এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের প্রথম অধ্যায়, অর্থাৎ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নোত্তরগুলো অত্যন্ত সহায়ক, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই অংশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।

বঙ্গভূমির প্রতি কবিতাটি একটি সার্থক গীতিকবিতা কি না আলোচনা করো।
ইউরোপে থাকাকালীন ফ্রান্সে যাওয়ার পূর্বে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটি রচনা করেন। এটি একটি গীতিকবিতা। এই ধরনের কবিতা হল এমন কবিতা, যেখানে কবির মনোভাবই কাব্যিক ব্যঞ্জনায় সার্থক রূপলাভ করে। প্রবাসে কবি নিজেকে বৃহত্তম কাব্যমঞ্চের শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। বেশ কিছু কাব্য ও কবিতা ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল কবির। কিন্তু মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম টান অনুভব করেছিলেন কবি মনের গভীরে। দেশ, দেশীয় ভাষা, দেশের সারস্বত সমাজ, সাধারণ মানুষ তাঁকে গভীরভাবে টানলেও, কবিতাটির রচনাকালে তিনি এসব কিছু থেকে ছিলেন বহুদূরে। তাই তাঁর মনের যন্ত্রণাই এই কবিতাটিতে প্রধান ভাব হিসেবে ব্যঞ্জনাময় হয়ে উঠেছে। ছন্দ-অলংকার ও ভাষার সুন্দর প্রকাশে কবিতাটি তাই আধুনিক পদ্ধতিতে ভাবপ্রকাশের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হয়ে উঠেছে। কবিতার বক্তা অর্থাৎ কবি তাঁর মনের ব্যক্তিগত ভাবকেই কবিতায় বড়ো করে স্থান দিয়েছেন, আর এতেই কবিতাটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় কবির দেশভক্তির যে পরিচয় লিপিবদ্ধ আছে, তার বিবরণ দাও।
আধুনিক যুগের মহাকাব্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটি একটি গীতিকবিতা। কবিতায় প্রবাসে থাকাকালীন কবির দেশের প্রতি আন্তরিক টান ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। কবি তখন ইউরোপে, ফ্রান্সে যাওয়ার পূর্বে যখন তিনি এই কবিতা রচনা করেন, তখন তাঁর মনে প্রবল আবেগ দেশকে নিয়ে। তাই এই কবিতায় দেশকে মা সম্বোধন করে তিনি বলেন – মা যেন তাঁকে মনে রাখেন, মনের সাধ সাধন করতে গিয়ে যদি তিনি কোনো ভুল করে থাকেন, তবুও মা যেন তাঁর মনকুসুমকে মধুহীন না করেন। দেশমাতৃকাকে ভুলে তিনি যে প্রবাসী হয়েছেন – এই দুঃখ থেকে তিনি বলেন – ভাগ্যের বশে প্রবাসে যদি তাঁর মৃত্যুও হয়, তাতে তাঁর কোনো খেদ নেই; কারণ তিনি জানেন, জন্ম নিলে একদিন মরতেই হয়। কেউই অমর নয়। মা যদি সন্তানকে মনে রাখেন, তবে তিনি যমকেও ভয় পান না। অবশেষে কবি বলেন – তাঁর তেমন কোনো গুণ নেই যা দিয়ে তিনি মায়ের কাছে অমরতা চাইতে পারেন। তবে মা যেহেতু বরদাত্রী, তাই তিনি যদি একান্তই কোনো বর দান করেন, তা যেন হয় দেশের মানুষের মনে চিরকালীন হয়ে বেঁচে থাকা। এইভাবেই কবি দেশমাতা তথা বঙ্গভূমির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের কবিতা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’-এর কিছু রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। যেহেতু পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই এগুলো অনুশীলন করা জরুরি।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন