সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত প্রখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ রচিত ‘আত্মকথা’ গদ্যাংশটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে লেখক পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই আলোচনাটি আপনাদের ‘আত্মকথা’ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি ও গদ্যাংশের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

লেখক পরিচিতি

“রামকিঙ্কর পরিবারের একমাত্র ছেলে, যাকে এখনও জাত পেশা ক্ষৌরকার্যে লাগানো হয়নি। ওকে স্কুলে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশা, ও লেখাপড়া শিখবে”— ‘দেখি নাই ফিরে’, সমরেশ বসু।

প্রখ্যাত ভাস্কর এবং চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ-এর জন্ম 1906 খ্রিস্টাব্দের 25 মে। বাঁকুড়া জেলার কামারডাঙা গ্রামের যুগীপাড়ায় বসতি। জাতিতে তিনি পরামাণিক। বাবা চণ্ডীচরণ পুত্র রামপদকে জাত ব্যবসা ক্ষৌরকর্মে নিয়োজিত করলেও রামকিঙ্করকে ক্ষৌরকর্মে যুক্ত করেননি। ছোটোবেলা থেকেই রামকিঙ্কর ছিলেন ছবি আঁকায় পারদর্শী। তিনি দেবদেবীর ছবি আঁকতেন। কামার-কুমোরদের কাজেও আকৃষ্ট ছিলেন। পুতুলগড়া, থিয়েটারের সিন তৈরি, ছবি আঁকা ইত্যাদি কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন। 1925 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত শিল্পী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন। তাঁর আঁকা ছবি দেখে নন্দলাল বসু বলেছিলেন, “তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?” সারাজীবন তিনি অজস্র ছবি এঁকেছেন, মূর্তি গড়েছেন। তাঁর ছবিতে, ভাস্কর্যে রাঢ় দেশের মাটি ও মানুষের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিল্পকলার নানা বিশেষত্ব তাঁর কাজে ধরা পড়েছে।

শান্তিনিকেতনে তাঁর গড়া বিখ্যাত মূর্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘সুজাতা’, ‘হাটের সাঁওতাল পরিবার’, ‘গান্ধিজি’, ‘বুদ্ধদেব’, ‘কাজের শেষে সাঁওতাল রমণী’ ইত্যাদি। 1970 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে তিনি ভূষিত হন। 1976 খ্রিস্টাব্দে ‘বিশ্বভারতী’ তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে। 1980 খ্রিস্টাব্দে তিনি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নেন।

পাঠপ্রসঙ্গ

কোনো সাহিত্যিক যখন তাঁর নিজের জীবনের কথা সাহিত্যে তুলে ধরেন, তখন তা আত্মজীবনী বা আত্মচরিতমূলক রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ‘আত্মকথা’ গদ্যাংশে লেখক রামকিঙ্কর বেইজ তাঁর শৈশবকাল থেকে বড়ো হয়ে ওঠা পর্যন্ত নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে রচনাটিকে মনোগ্রাহী করে তুলেছেন। পাঠক হিসেবে তাঁর গ্রাম্য জীবন, শান্তিনিকেতনের জীবন এবং শিল্পী হিসেবে বড়ো হয়ে ওঠার নানা পথের হদিস পেয়ে আমরাও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছি।

বিষয়সংক্ষেপ

লেখক গ্রামের ছেলে। শৈশব থেকেই তাঁর ছবি আঁকার প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি দেখে তিনি তা আঁকতে চেষ্টা করতেন। মূর্তি গড়ার কাজেও তাঁর দক্ষতার পরিচয় মেলে। লেখকের বাড়ির পাশে কুমোরপাড়া ছিল। সেখান থেকে তাঁর মাটির নানা কাজ দেখার অভ্যাস তৈরি হয়। আঁকার জন্য যে রংতুলির প্রয়োজন হত তা নানান জায়গা থেকে তিনি সংগ্রহ করতেন। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় এবং অঙ্কনবিদ্যায় পারদর্শিতার জন্য বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাঁকুড়াতে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হয়ে কংগ্রেস দলের হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। এইসময় বেশ কিছু মহাপুরুষের ছবি ও বাণী অয়েল পেন্টিং-এর মাধ্যমে এঁকেছিলেন। 1925 খ্রিস্টাব্দে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর তিনি চলে আসেন শান্তিনিকেতনে। সেখানে আচার্য নন্দলাল বসুর নির্দেশেই সব কাজ পরিচালিত হত। এখানে ছাত্রদের অ্যানাটমি ও মাসল সম্বন্ধেও শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। লেখক সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। নন্দলালবাবু ছিলেন ওরিয়েন্টাল আর্টের প্রবর্তক। লেখক রামকিঙ্করের বেশিরভাগ ছবি ছিল খুবই সাধারণ, তবে তা অনেকটা নন্দলালবাবুর পরোক্ষ প্রভাবে। অয়েল পেন্টিং-এ আঁকা সুন্দর ছবিটি — গার্ল অ্যান্ড দ্য ডগ। কারণ, নন্দলালবাবুর সাদামাটা সুরটা লেখককে আশ্চর্যরকমভাবে আকর্ষণ করত।

নামকরণ

মানবসমাজে বাস করতে গেলে যেমন মানুষের একটা নাম জরুরি, তেমনি সাহিত্যরচনারও নামকরণ অত্যন্ত জরুরি। এটি এমন একটা বিষয়, যা তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্ত বলে মনে করা যেতে পারে। মানুষের নামকরণ যেমন খুশি রাখা যেতে পারে, কিন্তু সাহিত্যের নামকরণে তা চলবে কেন? কেননা, সাহিত্যের নামকরণের মধ্য দিয়ে সেই গল্প বা কবিতার মূলভাবটি যেমন ধরা পড়ে, তেমনি সাহিত্যিকের মনোভাবও স্পষ্ট বোঝা সম্ভব হয়। আমাদের আলোচ্য ‘আত্মকথা’ রচনাটির মধ্যে সেই ভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘আত্মকথা’ শব্দের অর্থ হল নিজের কথা। লেখক এই রচনায় নিজের কথাই বলেছেন। খুব ছেলেবেলা থেকেই তিনি আঁকতে ভালোবাসতেন। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো দেবদেবীর ছবি দেখে তিনি আঁকতে শুরু করেছিলেন। কুমোরপাড়ায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে তাদের দেখে দেখে নিজেও মাটির নানান মূর্তি তৈরিতে হাত পাকিয়েছিলেন। পারিবারিক অবস্থা ভালো না হলেও নিজের আঁকার দক্ষতার জন্য বিনা বেতনে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনার থেকে আঁকার প্রতিই আগ্রহ ছিল বেশি। সারাজীবন তিনি জ্ঞানীগুণী মানুষের সান্নিধ্যলাভ করেছেন। শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে থেকে। সেখানেই প্রথম তিনি অয়েল পেন্টিং-এর কাজ করেন। সঠিক অর্থে তিনি একজন শিল্পী। কেমনভাবে তিনি শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন তার সুন্দর নিখুঁত বর্ণনা ধরা পড়েছে এই রচনায়।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আত্মকথা’ রচনার বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই পাঠ্যাংশটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক পরিচিতি ও রচনার সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণি বাংলা আত্মকথা

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আত্মকথা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর