এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব ও ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব ও ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় “উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব ও ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
পরিবর্তনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বের প্রতিটি দেশই অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে চায়। সুতরাং, এই উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং এর জন্য তথ্যসমৃদ্ধ মানচিত্র প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্রের অবদান অনস্বীকার্য। যেমন –
- উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে কোনো অঞ্চলের Land Cover ও Landuse ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়।
- Landsat -এর সাহায্যে অরণ্যভূমি ও চারণভূমির বিস্তার পরিবর্তন, অবক্ষয় জানা সম্ভব হয়।
- Soil map তৈরির মাধ্যমে কৃষি ও কৃষি সংক্রান্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা যায়।
- উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে অগ্ন্যুদগমের বিকিরণের পরিমাণ জানা যায় এবং তারই সাহায্যে অগ্ন্যুদগম মানচিত্র প্রস্তুত করা হয়।
- উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে ভূমিধস, দাবানল ও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা যায়।
- উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে পতিত জমি চিহ্নিত করে কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায় বা উক্ত জমিতে শিল্পস্থাপন করা যায়।
- তরঙ্গের Near infrared এবং Red ব্যবহার করে সমুদ্র ও জলাশয়ে উদ্ভিজ্জকণার পরিমাণ বোঝা যায় এবং উদ্ভিজ্জকণার তারতম্যে সৃষ্ট উদ্ভিজ্জ্বসূচক অনুযায়ী মৎস্য চাষের পরিকল্পনা করা যায়।
- রাডারে ক্ষুদ্র তরঙ্গ ধরা পড়ার মাধ্যমে ঘূর্ণবাত, বজ্রবিদ্যুৎ, টর্নেডোর গতিবিধি ইত্যাদি চিহ্নিত করা যায়।
- জমিতে শস্যের ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মান সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
- উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে সীমান্তের সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র সমাবেশের তথ্যের সাহায্যে দেশের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করা যেতে পারে।
- Landsat -এর সাহায্যে High Engineering Survey এবং স্থলপথ তৈরির পরিকল্পনা করা যায়।
- খরা, বন্যা, দুর্যোগ প্রভৃতির মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। দুর্যোগ ও বিপর্যয় সম্পর্কে মানুষের তথ্য দিয়ে জীবন ও সম্পত্তিহানি রোধ করা যায়।
- এই বিশ্বায়নের যুগে উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি সহজ যোগাযোগ সম্ভব হয়।
- রাতের গভীর অন্ধকারেও চিত্রগ্রহণ ও তথ্যসংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
- নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নিয়মিত তথ্যচিত্র পাওয়ার কারণে –
- উষ্ণ মরু অঞ্চলে বালিয়াড়ির গতিপ্রকৃতি।
- নদী উপত্যকার প্রকৃতি।
- উপকূল অঞ্চলের ভূমিভাগ পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে তথ্যসংগ্রহ করা যায়।
- জলসম্পদগত তথ্যের সাহায্যে কৃষি, শিল্প, খনিজ, বাসস্থান বিভিন্ন আর্থসামাজিক পরিকল্পনা করা সম্ভব।
- জীববৈচিত্র্য সম্বন্ধে তথ্য পাওয়া যায়।
পরিশেষে বলা যায় যে, কৃত্রিম উপগ্রহ যেমন বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে তেমনি পরিবর্তন এনেছে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন তথ্যের সাহায্যে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পথ দেখাবে। বহু অজানা তথ্য সংগ্রহ করে কল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়ে পৃথিবী আরও উন্নত হবে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব ও ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব ও ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় “উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন