খাপটা সরিয়ে সেটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন টেবিলের পাশে দাঁড় করানো একটা কাঠের বোর্ডের উপর। কিন্তু তা সত্ত্বেও কলমের নিবটি অক্ষত ছিল।

প্রথমে ফাউন্টেন পেনের নাম কী ছিল?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় জানা যায় প্রথমে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল রিজার্ভার পেন।

আমি ছিলাম কালি কলমের ভক্ত। – এখানে কী বলতে চেয়েছেন লেখক?

লেখক পুরোনো দিনের দোয়াত-ভরা কালি আর নিবের ভক্ত ছিলেন। আলোচ্য অংশে লেখক সেই কথাটিই বলতে চেয়েছেন।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে দোয়াতে এবং বোতলে তৈরি করে রাখা কালির কী কী নাম পেয়েছ?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে দোয়াতে এবং বোতলে তৈরি করে রাখা কালির কাজল কালি, সুলেখা ইত্যাদি নাম পেয়েছি।

বিদেশে উন্নত ধরনের নিব টেকসই করার জন্য কী দিয়ে বানানো হত?

বিদেশে উন্নত ধরনের নিব টেকসই করার জন্য গোরুর শিং অথবা কচ্ছপের খোল কেটে বানানো হত।

ক্রমে হঠিয়ে দেওয়া হলো দোয়াত আর কলমকে। – কীভাবে হঠিয়ে দেওয়া হল?

ফাউন্টেন পেনের সস্তা, দামি, উন্নত নানা ধরনের সম্ভার বাজারে আসার ফলে দোয়াত এবং কলম ক্রমশ বাজার থেকে হটে গেল।

একসময় লেখা শুকোনো হত কী দিয়ে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনা থেকে জানা যায়, প্রথমে বালি এবং পরে ব্লটিং পেপারে একসময় লেখা শুকোনো হত।

না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত। – কী প্রসঙ্গে লেখক এরূপ বলেছেন?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনায় দোয়াতের বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে লেখক এ কথা বলেছেন।

গ্রামে কেউ দু-একটা পাস করতে পারলে বুড়োবুড়িরা কী বলে আশীর্বাদ করতেন?

গ্রামে কেউ দু-একটা পাস করতে পারলে বুড়োবুড়িরা তাকে ‘সোনার দোয়াতকলম হোক’ বলে আশীর্বাদ করতেন।

সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো – তা লেখক কীভাবে জেনেছিলেন?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনা থেকে জানা যায়, সোনার দোয়াতকলম যে সত্যিই হত তা লেখক জেনেছিলেন সুভো ঠাকুরের দোয়াতের সংগ্রহ দেখে।

সুভো ঠাকুরের দোয়াতের সংগ্রহ দেখে অবাক হয়ে মনে মনে লেখক কী ভেবেছিলেন?

লেখক অবাক হয়ে মনে মনে ভেবেছিলেন, এই ধরনের দোয়াতের কালি ও কলম দিয়েই শেকসপিয়র, দান্তে, মিল্টন, কালিদাস, কাশীরাম, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ সাহিত্যিক তাঁদের অমর রচনা লিখে গিয়েছেন।

ক্রমে তা-ও বুঝিবা যায় যায়।— কেন লেখক এরূপ বলেছেন?

যন্ত্রযুপের উন্নতির কারণে ফাউন্টেন পেনও তার আধিপত্য এবং বাজারজোড়া সর্বজনীন রূপ হারিয়ে বল-পেনের জয় দেখতে চলেছে। সেই প্রসঙ্গেই লেখক এরূপ বলেছেন।

ফাউন্টেন পেন বিক্রি করে এমন একটি কোম্পানি গর্ব প্রকাশ করে কী বিজ্ঞাপন দিয়েছিল?

ফাউন্টেন পেন বিক্রি করে, এমন একটি কোম্পানি গর্ব করে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল যে, তাদের তহবিলে সাতশো রকমের নিব থাকে।

যন্ত্রযুগ সকলের দাবি মেটাতেই তৈরি। – উক্তিটির প্রসঙ্গ লেখো।

গায়ক, শিল্পী, শ্রুতিলেখক, বাম হাতে লেখা লোক, এমনকি ধনী ব্যক্তি-সকলের আলাদা আলাদা নিবের চাহিদা পূরণ করা প্রসঙ্গে এরূপ বলা হয়েছে।

আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে। – কী আজ অবলুপ্তির পথে?

ফাউন্টেন পেন থেকে বল পয়েন্ট পেন—সবই আজ অবলুপ্তির পথে। কম্পিউটার যুগে কলমের ব্যবহার কমতে থাকায় লেখক এই কথা বলেছেন।

আমার মতো আরো কেউ কেউ নিশ্চয় বিপন্ন বোধ করছেন। – কী বিষয়ে বিপন্ন বোধের কথা বলা হয়েছে?

লেখকের মতো যারা কলম ব্যবহার করেন তাদের বিপন্ন অবস্থা, কারণ কম্পিউটারের দৌলতে কলম আজ ক্রমশ অবলুপ্তির পথে।

কিন্তু ইতিহাসে ঠাঁই কিন্তু তার পাকা। – লেখক কী প্রসঙ্গে এরুপ বলেছেন?

ইতিহাসে কলমের স্থান পোস্ত। কারণ প্রাচীন কাল থেকে কলম শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

ক্যালিগ্রাফিস্ট বা লিপিকুশলী কাদের বলা হয়?

পারদর্শী লিপিকর বা ক্যালিগ্রাফিস্টদের বলা হয় লিপিকুশলী।

মুঘল দরবারে একদিন তাঁদের কত না খাতির – কাদের কথা বলা হয়েছে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনার অন্তর্গত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে লিপিকুশলী বা ‘ক্যালিগ্রাফিস্ট’-দের কথা বলা হয়েছে।

সমানি সম শীর্ষাণি ঘনানি বিরলানি চ। – বাংলা অর্থ কী?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনার অন্তর্গত থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটির বাংলা অর্থ হল- সব অক্ষর সমান, প্রতিটি ছত্র সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন।

অথচ কত সামান্যই না রোজগার করতেন ওঁরা। – এরকম বক্তব্যের কোন্ উদাহরণ লেখক দিয়েছেন?

উদ্ধৃত বক্তব্যের সপক্ষে উদাহরণ দিতে গিয়ে লেখক জানিয়েছেন, অষ্টাদশ শতকে চার খণ্ড রামায়ণ লিখে একজন লেখক পেয়েছিলেন। নগদ সাত টাকা, কিছু কাপড় আর মিঠাই।

লিখে কম রোজগার হত – এ-প্রসঙ্গে সাহেব কী লিখে গেছেন?

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, এক সাহেব লিখে গেছেন, উনিশ শতকে বারো আনায় বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো হত।

তাকে ঘিরে লিপিকরের কত না গর্ব। – এ প্রসঙ্গে লেখক কী বলেছেন?

কোনো কোনো পুথির লেখক পুথিতে এ কথাও লিখতেন যে, তাঁর পুথি যেন কেউ চুরি না করে। পুথিকে চুরির হাত থেকে রক্ষা করতে এইসব লিপিকর সম্ভাব্য বা কাল্পনিক চোরকে গালমন্দ এবং অভিশাপও দিতেন। আলোচ্য প্রসঙ্গে লেখক উক্ত বক্তব্যটি করেছেন।

কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে কলমকে তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়েছে।

ফাউন্টেন পেনও হয়তো আভাসে ইঙ্গিতে তা-ই বলতে চায়। – আভাস ইঙ্গিতটি কীরকম?

শ্রীপান্থ তাঁর ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে মন্তব্য করেছেন, ফাউন্টেন পেন হয়তো আভাসে ইঙ্গিতে বলতে চায় যে, কলম তরোয়ালের চেয়ে শক্তিশালী।

কোন প্রবীণ কবি বা লেখক কলমের বদলে টাইপরাইটারে লিখেছেন?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, অন্নদাশঙ্কর রায় কলমের বদলে টাইপরাইটারে লিখেছেন।

আধুনিক যুগে নিবের কলম ব্যবহার করতেন কোন্ বিখ্যাত বাঙালি লেখক?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, আধুনিক যুগে নিবের কলম ব্যবহার করতেন সত্যজিৎ রায়।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্পের সূচনা হয়েছিল কীভাবে?

রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্পের সূচনা হয়েছিল হাতে লেখা পান্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়ে।

হাতে লেখা পান্ডুলিপিতে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে সম্মানিত হয়েছেন?

হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতায় অক্ষর কাটাকুটি করতে গিয়েই রবীন্দ্রনাথের চিত্রচর্চা শুরু, যা পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিশ্বময় সম্মানিত করেছে।

তবু যদি আমাকে হত্যা করতে চাও, আচ্ছা, তবে তা-ই হোক। – কী প্রসঙ্গে লেখক এরূপ বলেছেন?

বাঁশের পেন, নিব-পেন ছেড়ে লেখক বল-পেনের কাছে আত্মসমর্পণ করে আধুনিক অগ্রগতির কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই লেখক এরূপ উক্তিটি করেছেন।

একবার অন্তত নিবের কলমকে দেখা গেছে খুনির ভূমিকায়। – কোন ঘটনা লেখক বলেছেন?

সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় অসাবধানতাবশত বুকে কলম এ ফুটে মারা যান। আলোচ্য অংশে সেই ঘটনার কথাই লেখক বলেছেন।

সেই আঘাতেরই পরিণতি নাকি তাঁর মৃত্যু। — এখানে কার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।

সেই আঘাতের পরিণতি নাকি তাঁর মৃত্যু – কোন্ আঘাতের পরিণতিতে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে?

বিখ্যাত লেখক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় মারা গিয়েছিলেন নিজের হাতের কলম হঠাৎ অসাবধানতাবশত বুকে ফুটে গিয়ে। এখানে কলমের সেই আঘাতের পরিণতিতে ত্রৈলোক্যনাথের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম-এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির কত দাম?

শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম আড়াই হাজার পাউন্ড।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম একটি সুন্দর এবং অর্থপূর্ণ প্রবন্ধ। এটি একটি ছোট্ট গল্পের মাধ্যমে আমাদের হারানোর বেদনা সম্পর্কে শিখতে সাহায্য করে। প্রবন্ধটি খুবই সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য। শ্রীপান্থের লেখার ভঙ্গি খুবই চিত্তাকর্ষক। তিনি তার অনুভূতিগুলিকে খুবই সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি এই প্রবন্ধটি সকলের পড়া উচিত। এটি আমাদের হারানোর বেদনা সম্পর্কে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন