নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

জৈব অণু বা বায়োমলিকিউল কাকে বলে? জৈব অণুর শ্রেণিবিভাগ করো।

জৈব অণু (Biomolecule) – যে-সমস্ত ক্ষুদ্র বা বৃহৎ অণু জীবদেহের গঠনে উপস্থিত থাকে এবং জীবদেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একত্রে জৈব অণু বা বায়োমলিকিউল বলে।

জৈব অণুর শ্রেণিবিভাগ –

জৈব অণুর শ্রেণিবিভাগ

জৈব উপাদানগুলি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।

জৈবিক উপাদান তিনপ্রকার। যথা –

  1. মুখ্য উপাদান বা মেজর বা প্রিন্সিপাল এলিমেন্ট – যে-সমস্ত জৈবিক উপাদান সম্মিলিতভাবে প্রোটোপ্লাজমের 98% অংশ গঠন করে, তাদের মুখ্য উপাদান বলে। মুখ্য উপাদান ছয় প্রকার। যথা –
    • কার্বন (C),
    • হাইড্রোজেন (H),
    • অক্সিজেন (O),
    • নাইট্রোজেন (N),
    • ফসফরাস (P),
    • সালফার (S)।
  2. গৌণ উপাদান বা মাইনর এলিমেন্ট – যে-সমস্ত মৌলিক উপাদান সম্মিলিতভাবে প্রোটোপ্লাজমের 2% অংশ গঠন করে, তাদের গৌণ উপাদান বলে। যেমন –
    • মেটাল আয়ন – ক্যালশিয়াম (Ca), ম্যাগনেশিয়াম (Mg), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), লৌহ (Fe)।
    • নন-মেটাল আয়ন – ফসফরাস (P), ক্লোরিন (CI), আয়োডিন (I)।
  3. স্বল্পমাত্রিক উপাদান বা ট্রেস এলিমেন্ট – যে-সমস্ত মৌলিক উপাদানগুলি সম্মিলিতভাবে প্রোটোপ্লাজমের মাত্র 0.001% অংশ গঠন করে, তাদের স্বল্পমাত্রিক উপাদান বলে। যেমন –
    • মেটাল আয়ন – ম্যাঙ্গানিজ (Mn), কোবাল্ট (Co), তামা (Cu), জিংক (Zn),
    • নন-মেটাল আয়ন – মলিবডেনাম (Mo), সিলিকন (Si)।

অজৈব উপাদান হিসেবে জীবদেহে জলের গুরুত্ব আলোচনা করো।

জীবদেহে জলের গুরুত্ব –

জল প্রোটোপ্লাজমের 60-90% অংশ গঠন করে। জল জীবদেহে উত্তম দ্রাবকরূপে কাজ করে।

উদ্ভিদদেহে জলের গুরুত্ব –

  1. কোশের প্রোটোপ্লাজমকে সিক্ত ও সজীব রাখে এবং সমস্ত বিপাকীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
  2. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার অন্যতম মুখ্য উপাদান হল জল।
  3. অভিস্রবণে ও বাষ্পমোচনে জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  4. উদ্ভিদদেহে অভিস্রবণজনিত রসস্ফীতি চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
  5. বীজের অঙ্কুরোদগমে জল মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

প্রাণীদেহে জলের গুরুত্ব –

  1. পরিপাকলব্ধ খাদ্যকে তরল রেখে শোষণ উপযোগী করে তোলে।
  2. লালারস, পাচকরস -এর প্রধান উপাদান হল জল।
  3. মিউকাস, অশ্রু প্রভৃতির মুখ্য উপাদান জল যা প্রাণীদেহকে প্রতিরক্ষা দান করে।
  4. রক্তসংবহনতন্ত্রে, লসিকাতন্ত্রে এবং রেচনতন্ত্রে জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  5. অস্থিসন্ধিতে লুব্রিকেশনে, ঝাঁকুনি প্রতিরোধে জল অংশগ্রহণ করে।

অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ – অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ নিম্নলিখিতভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে।

উৎসের ওপর নির্ভর করে শ্রেণিবিভাগ –

উৎসের ওপর নির্ভর করে অ্যাসিডকে দুভাগে ভাগ করা যায়, যথা –

  1. খনিজ অ্যাসিড – যে সকল অ্যাসিড বিভিন্ন খনিজ পদার্থের থেকে উৎপন্ন হয়, তাদের খনিজ অ্যাসিড বলে। যেমন – হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCI), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) ইত্যাদি।
  2. জৈব অ্যাসিড – যে সকল অ্যাসিড বিভিন্ন জৈব পদার্থ থেকে উৎপন্ন হয়, তাদের জৈব অ্যাসিড বলে। যেমন – ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড ইত্যাদি।

তীব্রতার ওপর নির্ভর করে শ্রেণিবিভাগ –

তীব্রতার ওপর নির্ভর করে অ্যাসিডকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

  • তীব্র অ্যাসিড – যে সকল অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে বেশিমাত্রায় বিয়োজিত হয়ে অধিক H+ আয়ন তৈরি করে, তাদের তীব্র অ্যাসিড বলে। যেমন – HCI, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি।
  • মৃদু অ্যাসিড – যে সকল অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে অল্পমাত্রায় বিয়োজিত হয়ে স্বল্প সংখ্যক H+ আয়ন তৈরি করে, তাদের মৃদু অ্যাসিড বলে। যেমন – অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH)।

জীবদেহে অ্যাসিডের প্রধান ভূমিকাগুলি লেখো।

জীবদেহে অ্যাসিডের প্রধান ভূমিকা –

  1. জীবদেহে pH -এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে অ্যাসিড।
  2. পাকস্থলীর অক্সিন্টিক কোশ থেকে উৎপাদিত HCI খাদ্যবস্তুর মধ্যস্থ জীবাণু ধ্বংস করে, উৎসেচকের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে, এবং খাদ্যস্থ লৌহের শোষণ বৃদ্ধি করে।
  3. বেশ কিছু জৈব অ্যাসিড শ্বসন বস্তুরুপে ব্যবহৃত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপাদন করে।
  4. অ্যালকোহল ও ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে বিক্রিয়ার মাধ্যমে লিপিড সৃষ্টি হয়।
  5. জীবদেহে অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন সৃষ্টি হয়।
  6. পেশির ক্লান্তি ঘটলে অ্যাসিড পেশিকে অক্সিজেনের জোগান দেয়, মাইটোকনড্রিয়াকে শক্তি জোগায়। যেমন – ল্যাকটিক অ্যাসিড।

কার্বোহাইড্রেট কাকে বলে? কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক গঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

কার্বোহাইড্রেট – যে-সমস্ত জৈব যৌগ কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) -এর সমন্বয়ে গঠিত এবং যা থেকে জীবদেহে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় ও যা জীবদেহের প্রধান শ্বসনবস্তু হিসেবে কাজ করে, তাকে কার্বোহাইড্রেট বলে।

কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক গঠন –

  • রাসায়নিক সংকেত – কার্বোহাইড্রেটের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হল Cn(H2O)n; যেখানে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত থাকে 1 : 2 : 1। যেমন – গ্লুকোজ (C6H12O6), রাইবোজ (C5H10O5)। কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়। যেমন – র‍্যামনোজ (C6H12O5)। এতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 1 : 2 : 1 অনুপাতে থাকে না। আবার ল্যাকটিক অ্যাসিড (CH3CHOHCOOH), অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH), ফরম্যালডিহাইড (HCHO) ইত্যাদির আণবিক সংকেত কার্বোহাইড্রেটের সাধারণ সংকেতের অনুরূপ হলেও এরা কার্বোহাইড্রেট নয়। এই কারণে বর্তমানে কার্বোহাইড্রেট ব্যাখ্যা করতে তার আণবিক সংকেতের বদলে তার আকৃতি বা গঠনের ওপর নির্ভর করা হয়।
  • রাসায়নিক ধর্ম – প্রতিটি শর্করা যৌগের গঠনে একাধিক হাইড্রক্সিল মূলক (-OH) এবং একটি অ্যালডিহাইড মূলক (-CHO) বা একটি কিটোন মূলক (C = O) মুক্ত বা যুক্তভাবে উপস্থিত থাকে। তাই বিজারণধর্মী হয়।
  • প্রকারভেদ – কার্বোহাইড্রেটের গঠনে একটিমাত্র শর্করা অণু থাকলে তাকে একশর্করা (Monosaccharide) বলে। এখানে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা থাকে 2-7 বা তার বেশি। যেমন – গ্লুকোজ। সরল শর্করা ঘনীভবনের (Condensation) মাধ্যমে জটিল শর্করা (Polysaccharide) গঠন করে। যেমন – সুক্রোজ, স্টার্চ প্রভৃতি।
  • এস্টার গঠন – হাইড্রক্সিল গ্রুপযুক্ত হওয়ায় কার্বোহাইড্রেট অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এস্টার গঠন করে। যেমন – অ্যাসিটেট, বেনজোয়েট প্রভৃতি।
  • আইসোমারিজম – যখন দুটি কার্বোহাইড্রেট যৌগ একই আণবিক সংকেতযুক্ত হয় কিন্তু রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যের জন্য এদের ধর্মের পার্থক্য দেখা যায়, সেই ঘটনাকে আইসোমেরিজম বলে এবং যৌগ দুটিকে আইসোমার বলে। যেমন – গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজের আণবিক সংকেত এক হলেও, এদের রাসায়নিক গঠন আলাদা। গ্লুকোজে একটি অ্যালডিহাইড মূলক ও পাঁচটি হাইড্রক্সিল মূলক বর্তমান এবং ফ্রুকটোজে একটি কিটোন মূলক ও পাঁচটি হাইড্রক্সিল মূলক বর্তমান।
কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক গঠন

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলি লেখো।

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলি হল –

  1. ভৌতধর্ম – শর্করা হল বর্ণহীন ও জলে দ্রাব্য যৌগ। সাধারণত মিষ্ট স্বাদযুক্ত।
  2. রাসায়নিক ধর্ম – শর্করা হল একধরনের পলিহাইড্রক্সি অ্যালকোহলের অ্যালডিহাইড ও কিটোনের লব্ধ পদার্থ।
  3. অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া – শর্করাতে উপস্থিত অ্যালকোহল গ্রুপ অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এস্টার যৌগ গঠন করে।
  4. বিজারণ ক্ষমতা – অ্যালডিহাইড (-CHO) এবং কিটো গ্রুপের (C = O) উপস্থিতির জন্য শর্করা বিজারণ ধর্ম প্রদর্শন করে।
  5. আইসোমার সৃষ্টি – একক শর্করার মধ্যে অপ্রতিসম কার্বন পরমাণু থাকার জন্য এরা বিভিন্ন প্রকার আইসোমার গঠন করতে পারে।
  6. গঠন কাঠামো – শর্করার গঠন কাঠামোতে শৃঙ্খলাকার ও বলয়াকার গঠন লক্ষ করা যায়। যেমন – গ্লুকোজের মধ্যে শৃঙ্খলাকার ও বলয়াকার গঠন দেখা যায়।
  7. সন্ধান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ – বেশ কিছু একক শর্করা কিছু ছত্রাকের দ্বারা সন্ধান প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি করে।

গঠন অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ করো।

কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ –

  1. মনোস্যাকারাইড – যে-সকল কার্বোহাইড্রেট যৌগ একটিমাত্র শর্করা অণু দ্বারা গঠিত এবং যাদের বিশ্লিষ্ট করলে কোনো সরলতর শর্করা যৌগ পাওয়া যায় না, তাদের মনোস্যাকারাইড বলে। যেমন – গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, রাইবোজ ইত্যাদি। কার্বন পরমাণুর সংখ্যার তারতম্যের ভিত্তিতে মনোস্যাকারাইড বিভিন্ন প্রকারের হয় –
    • ট্রায়োজ – কার্বন পরমাণুর সংখ্যা তিন। যথা – গ্লিসার‍্যালডিহাইড।
    • টেট্রোজ – কার্বন পরমাণুর সংখ্যা চার। যথা – এরিথ্রোজ।
    • পেন্টোজ – কার্বন পরমাণুর সংখ্যা পাঁচ। যথা – রাইবোজ।
    • হেক্সোজ – কার্বন পরমাণুর সংখ্যা ছয়। যথা – গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ।
    • হেপ্টোজ – কার্বন পরমাণুর সংখ্যা সাত। যথা – সেডোহেপটিউলোজ।
  2. ডাইস্যাকারাইড – দুটি মনোস্যাকারাইড অণু যুক্ত হয়ে যে সকল কার্বোহাইড্রেট যৌগ গঠিত হয়, তাদের ডাইস্যাকারাইড বা দ্বিশর্করা বলে। যেমন – সুক্রোজ (গ্লুকোজ + ফ্রুকটোজ), ল্যাকটোজ (গ্লুকোজ + গ্যালাকটোজ), মলটোজ (গ্লুকোজ + গ্লুকোজ)।
  3. অলিগোস্যাকারাইড – দুই থেকে নয়টি মনোস্যাকারাইড অণু যুক্ত হয়ে যে সকল কার্বোহাইড্রেট অণু গঠিত হয়, তাদের অলিগোস্যারাইড বলে। যেমন – র‍্যাফিনোজ, স্করোডোজ।
  4. পলিস্যাকারাইড – দশ বা দশের বেশি সংখ্যক মনোস্যাকারাইড অণু যুক্ত হয়ে যে সকল কার্বোহাইড্রেট অণু গঠিত হয়, তাদের পলিস্যাকারাইড বলে। যেমন – স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, সেলুলোজ।

কার্বোহাইড্রেটের উৎসগুলি উল্লেখ করো। জীবদেহে কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্বগুলি আলোচনা করো।

কার্বোহাইড্রেটের উৎস –

উদ্ভিজ্জ উৎস –

  1. মনোস্যাকারাইড – আপেল, আখ, আম ইত্যাদি।
  2. ডাইস্যাকারাইড – ভাত, চিনি, গুড়, মিছরি, গাজর, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
  3. পলিস্যাকারাইড – চাল, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি।

প্রাণীজ উৎস –

পাঁঠার যকৃতে উপস্থিত প্রাণীজ গ্লাইকোজেন ও দুধ ইত্যাদি।

কার্বোহাইড্রেটের উৎস
কার্বোহাইড্রেটের উৎস

জীবদেহে কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব –

  1. শক্তির উৎস – মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। শর্করা জাতীয় খাবার থেকেই এই শক্তির বেশির ভাগ অংশটাই আসে। প্রতি গ্রাম শর্করা জাতীয় খাবার জারণের মাধ্যমে 4.0 kcal তাপশক্তি মুক্ত হয়, যা দেহের বিপাকীয় কাজে লাগে।
  2. প্রোটিনের চাহিদা পূরণ – যথেষ্ট পরিমাণ শর্করাজাতীয় খাবার খেলে প্রোটিনের পুষ্টিগত চাহিদা পূরণ করা যায়। তাই শর্করা জাতীয় খাদ্যকে ‘প্রোটিন বাঁচোয়া খাদ্য’ বলে।
  3. কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ – বিভিন্ন শাকসবজিতে সেলুলোজ জাতীয় যে শর্করা থাকে, তা আমাদের পৌষ্টিকনালিতে পাচিত হয় না। সেলুলোজ জাতীয় খাবারের এই অপাচ্য অংশকে রাফেজ বলে, যা অন্ত্রের বিচলন বাড়িয়ে মলত্যাগে সাহায্য করে।
  4. ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় – শর্করা জাতীয় খাদ্য যকৃৎ ও পেশিকোশে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চিত থাকে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে এই গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তশর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  5. মস্তিষ্কের বিকাশ – গ্যালাকটোজ নামক সরল শর্করা শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  6. কিটোসিস রোধ – কার্বোহাইড্রেট ফ্যাটের ভাঙন রোধ করে, ফলে দেহে কিটোন বডির উৎপাদন হ্রাস পায় ও কিটোসিস প্রতিরোধ হয়।

অ্যামিনো অ্যাসিড কাকে বলে? অ্যামিনো অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ করো।

অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid) – কমপক্ষে একটি মুক্ত অ্যামিনো (-NH2) মূলক ও একটি কার্বক্সিল (-COOH) মূলক নিয়ে গঠিত যে জৈব অ্যাসিড প্রোটিন অণুর গঠনগত এককরূপে ব্যবহৃত হয়, তাকে অ্যামিনো অ্যাসিড বলে।

α - অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন

অ্যামিনো অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ –

অ্যামিনো অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ

অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন –

  1. অ্যামিনো অ্যাসিড অতিক্ষুদ্র জৈব অণু।
  2. এটি 50-55% কার্বন, 7% হাইড্রোজেন, 13-17% নাইট্রোজেন, 21-24% অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে 0-3% সালফারও উপস্থিত থাকে।
  3. অ্যামিনো অ্যাসিড কার্বক্সিলিক অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন হয়, যার H অণুটি –NH2 মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
  4. অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনে কমপক্ষে একটি কার্বক্সিল মূলক (-COOH) ও একটি অ্যামিনো মূলক (-NH2) উপস্থিত থাকে।
  5. অ্যামিনো অ্যাসিডের NH2 মূলকটি α-কার্বনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। (α-কার্বন হল যেটি –COOH -এর পরে উপস্থিত থাকে)।

অ্যামিনো অ্যাসিডকে অ্যাম্ফোটেরিক (amphoteric) বলে কেন?

অ্যামিনো অ্যাসিডকে অ্যাম্ফোটেরিক (amphoteric) বলে। কারণ এর মধ্যে অ্যাসিড (-COOH) ও ক্ষার (-NH2) উভয় ধর্মই বর্তমান।

অ্যামিনো অ্যাসিডের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি লেখো।

অ্যামিনো অ্যাসিডের কাজ –

  1. প্রোটিন সংশ্লেষ – অ্যামিনো অ্যাসিড হল প্রোটিনের সাংগঠনিক একক (building block)।
  2. অন্যান্য যৌগ সংশ্লেষ – অ্যামিনো অ্যাসিড জৈবিকভাবে অত্যন্ত ক্রিয়াশীল জৈব অণু। যেমন –
    • থাইরক্সিন ও অ্যাড্রিনালিন হরমোন এবং দেহত্বক রঞ্জক মেলানিন সংশ্লেষে টাইরোসিন মুখ্য উপাদানরূপে ব্যবহৃত হয়।
    • হিমোগ্লোবিনের ‘হিম’ রঞ্জক সংশ্লেষে গ্লাইসিন ব্যবহৃত হয়।
    • নিকোটিনামাইড, ভিটামিন ও উদ্ভিদদেহে ইন্ডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড সংশ্লেষে ট্রিপটোফ্যান প্রধান উপাদানরূপে ব্যবহৃত হয়।
  3. গ্লুকোজ উৎপাদন – অ্যামিনো গ্রুপের অপসারণ ঘটিয়ে অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয়।
  4. নাইট্রোজেন সঞ্চয় – অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন অ্যামাইড (Amides) নাইট্রোজেন সঞ্চয়ে সাহায্য করে।
  5. ইউরিয়া সংশ্লেষ – অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে যকৃতে সিট্রলিন, আরজিনিন এবং অরনিথিন অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে ইউরিয়া সংশ্লেষিত হয়।
  6. হিস্টামিন উৎপাদন – হিস্টিডিন থেকে উৎপন্ন হিস্টামিন অ্যালার্জির সময় রক্তবাহ প্রসারক (Vasodialator) রূপে কাজ করে।
  7. কেরাটিন উৎপাদন – চুল, নখে উপস্থিত কেরাটিন প্রোটিন মিথিওনিন থেকে সংশ্লেষিত হয়।
  8. ওষুধরূপে ব্যবহার – অ্যাসপারটেইন (Aspartaine) হল সিন্থেটিক ডাইপেপটাইড। এটি ডায়াবেটিস রোগীরা গ্রহণ করে। অ্যাসপারটেইনের মিষ্টতা সুক্রোজের থেকে 200 গুণ বেশি হয়।

প্রোটিন কাকে বলে? প্রোটিনের গঠনগত বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

প্রোটিন (Protein) – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও নাইট্রোজেন (N) -এর সমন্বয়ে গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিডের মনোমার (Monomers) পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে যে দীর্ঘ জটিল জৈব যৌগ সৃষ্টি করে, তাকে প্রোটিন (Protein; গ্রিক, proteios = primary or first or foremost i.e. compound of primary importance) বলে।

প্রোটিনের রাসায়নিক গঠন –

  1. প্রোটিন জীবদেহের গঠনে অংশগ্রহণকারী অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ বৃহৎ জৈব অণু।
  2. প্রোটিন নাইট্রোজেন ঘটিত জৈব যৌগ। প্রোটিনে নাইট্রোজেন ছাড়াও কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং কখনো-কখনো সালফার ও ফসফরাস থাকে।
  3. প্রোটিন প্রকৃত অর্থে অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার।
  4. প্রতিটি প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিডের সজ্জাবিন্যাস স্বতন্ত্র থাকে।
  5. 20 প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড বিভিন্ন সিকোয়েন্সে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রোটিন তৈরি করে।
  6. প্রতিটি প্রোটিন গঠনের একটি প্রান্তকে অ্যামিনো টার্মিনাল (মুক্ত -NH2 গ্রুপযুক্ত) এবং অপর প্রান্তটিকে কার্বক্সি টার্মিনাল (মুক্ত -COOH গ্রুপযুক্ত) বলে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের মূল সংকেত RCH·NH2 COOH। কয়েকটি অ্যামিনো অ্যাসিড পরস্পরের সঙ্গে পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরি হয়।

প্রোটিনের রাসায়নিক গঠন

অ্যামিনো অ্যাসিডের অণু পরস্পর পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে রৈখিক সজ্জায় অবস্থান করে। একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্বক্সিল গ্রুপের (–COOH) সঙ্গে অপর অ্যামিনো অ্যাসিডের অ্যামিনো গ্রুপ (–NH2) পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়। এইভাবে অ্যামিনো অ্যাসিড অণু পরপর যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড এবং অন্তিম পর্যায়ে প্রোটিন তৈরি হয়।

অ্যামিনো অ্যাসিড → পেপটাইড → পলিপেপটাইডস → পেপটোন → প্রোটিওজ → প্রোটিন

আকৃতি ও গঠন অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

আকৃতি অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস –

আকৃতি অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস

গঠন অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস –

গঠন অনুযায়ী প্রোটিনের শ্রেণিবিন্যাস

প্রোটিনের গঠনগত পর্যায় সম্পর্কে লেখো।

প্রোটিনের গঠনগত পর্যায় – প্রায় সব রকমের প্রোটিনের তিনটি গঠনগত পর্যায় লক্ষ করা যায়। আর কিছু ক্ষেত্রে চতুর্থ গঠন দেখা যায়। প্রোটিনের গঠনগত পর্যায়গুলি হল –

  1. প্রোটিনের প্রাথমিক গঠন (Primary structure) – পলিপেপটাইড গঠনকে প্রোটিনের প্রাথমিক গঠন বলে। অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি পরস্পর পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে রৈখিক সজ্জায় অবস্থান করে।
  2. প্রোটিনের গৌণ গঠন (Secondary structure) – প্রাথমিক গঠনের পরবর্তী প্রোটিনের গঠন পর্যায় শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ে। এই দ্বিতীয় পর্যায়ে সরল অ্যামিনো অ্যাসিড শৃঙ্খল হেলিক্স অথবা জিগ-জ্যাগ সজ্জায় β-প্লিটেড শিট গঠন করে। এই গঠনকে বলা হয় গৌণ বা সেকেন্ডারি প্রোটিন গঠন।
  3. প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন (Tertiary or three dimen sional structure) – গৌণ আকার প্রাপ্ত প্রোটিন ভাঁজপ্রাপ্ত হয়ে ত্রিমাত্রিক আকার ধারণ করে। এই আকার সৃষ্টিতে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলই প্রধান কাজ করে।
  4. প্রোটিনের চতুর্মাত্রিক গঠন (Quarternary structure) – অনেক প্রোটিন দুই বা ততোধিক পলিপেপটাইড শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত হয়। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি পলিপেপটাইড ত্রিমাত্রিক গঠনে থাকে এবং প্রতিটি পলিপেপটাইড সমগ্র প্রোটিনের উপএকক হিসেবে পরিগণিত হয়। উপএককগুলি পরস্পরের সঙ্গে হাইড্রোফোবিক মিথোস্ক্রিয়া এবং হাইড্রোজেন ও আয়োডিন বন্ড দ্বারা যুক্ত থেকে প্রোটিনের চতুর্মাত্রিক গঠন তৈরি করে। যেমন – হিমোগ্লোবিনের গঠন।
প্রোটিনের গঠনগত পর্যায়

প্রোটিনের উৎসগুলি লেখো। জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্বগুলি আলোচনা করো।

প্রোটিনের উৎস –

প্রাণীজ প্রোটিন – মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা ইত্যাদি।

প্রাণীজ প্রোটিন

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন – বিভিন্ন প্রকার ডাল, বিন, সয়াবিন, মটরশুঁটি, গম ইত্যাদি।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন

জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্বসমূহ –

  1. তাপশক্তি উৎপাদন – এক গ্রাম প্রোটিনজাতীয় খাবার জারণের মাধ্যমে 4.1 kcal তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। মানবদেহে মোট শক্তি চাহিদার প্রায় 10-15 ভাগ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করে।
  2. দেহ গঠন – জীবদেহ গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। দেহের অস্থি, তরুণাস্থি এবং পশুপাখির পালক, রোম, শিং প্রভৃতি প্রোটিন দ্বারা নির্মিত হয়।
  3. দেহ সংরক্ষণ – দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিতেও প্রোটিন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ, যেমন – গমন, শ্বসন, রেচন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য যে দেহের ক্ষয়ক্ষতি হয় তা পূরণের জন্য প্রোটিনের দরকার হয়।
  4. উৎসেচক উৎপাদন – পেপসিন, ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ প্রভৃতি উৎসেচক উৎপাদনে প্রোটিন সাহায্য করে।
  5. হরমোন সংশ্লেষ – ইনসুলিন, সোমাটোট্রফিক হরমোন (STH) ইত্যাদি হরমোন সংশ্লেষণের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।
  6. অ্যান্টিবডি উৎপাদন – অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে প্রোটিন জীবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, একে অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি বলে।
  7. হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষ – হিমোগ্লোবিন হল একরকমের যুগ্ম প্রোটিন। এটি গ্লোবিন নামক প্রোটিন এবং হিম নামক রঞ্জকের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই হিমোগ্লোবিন মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহে রক্তের সঙ্গে মিলে O2 এবং CO2 পরিবহণ করে।

স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট বা লিপিড কাকে বলে? গঠন অনুযায়ী লিপিডের শ্রেণিবিভাগ করো।

লিপিড (Lipid; Lipos = fat) – কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) সমন্বয়ে গঠিত ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের (অ্যালকোহল) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে এস্টার সৃষ্টি হয়, তাকে লিপিড বলে।

লিপিডের শ্রেণিবিভাগ –

লিপিডের শ্রেণিবিভাগ

ফ্যাট বা স্নেহপদার্থের রাসায়নিক গঠন বর্ণনা করো।

ফ্যাট বা স্নেহপদার্থের রাসায়নিক গঠন –

  1. স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট বা লিপিড ফ্যাটি অ্যাসিড (একপ্রকার জৈব অ্যাসিড) ও গ্লিসারল (অ্যালকোহল) -এর বিক্রিয়ালব্ধ যৌগ বিশেষ।
  2. স্নেহপদার্থের গঠনগত উপাদানগুলি হল কার্বন, হাইড্রোজেন, ও অক্সিজেন। স্নেহপদার্থের মধ্যে হাইড্রোজেনের তুলনায় অক্সিজেন অনেক কম থাকে। এছাড়াও কয়েক প্রকার স্নেহপদার্থে আবার ফসফরাস, সালফার ও নাইট্রোজেন থাকে।
  3. প্রকৃতপক্ষে স্নেহপদার্থ হল তিন অণু ফ্যাটি অ্যাসিড ও এক অণু গ্লিসারলের এস্টার বিশেষ।
  4. গ্লিসারল 3টি হাইড্রক্সিল গ্রুপ (-OH) যুক্ত অ্যালকোহল, যা একটি, বা দুটি বা তিনটি ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে যথাক্রমে মনোগ্লিসারাইড, ডাইগ্লিসারাইড ও ট্রাইগ্লিসারাইড গঠন করে।
  5. ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল -এর মাঝে এস্টার বন্ধনী গঠিত হয়।

ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে? রাসায়নিক গঠনের ভিত্তিতে ফ্যাটি অ্যাসিডের শ্রেণিবিভাগ করো।

ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty Acid) – যে-সমস্ত জৈব অ্যাসিড জলে অদ্রবণীয়, কিন্তু ফ্যাট দ্রাবকে, যেমন – ফুটন্ত অ্যালকোহল, ইথার, ক্লোরোফর্ম, বেঞ্জিন প্রভৃতিতে দ্রবণীয় এবং হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খলের শেষে একটি কার্বক্সিল মূলক (-COOH) যুক্ত হয়, তাদের ফ্যাটি অ্যাসিড বলে।

ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty Acid)

ফ্যাটজাতীয় খাদ্যের উৎসগুলি লেখো। জীবদেহে ফ্যাটের গুরুত্বগুলি আলোচনা করো।

ফ্যাটের উৎস –

  1. প্রাণীজ ফ্যাট – ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম, মাংস ইত্যাদি।
  2. উদ্ভিজ্জ ফ্যাট – সরষের তেল, নারকেল, রেড়ি, চিনাবাদাম ইত্যাদি।
ফ্যাটের উৎস
ফ্যাটের উৎস

জীবদেহে ফ্যাটের গুরুত্ব –

  1. শক্তির উৎস – ফ্যাট উচ্চশক্তির উৎসরূপে কাজ করে। প্রতি গ্রাম ফ্যাট জারণে 9.3 kcal শক্তি নির্গত হয়।
  2. খাদ্যের সঞ্চয় ভাণ্ডার – উদ্ভিদদেহে তৈলবীজ, বাদাম এবং প্রাণীদেহে মেদকলা বা অ্যাডিপোজ কলায় ফ্যাট ভবিষ্যতে শক্তির উৎসরূপে সঞ্চিত থাকে।
  3. তাপ নিরোধক – ফ্যাট দেহে তাপ সংরক্ষণে সাহায্য করে।
  4. দ্রাবক – ভিটামিন A, D, E ও K -এর দ্রাবকরূপে কাজ করে।
  5. সাংগঠনিক উপাদান – ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড, স্টেরল প্রভৃতি কোশপর্দার সাংগঠনিক উপাদানরূপে কাজ করে।
  6. হরমোন ও ভিটামিন সংশ্লেষ – অ্যাড্রিনোকর্টিকয়েড, সেক্স হরমোন, ভিটামিন D, এবং ফোলিক অ্যাসিড কোলেস্টেরল থেকে সংশ্লেষিত হয়।

যৌগিক লিপিড কাকে বলে? তিন প্রকার যৌগিক লিপিডের উদাহরণ, উৎস ও কাজ ছকের সাহায্যে লেখো।

যৌগিক লিপিড (Conjugated Lipid) – যে-সমস্ত লিপিডের গঠনে ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল এবং অন্য একটি পদার্থ (যেমন – ফসফেট গ্রুপ, কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন অণু) উপস্থিত থাকে, তাদের যৌগিক বা সংযুক্ত লিপিড বলে।

বিভিন্ন প্রকার যৌগিক লিপিড সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা –

যৌগিক লিপিডউৎসকাজ
ফসফোলিপিড (ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল + নাইট্রোজেনবেস + ফসফেট গ্রুপ)1. লেসিথিন (স্নায়ুকলা)
2. কেফালিন
3. প্লাজমালোজেনস
4. স্ফিংগোমায়োলিন
1. সমস্ত সজীব পর্দার কাঠামো তৈরি করে।
 2. কোশের ভিতরে ও বাইরে পদার্থের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে।
 3. লেসিথিন কোশপর্দার ভেদ্যতা, কোশের অভিস্রবণ চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
 4. কেফালিন রক্ততঞ্চনে সাহায্য করে।
গ্লাইকোলিপিড (ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল + শর্করা)মস্তিষ্কের শ্বেতপদার্থ, স্নায়ুতন্তুর মায়েলিন সিদ্‌ এবং ক্লোরোপ্লাস্টের পর্দাস্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহণে সাহায্য করে।
লাইপোপ্রোটিন (লিপিড + প্রোটিন)সজীব পর্দা, দুধ এবং ডিমের কুসুম1. কোশপর্দার গঠনে সাহায্য করে।
 2. উদ্ভিদদেহে কিউটিকলে প্রাপ্ত কিউটিন ও কর্ক, কোশের প্রাচীরে অবস্থিত সুবেরিন জল নিরোধকরূপে কাজ করে।

লিপিডোসিস (Lipidosis) কাকে বলে?

ফ্যাট বিপাকের ত্রুটিজনিত জন্মগত বা অর্জিত অসুখকে লিপিডোসিস (Lipidosis) বলে।

নিউক্লিওটাইড কাকে বলে? এর গঠনগত বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

নিউক্লিওটাইড (Nucleotide) – নাইট্রোজেনযুক্ত বেস, পেন্টোজ শর্করা ও ফসফেটের সমন্বয়ে গঠিত যে জটিল জৈবযৌগ নিউক্লিক অ্যাসিডের সাংগঠনিক এককরূপে কাজ করে ও কোশের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিওটাইড বলে।

নিউক্লিওটাইডের গঠনগত বৈশিষ্ট্য –

  1. নিউক্লিওটাইডে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N) এবং ফসফরাস (P) উপস্থিত থাকে।
  2. প্রতিটি নিউক্লিওটাইডে একটি বলয়াকার নাইট্রোজেনযুক্ত বেস, একটি পেন্টোজ শর্করা ও 1-3টি ফসফেট গ্রুপ বর্তমান থাকে।
  3. কার্বন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত নাইট্রোজেনযুক্ত বেস একপ্রকার হেটারোসাইক্লিক অ্যারোমেটিক বলয়। এটি দু-প্রকার। যথা – পিউরিন (2টি বলয়যুক্ত) ও পিরিমিডিন (1টি বলয়যুক্ত)।
  4. শর্করা দুপ্রকার। যথা –
    • রাইবোজ।
    • ডিঅক্সিরাইবোজ।
  5. পেন্টোজ শর্করার 5 নং কার্বন স্থানে ফসফেট গ্রুপ যুক্ত থাকে এবং 1 নং কার্বনস্থানে পিউরিন বা পিরিমিডিন যুক্ত থাকে।

নিউক্লিক অ্যাসিড কাকে বলে? নিউক্লিক অ্যাসিডের প্রকারভেদগুলি লেখো।

নিউক্লিক অ্যাসিড (Nucleic Acid) – নিউক্লিওটাইডের সমন্বয়ে গঠিত যে বৃহৎ জৈব অণু জীবদেহের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় ও জৈবনিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বংশপরম্পরায় সঞ্চারণ ঘটায়, তাকে নিউক্লিক অ্যাসিড বলে।

নিউক্লিক অ্যাসিডের প্রকারভেদ –

নিউক্লিক অ্যাসিডের প্রকারভেদ

নিউক্লিওটাইডের কাজগুলি লেখো।

নিউক্লিওটাইডের কাজ –

  1. নিউক্লিক অ্যাসিডের সাংগঠনিক একক – পলিমেরাইজেশনের মাধ্যমে নিউক্লিওটাইডগুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিউক্লিক অ্যাসিড গঠন করে।
  2. শক্তিবাহক গঠন – উচ্চ নিউক্লিওটাইড (উচ্চশক্তি সমন্বিত পিউরিন ও পিরিমিডিন নিউক্লিওটাইড) যেমন – ADP ও ATP, এদের ফসফেট বন্ধনীতে শক্তি সঞ্চয় করে রাখে।
  3. নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিক পদার্থ – কিছু নিউক্লিওটাইড, যেমন – সাইক্লিক AMP(cAMP) বিভিন্ন হরমোন নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিক উপাদানরূপে ব্যবহৃত হয়।
  4. কো-এনজাইম সংশ্লেষ – নিউক্লিওটাইড অন্যান্য বিভিন্ন অণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কো-এনজাইম সংশ্লেষ করে। যেমন – NAD, NADP, FMN এবং FAD।
  5. ফসফোলিপিড সংশ্লেষ – CDP, CTP প্রভৃতি ফসফোলিপিড সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা DNA কাকে বলে? এর ভৌত গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করো।

ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Deoxyribonucleic Acid; DNA) – নাইট্রোজেন বেস, ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা এবং ফসফোরিক অ্যাসিড সহযোগে গঠিত যে দীর্ঘ জৈব অণু স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম এবং জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক, তাকে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বলে।

বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্রিকের (1953) DNA -এর ডবল হেলিক্স মডেলের গঠন হল নিম্নরূপ –

  1. DNA দুটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলযুক্ত একটি বৃহৎ জৈবযৌগ।
  2. নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল দুটি পরস্পর পাশাপাশি অবস্থান করে এবং তন্তুদুটি প্যাঁচানো সিঁড়ির আকারে একটি কাল্পনিক অক্ষ বরাবর ডানবর্তী পাকে বিন্যস্ত থাকে।
  3. প্রতিটি তন্তুর প্রধান অক্ষটি ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা ও ফসফেট নির্মিত, নাইট্রোজেন বেস শর্করার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভিতরের দিকে অবস্থান করে।
  4. দ্বিতন্ত্রী DNA -এর তন্তু দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী অর্থাৎ, একটি তন্তুর অভিমুখ 5′-3′ হলে অপরটির অভিমুখ 3′-5′ হবে।
  5. তন্তু দুটির মাঝের দূরত্ব হয় 20Å।
  6. প্যাঁচানো দ্বিতন্ত্রী DNA -এর একটি সম্পূর্ণ পাকের দৈর্ঘ্য 34Å।
  7. এক একটি সম্পূর্ণ পাকে 10 জোড়া করে নিওক্লিওটাইড সমান দূরত্বে অবস্থান করে। সেই জন্য প্রতি জোড়া নিউক্লিওটাইডের মধ্যেকার দূরত্ব 3.4Å হয়।
  8. বহু নিউক্লিওটাইড তন্তু দুটি পরস্পরকে পাক খাওয়ার সময় একটি সংকীর্ণ খাঁজ (Minor groove) এবং একটি প্রশস্ত খাঁজ (Major groove) গঠন করে।
  9. প্রতিটি তন্তুর নাইট্রোজেন বেস অপর তন্তুর নাইট্রোজেন বেসের সঙ্গে হাইড্রোজেন (H) বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে।
  10. H-বন্ধনী একটি নির্দিষ্ট নীতি অনুযায়ী গঠিত হয় – সর্বদা অ্যাডেনিন (A) -এর সঙ্গে থাইমিন (T) এবং সাইটোসিনের (C) সঙ্গে গুয়ানিন (G) যুক্ত থাকে।
  11. অ্যাডেনিন (A) ও থাইমিনের (T) মধ্যে দুটি এবং সাইটোসিন ও (C) গুয়ানিনের (G) মধ্যে তিনটি করে H-বন্ধনী গঠিত হয়।
ওয়াটসন প্রবর্তিত DNAদ্বিতন্ত্রী মডেল

DNA -এর কাজ –

  1. বংশগতির বাহক – DNA -কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। জীবের সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি DNA অণুর মধ্যে থাকে এবং DNA অণুর মাধ্যমেই বৈশিষ্ট্যগুলি বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।
  2. কোশীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ – কোশের যাবতীয় জৈবিক ক্রিয়াগুলি DNA প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
  3. RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষ – ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে DNA থেকে RNA এবং ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে RNA থেকে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
  4. DNA সংশ্লেষ – রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে DNA নিজের প্রতিলিপি গঠন করে। রেপ্লিকেশন, ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশনকে একত্রে সেন্ট্রাল ডগমা (Central Dogma) বলা হয়।
  5. প্রকরণ ও প্রজাতি সৃষ্টি – মিউটেশন বা পরিব্যক্তির মাধ্যমে DNA অণুর গঠন ও কাজের পরিবর্তন ঘটে যা প্রকরণ এবং নতুন প্রজাতি সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড কাকে বলে? এর প্রকারভেদ ও কাজগুলি লেখো।

রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Ribonucleic Acid) – যে একতন্ত্রী পলিরাইবোনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল কোশে প্রোটিন সংশ্লেষে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এবং কিছু কিছু ভাইরাসে বংশগত পদার্থরূপে কাজ করে, তাকে রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (RNA) বলে।

RNA -এর প্রকারভেদ –

RNA -এর প্রকারভেদ

RNA -এর কাজ –

  1. জেনেটিক RNA ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারণে সাহায্য করে। যেমন – ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিয়ো, টোব্যাকো মোজেইক ভাইরাসের জেনেটিক বস্তু হল RNA।
  2. নন-জেনেটিক RNA যেমন – mRNA, rRNA ও tRNA কোশের প্রোটিন সংশ্লেষে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

ATP অণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা দাও। কোশের এনার্জি কারেন্সিরূপে ATP -এর ভূমিকা আলোচনা করো।

ATP অণুর গঠন –

  1. অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) একটি নাইট্রোজেন বেস (অ্যাডিনিন), একটি পেন্টোজ শর্করা বা রাইবোজ শর্করা (C5H10O5) ও তিনটি ফসফেট গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত জৈব অণু।
  2. দুটি অতিরিক্ত ফসফেট অণু অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP) অণুর সঙ্গে উচ্চ শক্তি বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয় এবং ATP গঠন করে। এই বন্ধনীকে (~) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করা হয়।
  3. একটি ফসফেট গ্রুপে থাকে এক অণু ফসফরাস (1P) ও দুই অণু অক্সিজেন (2O2)।
ATP অণুর গঠন

কোশের এনার্জি কারেন্সিরূপে ATP -এর ভূমিকা –

  1. ATP অণু আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী Lipmann (1929)। তিনি প্রমাণ করেন, ATP কোশের মধ্যে উপস্থিত থাকে এবং কোশের অভ্যন্তরে সংঘটিত সমস্ত জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়ায় ATP শক্তি সরবরাহ করে।
  2. প্রতিটি কোশ নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী ATP সংশ্লেষ করে এবং ATP একটি কোশ থেকে অন্য কোশে স্থানান্তরিত হয় না।
  3. বিজ্ঞানী Lipmann (1941) প্রমাণ করেন যে, অপচিতি বিপাকে যে শক্তি নির্গত হয় তা উপচিতি বিপাকে কাজে লাগে। অর্থাৎ, ADP + ফসফেট + শক্তি → ATP (শক্তির আবদ্ধকরণ) এবং ATP → ADP + ফসফেট + শক্তি (শক্তির নির্গমন)। একে ATP চক্র বলে।
  4. ATP ভাঙনের ফলে নির্গত শক্তি কোশে সংশ্লেষমূলক কাজে ব্যবহৃত হয় বলে একে জৈবিকভাবে ব্যবহৃত শক্তি (biologically useful energy) বলা হয়।
  5. কোশের অভ্যন্তরে ATP উচ্চশক্তি বহন করে এবং যাবতীয় শক্তিনির্ভর বিপাকীয় কাজে শক্তি জোগান দেয় বলে ATP -কে এনার্জি কারেন্সি (Energy currency) বলা হয়।
কোশের এনার্জি কারেনিরূপে ATP

স্নেহপদার্থে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলির (Vitamins) নাম, উৎস, কাজ সারণি আকারে লেখো।

অনুরূপ প্রশ্ন, মানবদেহে ভিটামিন A ও D -এর ভূমিকা উল্লেখ করো।

স্নেহপদার্থে দ্রবীভূত ভিটামিনউৎসকাজ
ভিটামিন A বা রেটিনল (Retinol)সবুজ শাকসবজি (পালংশাক, মটরশুঁটি প্রভৃতি), পাকা আম, কড, হ্যালিবাট মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল, ডিম, মাখন প্রভৃতি।1. সামগ্রিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
2. চোখ, চামড়া, হাড়, দাঁত ও খাদ্যনালির গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
3. চোখের রেটিনায় উপস্থিত রড কোশ ও কোন কোশের রঞ্জক (রোডোপসিন এবং আয়োডোপসিন) সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
4. রাতের অল্প আলোয় দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
5. রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
6. আবরণী কলার সজীবতা ও স্বাভাবিক সক্রিয়তা বজায় রাখে।
ভিটামিন D বা ক্যালসিফেরল (Calciferol) বা অ্যান্টিরিকেটিসবাঁধাকপি (সামান্য পরিমাণ), কড, হ্যালিবাট মাছের তেল, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম প্রভৃতি।1. হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখে।
2. ধনুষ্টংকার রোগ প্রতিরোধ করে।
3. অন্ত্র থেকে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করে।
ভিটামিন E বা টোকোফেরল (Tocopherol)অঙ্কুরিত গম বীজের তেল, অঙ্কুরিত ছোলা, সয়াবিন, লেটুস শাক, পালংশাক, ডিম, দুধ, মাংস।1. স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা বজায় রাখে ও বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
2. মাংসপেশির দুর্বলতা কাটাতে ও স্বাভাবিক সক্রিয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
3. লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
4. ত্বকের ক্ষত ও প্রদাহ নিরাময়ে সাহায্য করে।
ভিটামিন K বা ফাইলোকুইননবাঁধাকপি, পালংশাক, টম্যাটো, মুলো, মাছ, ডিম, দুধ।1. পিত্ত নিঃসরণে সাহায্য করে।
2. কেটে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে অর্থাৎ, ক্ষতস্থানে রক্ততঞ্চনে সাহায্য করে।
স্নেহপদার্থে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলির (Vitamins) নাম, উৎস, কাজের সারণি

দুটি জলে দ্রাব্য ভিটামিনের নাম, উৎস, কাজ লেখো।

জলে দ্রাব্য ভিটামিনউৎসকাজ
ভিটামিন B কমপ্লেক্সঢেঁকিছাঁটা চাল, সবুজ শাকসবজি, বাঁধাকপি, পালংশাক, অঙ্কুরিত ছোলা, লেটুস শাক, গাজর, টম্যাটো, মটরশুঁটি, ফুলকপি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, যকৃৎ ইত্যাদি।1. দেহের সার্বিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
2. হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্মে সাহায্য করে।
3. পেলেগ্রা, অ্যানিমিয়া, বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধ করে।
4. রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে।
5. ত্বক ও মুখের শ্লেষ্মাঝিল্লি গঠনে ও কাজে সাহায্য করে।
6. লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদনে সাহায্য করে।
7. ক্ষুধা বৃদ্ধি ও পরিপাকে সাহায্য করে।
ভিটামিন Cআমলকী, পেয়ারা, পাকা টম্যাটো, লেবু, কাঁচালংকা, অঙ্কুরিত বীজ।1. খাদ্যনালি থেকে লোহা বিশোষণে সাহায্য করে।
2. বিভিন্ন কলার বৃদ্ধি ও গঠনে সাহায্য করে।
3. ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।
4. ত্বক, অস্থি ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ভিটামিন ও কমপ্লেক্সের মধ্যে অনেক ভিটামিন অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন – ভিটামিন B1 (থিয়ামিন), ভিটামিন B2 (রাইবোফ্ল্যাভিন), ভিটামিন B3 (নিয়াসিন), ভিটামিন B4 (কোলিন), ভিটামিন B5 (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড), ভিটামিন B12 (সায়ানোকোবালামিন), ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)।

জলে দ্রাব্য ভিটামিন

ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য –

  1. সংশ্লেষ – কয়েকটি বিশেষ ভিটামিন ছাড়া প্রায় সব প্রকার ভিটামিন উদ্ভিদদেহে সংশ্লেষিত হয়। যেমন – মানবদেহে ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন A এবং সূর্যালোকের প্রভাবে ত্বকে ভিটামিন D উৎপন্ন হয়।
  2. দ্রাব্যতা – ভিটামিন জলে (ভিটামিন B Complex, C, P) এবং ফ্যাটে (ভিটামিন A, D, E, K) দ্রাব্য।
  3. সঞ্চয় – ভিটামিন খুব সামান্য পরিমাণে দেহে সঞ্চিত হয়। যেমন – ত্বকের নীচে ও যকৃতে স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং যকৃতে ভিটামিন-C সঞ্চিত হয়।
  4. ক্রিয়া – ভিটামিন খুব স্বল্প ঘনত্বে ক্রিয়াশীল।
  5. স্থিতিশীলতা – ভিটামিন পাচন ক্রিয়ায় নষ্ট হয় না।
  6. কার্যকারীতা – ভিটামিন মূলত সহ উৎসেচক বা কো-এনজাইম রূপে কাজ করে।
  7. তাপসহনশীলতা – ভিটামিন-C ছাড়া অন্য সকল ভিটামিন তাপসহনশীল।

ভিটামিনের অভাবজনিত লক্ষণগুলি লেখো।

ভিটামিন A -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. রাতে দেখতে কষ্ট হয় বা রাতকানা রোগ হয়।
  2. দীর্ঘকালীন অভাব ঘটলে চোখের মণির ওপর সাদা আস্তরণ বা কেরাটোম্যালেশিয়া কিংবা চোখের মণি অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে ভাব অর্থাৎ, জেরোপথ্যালমিয়া হয়।
  3. ফ্রিনোডার্মা বা ত্বক ব্যাঙের মতো খসখসে ও গুটিযুক্ত হয়।
  4. আবরণী কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও রোগ সংক্রমণ বেড়ে যায়।
  5. অস্থি ও দন্ত গঠনে অস্বাভাবিকতা ও বৃক্কীয় পাথর সৃষ্টি হয়।
জেরোপথ্যালমিয়া রোগ ও আক্রান্ত রিকেট রোগে আক্রান্ত
জেরোপথ্যালমিয়া রোগ ও আক্রান্ত রিকেট রোগে আক্রান্ত

ভিটামিন D -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. শিশুদের রিকেট।
  2. বয়স্কদের অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওম্যালেশিয়া হয়।
  3. পেশির টান কমে যায় ও পেশির খিঁচুনি দেখা দেয়, একে টিট্যানি বলে।
  4. এ ছাড়া মেরুদণ্ডের একপাশে বেঁকে যাওয়া বা স্কোলিওসিস এবং দু-পায়ের হাঁটু কাছাকাছি আসা বা নক্-নি প্রভৃতি রোগ দেখা যায়।

ভিটামিন E -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।
  2. লোহিত রক্তকণিকার ভঙ্গুরতা বৃদ্ধি পায় ও রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
  3. পেশির গঠন ও কার্যকারিতায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় এবং পেশির অবক্ষয় ঘটে।

ভিটামিন K -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. ক্ষতস্থানে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না।
  2. রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

ভিটামিন B কমপ্লেক্স -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. সাধারণত ভিটামিন B1 -এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
  2. পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া হয় ভিটামিন B12 -এর অভাবে।
  3. ভিটামিন B2 -এর অভাবে স্টোমাটাইটিস ও গ্লসাইটিস হয়।
  4. এ ছাড়া ক্ষুধামান্দ্য, অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ ইত্যাদি রোগ দেখা যায়।
বেরিবেরি রোগে ও আক্রান্ত স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত
বেরিবেরি রোগে ও আক্রান্ত স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত

ভিটামিন C -এর অভাবজনিত লক্ষণ –

  1. স্কার্ভি রোগ হয়।
  2. স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।
  3. রক্তাল্পতা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়।

ছকের সাহায্যে মানবদেহের বিভিন্ন খনিজ মৌলের অর্থাৎ, ম্যাক্রো ও মাইক্রো এলিমেন্টের উৎস ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো এবং অভাবজনিত লক্ষণগুলি নির্দেশ করো।

উপাদানের নামখাদ্য উৎসপ্রাণীদেহে গুরুত্বঅভাবজনিত লক্ষণ
নাইট্রোজেন (N)বিভিন্ন প্রকার ডাল, বিন, সয়াবিন, যকৃৎ, পেঁপে, দুধ, ডিম, মাছ, মাংস।1. কোশের উপাদান গঠনে সাহায্য করে।
2. নিউক্লিক অ্যাসিড, হরমোন ও উৎসেচক তৈরি করতে অংশগ্রহণ করে।
নিউক্লিক অ্যাসিড ও হরমোন গঠিত হয় না।
সালফার (S)ডিম, পেঁয়াজ, ফুলকপি, ব্রকলি।1. চুল ও নখ ও তরুণাস্থি গঠিত হয়।
2. রক্ততঞ্চন প্রতিরোধ করে।
3. জৈব জারণে সাহায্য করে।
চুল ও নখ গঠন বিলম্বিত হয়।
ফসফরাস (P)দুধ, চিজ, গাজর, গম, ভুট্টা।1. অস্থি ও দাঁত গঠন করে।
2. নিউক্লিওপ্রোটিন উৎপাদন করে।
3. ফসফোলিপিড গঠন করে।
অস্থি ও দাঁত গঠন বিলম্বিত হয়।
ক্যালশিয়াম (Ca)গম, ভুট্টা, গাজর, দুধ, চিজ।1. অস্থি ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।
2. হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনে সহায়তা করে।
3. স্নায়ুকোশ, পেশিকোশ গঠন করে।
ছোটোদের রিকেট ও বড়োদের অস্টিওম্যালেশিয়া হয়।
ম্যাগনেশিয়াম (Mg)শাকসবজি, দানাশস্য, বাদাম, সয়াবিন, মটর।স্নায়ুকোশ, পেশিকোশ গঠন করে।স্নায়ুকোশ ও পেশিকোশ গঠিত হয় না।
পটাশিয়াম (K)দানাশস্য, আলু, পেঁপে, গাজর, দুধ, ডিম।1. CO2 গ্যাস পরিবহণ করে।
2. হৃৎপিন্ডের ছন্দবদ্ধতাকে বজায় রাখে।
হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়।
লোহা (Fe)জোয়ার, বাজরা, রাগি, সয়াবিন, বাদাম, যকৃৎ।1. হিমোগ্লোবিন গঠন করে।
2. নার্ভকোশের নিজল দানা গঠন করে।
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়।

মাইক্রো উপাদান (Micro Element) –

উপাদানের নামখাদ্য উৎসপ্রাণীদেহে গুরুত্বঅভাবজনিত লক্ষণ
ম্যাঙ্গানিজ (Mn)ডাল, মটরশুঁটি, সবুজ শাক-সবজি, আনারস, ডিম, যকৃৎ।1. ভ্রুণের পরিণতিতে সাহায্য করে।
2. রক্ত পরিষ্কার করে।
ভ্রুণের পরিণতি বিলম্বিত হয়।
তামা (Cu)মাশরুম, সয়াবিন, বিন, বাদাম তেল, সূর্যমুখী বীজ।1. হিমোসায়ানিন গঠনে সাহায্য করে।
2. উৎসেচক তৈরি করে।
হিমোসায়ানিনের গঠন নষ্ট হয়।
দস্তা (Zn)শাকসবজি, বাদাম, মুলো, কন্দ, বিন।1. অস্থির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
2. ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
অস্থি গঠন বিলম্বিত হয়।
মলিবডেনাম (Mo)বিন, রাজমা, ব্রকলি, বিভিন্ন প্রকার ডাল, বাদাম।1. উৎসেচককে সক্রিয় করে।
2. ইউরিক অ্যাসিড পরিবর্জন করে।
উৎসেচকের ক্রিয়া ব্যাহত হয়।
কোবাল্ট (Co)সবুজ শাকসবজি, কলা, আনারস, যকৃৎ, মাংস।1. রক্ত গঠন করে।
2. ভিটামিন B12 সংশ্লেষ করে।
ভিটামিন B12 সংশ্লেষিত হয় না।
আয়োডিন (I)নুন, সামুদ্রিক মাছ, পেঁয়াজ, পানীয় জল।1. থাইরক্সিন হরমোন গঠন করে।
2. হাইড্রোট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়।
সোডিয়াম (Na)নুন, পানীয় জল, মাখন, চিজ।1. হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন, স্নায়ুমাধ্যমে উদ্দীপনা চলাচল ও পেশির সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ করে।
2. রক্ত ও মূত্র ইত্যাদির অম্লত্ব-ক্ষারত্ব বজায় রাখে।
দেহে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য বজায় থাকে না।
মানবদেহের বিভিন্ন খনিজ মৌল

শারীরবৃত্তীয় কার্য অনুসারে খনিজ পদার্থগুলির শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।

শারীরবৃত্তীয় কার্য অনুসারে খনিজ পদার্থগুলিকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা –

  1. দেহগঠনকারী – ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।
  2. দেহতরল নিয়ন্ত্রণকারী – সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরিন আমাদের রক্ত, কলারস, মস্তিষ্ক সুষুম্নারস, সাইটোপ্লাজমের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখে।
  3. পরিবহণকারী – লোহা, তামা প্রভৃতি পদার্থ শারীরবৃত্তীয় পরিবহণে সাহায্য করে।
  4. উৎসেচক নিয়ন্ত্রণকারী – লোহা, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি মৌলগুলি নানা প্রকার উৎসেচকের ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  5. হরমোন নিয়ন্ত্রকারী – আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।
  6. ভিটামিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণকারী – কোবাল্ট ভিটামিন B12 -এর সংশ্লেষে সাহায্য করে।

মানুষের ক্ষেত্রে খনিজ পদার্থের কাজগুলি লেখো।

মানবদেহে খনিজ পদার্থের কাজগুলি হল –

  1. নানা প্রকার খনিজ পদার্থ মানবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে ও সামগ্রিকভাবে জীবদেহের সুস্থতা বজায় রাখে।
  2. মানবদেহে জলীয় সাম্যতা বজায় রাখে।
  3. খাদ্যবস্তু থেকে শক্তির নির্গমনে সাহায্য করে।
  4. বিভিন্ন খনিজ পদার্থ পেশি সঞ্চালনে সাহায্য করে।
  5. খনিজ পদার্থ মানুষের দেহে নানা হরমোন, উৎসেচক ও সহ-উৎসেচককে সক্রিয় করে।
  6. কিছু খনিজ পদার্থ স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করতে সাহায্য করে।
  7. দেহতরল, রক্ত প্রভৃতির অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ।
  8. বিভিন্ন খনিজ পদার্থ আমাদের কয়েকটি রোগ থেকে রক্ষা করে (যেমন – অ্যানিমিয়া, গলগণ্ড, রিকেট ইত্যাদি)।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘জৈব অণু এবং তাদের বৈশিষ্ট্য’ অংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-নবম শ্রেণী-জীবনবিজ্ঞান

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-সালোকসংশ্লেষ-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – সালোকসংশ্লেষ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর