সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ -এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো। এখানে কবির পরিচিতি, কবিতার উৎস, কবিতার পাঠপ্রসঙ্গ, কবিতার সারসংক্ষেপ, কবিতার নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং কবিতাটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা: ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ (সারসংক্ষেপ, নামকরণ ও কবি পরিচিতি)

ছন্দে শুধু কান রাখো – কবি পরিচিতি

অবিভক্ত বাংলার পূর্ববঙ্গে, ঢাকার বিক্রমপুরে 1907 খ্রিস্টাব্দের 23 সেপ্টেম্বর কবি অজিত দত্তের জন্ম হয়। অত্যন্ত মেধাবী এই মানুষটি ত্রিশ-চল্লিশের দশকে আধুনিক বাংলা কবিতার এক বিশিষ্টতম কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি এমএ পাশ করেন। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় কলকাতার রিপন কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী ক্ষেত্রে চন্দননগর, বারসাত, প্রেসিডেন্সি কলেজে খ্যাতির সঙ্গে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। অবশেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অর্থাৎ কবির জীবনের একটা বড়ো অংশই জ্ঞানচর্চায় অতিবাহিত হয়। 1970 খ্রিস্টাব্দে দীর্ঘ শিক্ষকজীবন থেকে অবসর নেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর লেখালেখির শুরু। ক্রমে এক বলিষ্ঠ কবি হিসেবে অজিত দত্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। মাত্র 20 বছর বয়সে বন্ধু বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে ‘প্রগতি’ (1927) পত্রিকার সম্পাদনা তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারে গভীর দৃঢ়তা দেয়। পরে বুদ্ধদেব বসু যখন ‘কবিতা’ পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন, তখন সূচনালগ্ন থেকেই তিনি ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থেকেছেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে গোকুলচন্দ্র নাগ ও দীনেশরঞ্জন দাশের যুগ্ম-সম্পাদনায় মাসিক পত্রিকা ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হলে, তিনি নিয়মিত সেখানে লেখালেখি করে পত্রিকার এক যোগ্য সাহিত্যকার হয়ে ওঠেন। ‘দিগন্ত’ সাহিত্য-বার্ষিকীর সম্পাদক ছিলেন কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কুসুমের মাস’ 1930 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। কবির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হল – ‘কুসুমের মাস’, ‘পাতাল কন্যা’, ‘নষ্টচাঁদ’, ‘পুনর্নবা’, ‘ছড়ার বই’, ‘ছায়ার আলপনা’, ‘জানালা’, ‘সাদা মেঘে কালো পাহাড়’ প্রভৃতি। কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থেরও জনক ছিলেন তিনি। ‘জনান্তিকে’, ‘মন পবনের নাও’ ও ‘বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস’ তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত ও গবেষণাধর্মী গদ্যগ্রন্থ। 1979 খ্রিস্টাব্দের 30 ডিসেম্বর এই মহান কবি লোকান্তরিত হন।

ছন্দে শুধু কান রাখো – উৎস

ছন্দে শুধু কান রাখো – একটি কিশোরমনস্ক কবিতা, যেটি কবি অজিত দত্তের 2007 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ নামক কবিতা-সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে।

ছন্দে শুধু কান রাখো – পাঠপ্রসঙ্গ

প্রকৃতির পরতে পরতে রয়েছে ছন্দময়তার আদর্শ উদাহরণ। প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে ছন্দের আশ্চর্য প্রকাশ। এই ছন্দেই জীব-জীবনও চালিত হয়। যুগ্মভাবে কান পাতলে আর মন দিলেই শোনা যাবে ছন্দের টুং-টাং শব্দ। তবে কোলাহলমুখর এই বর্তমান পৃথিবীতে এই ছন্দময়তাকে অনুভব করা খুব সহজ নয়। কবি তাঁর কবিতায় এই বিশ্বাসকে নিবিড়ভাবে গেঁথে দিয়েছেন। আমাদের চারপাশের অনেক কিছুর মধ্যেই ছন্দের যে চলাচল, তাকে যথার্থ অনুভব করতে পারলেই জীবন হয়ে উঠবে সহজ ও সুন্দর। এতে মানবমনের সৃষ্টিশীলতাও বিকশিত হবে নিশ্চিত। জীবনকে পদ্যময় করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কবি এবং সেক্ষেত্রে সহযোগ পেতে ছন্দের আশ্রয়কেই তিনি শ্রেষ্ঠ পথ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। নিজ মনকে ছন্দের অবগাহনে সিক্ত করে, এই ভুবনটিকে ছন্দ-সুরের সংকেতে অনুভব করে নিতে পারলেই মনে জমবে মজা। সেই ছন্দকেই কবি অনুভব করতে বলেছেন ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতায়।

ছন্দে শুধু কান রাখো – বিষয়সংক্ষেপ

আলোচ্য ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন ছন্দ হল একপ্রকার পদ্যবন্ধ। ছন্দের উপর ভর দিয়ে কবিতা যেমন এগিয়ে চলে, তেমনি এই মহাবিশ্বের সব কিছুই এক ছন্দময়তার বন্ধনে বাঁধা। অতএব বিশ্বময় ছড়ানো এক ছন্দস্পন্দন সঠিকভাবে অনুভব করতে গেলে, মন্দ কথায় কান দেওয়া চলবে না এবং ছন্দে কান রেখে চলতে হবে। দ্বন্দ্ব-বিবাদ ভুলে গিয়ে মনকে সজাগ করে না তুললে, ছন্দকে যথার্থ শোনা যায় না। অথচ বিশ্বপ্রকৃতির অজস্র উপাদানে ছড়িয়ে রয়েছে ছন্দ। ঝড়বাদল, জ্যোৎস্না, দিনের পাখির কলতান কিংবা ঘোর রাতের ঝিঁঝির ডাকে ছন্দ থাকে টইটুম্বুর হয়ে। নদীর স্রোতের অসাধারণ কলরোলের ছন্দবদ্ধতা মনের মাঝে শুনতে পেলে দেখা যায়, এ যেন ছড়ার ছন্দ, যা কেউ কোথাও লেখেনি। মোটরের চাকাতেও ছন্দ বেজে উঠতে দেখা যায়। রেলগাড়ির চলাচলেও রয়েছে ছন্দের অনন্য উপস্থিতি। জলের উপরেও ছন্দ-তাল বজায় রেখে নৌকো-জাহাজকে পারাপার করতে দেখা যায়। ছন্দে চলার বড়ো উদাহরণ বুঝি ঘড়ির কাঁটা, যাতে বাঁধা পড়ে আছে রাত ও দিন। অতএব কান পেতে যা শুনতে পাওয়া যাবে, তার কিছুই ছন্দহীন নয়। এইসব ছন্দ যারা কান পেতে ও মন দিয়ে শুনবে, তারাই যথার্থভাবে ভুবনটাকে ছন্দ-সুরের সংকেতে চিনতে পারবে। আর বিশ্বপ্রকৃতির এই ছড়ানো ছন্দকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারলেই উপলব্ধি করা যাবে জীবনের আনন্দ। তখন জীবন হয়ে উঠবে ‘পদ্যময়’। কান পেতে ও মন দিয়ে ছন্দের অনুভূতি গ্রহণ না করলে ছন্দবদ্ধ পদ্য লেখা সহজ হবে না।

ছন্দে শুধু কান রাখো – নামকরণ

নামকরণই সাহিত্যের এমন একটি বিষয়, যা যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পাঠককুল ওই সাহিত্যের শৈলীতে প্রবেশের পূর্বে নামকরণ বা শিরোনাম দেখেই পাঠে প্রথম উৎসাহিত হন। অতএব দেখা যায় সাহিত্যকারেরা নামকরণটিকে বিষয়ানুগ ও যুক্তিগ্রাহ্য করে তোলার চেষ্টা করেন। তাই নামকরণ হয়ে ওঠে সাহিত্যের এক মৌলিক উপাদান। কবি অজিত দত্তের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ এই কিশোরমনস্ক কবিতাটিতেও দেখা যায় নামকরণের প্রতি কবির ভাবনা যথেষ্ট নিজস্বতা পেয়েছে। কবিতার সূচনায় কবি মন্দ কথায় কান না দিয়ে কেবল ছন্দে কান রাখতে বলেন, কারণ তাঁর গভীর বিশ্বাস দ্বন্দ্ব-বিবাদ ভুলে মনকে একাত্ম করতে না পারলে জগৎময় ছড়িয়ে থাকা ছন্দকে যথার্থ অনুভব করা যায় না। বিশ্বময় ছন্দের সুন্দর প্রকাশকে যথার্থ অনুভব করার প্রেরণা দিতেই কবি কান পেতে ও মন দিয়ে ছন্দ শোনার পরামর্শ দেন। দেখিয়ে দেন ঝড়বাদলে, দিনের পাখির ডাকে, ঘোর রাতের ঝিঁঝির ডাকে — সর্বত্রই প্রকৃতির নানা প্রসঙ্গে ছন্দ যেন নিজস্ব মাত্রা নিয়ে উপস্থিত। নদীর স্রোতে মাটির উপর মোটর চাকার, রেলের উপর রেলগাড়ির চলার, জলের উপর নৌকো-জাহাজের পাড়ি জমানোর ছন্দকে কবি কান পেতে শুনতে বলেন। ছন্দে চলা ঘড়ির কাঁটা যেমন দিনরাত্রিকে বেঁধে রেখেছে, তেমনি এ জগতের ‘কিচ্ছুটি নয় ছন্দহীন।’ অতএব সব কিছুর মধ্যে ছন্দের আশ্চর্য প্রকাশ। যারা ‘কান পেতে আর মন পেতে’ শুনবে, তারাই ‘ছন্দ-সুরের সংকেতে’ ভুবনটাকে যথার্থ চিনবে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। কবিতার শেষে কবি এ কথা জানাতে ভোলেননি, ছন্দকে সঠিক অনুভব করতে পারলে মনে আসবে মজা, যা জীবনকে করে তুলবে পদ্যময়। আবার ছন্দ না থাকলে কবিতা লেখাও যে কঠিন হয়ে পড়বে, এ কথাও কবি উল্লেখ করেছেন। অতএব দেখা যাচ্ছে, কবি তাঁর কবিতায় প্রকৃতির ছন্দে কান রাখার বিশেষ প্রয়োজনীয়তাকে সর্বাধিক মূল্য দিয়েছেন। এই কান রাখার আসল উদ্দেশ্য জীবনের আনন্দকে সত্যিকারের অনুভব করা। সুতরাং কবিতার শিরোনামে উঠে আসা ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ চমকপ্রদ, অর্থময়, ব্যঞ্জনাধর্মী হওয়ায় তা সার্থক হয়েছে।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম বিভাগ, “ছন্দে শুধু কান রাখো”-এর বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দিয়েছে এবং কবিতাটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

মেঘ-চোর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর - সপ্তম শ্রেণি বাংলা

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মেঘ-চোর গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর সপ্তম শ্রেণি

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Class 7 Bengali Megh Chor by Sunil Gangopadhyay SAQ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মেঘ-চোর – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – নোট বই – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর