এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের প্রথম অধ্যায়, অর্থাৎ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নোত্তরগুলো অত্যন্ত সহায়ক, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই অংশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।

কবি তাঁর দেশমাতৃকা তথা বঙ্গভূমির কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন যেন দেশ-মা তাঁকে মনে রাখেন। প্রবাসে থাকাকালীন যদি তাঁর মৃত্যুও হয়, তাতেও তিনি দুঃখ পাবেন না। যদি দেশমাতা তাঁকে মনে রাখেন, তাহলে যমকেও তিনি ভয় পান না।
নরকুল বলতে এখানে মানবকুলকে বোঝানো হয়েছে। এই মানবকুলে সে-ই সর্বাপেক্ষা ধন্য বলে কবি মনে করেন-মানুষ যাকে কখনও ভোলে না। যে মানুষকে সকলে মনের মন্দিরে ঠাঁই দেয়, যাকে সর্বদা পুজো করে।
প্রবাসে থাকাকালীন কবি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর অতি প্রিয় বঙ্গভূমিকে ভুলতে পারেননি। তাই বঙ্গভূমির প্রতি তাঁর প্রথম প্রার্থনাই ছিল, মা যেন দাস অর্থাৎ কবিকে মনে রাখেন। এই প্রার্থনাকেই তিনি ‘মিনতি’ বলেছেন।
প্রবাসে থাকাকালীন ভাগ্যের পরিহাসে কবি তাঁর মৃত্যু ঘটার প্রসঙ্গ এনেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য ভাগ্যের পরিহাসে যদি তাঁর জীবনতারা দেহ-আকাশ থেকে খসে যায়, তবু তিনি সেজন্য দুঃখ করবেন না।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন মানুষ জন্মগ্রহণ করলে তাকে একদিন মরতেই হয়, কেউই অমর নয়। যেমন জীবনরূপ নদীতে জল কখনও স্থির হয়ে থাকে না, তেমনি মানুষের জীবনও যে-কোনো দিন শেষ হয়ে যেতে পারে।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতাটিতে কবি জন্মভূমির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। মাতৃরূপিণী শ্যামা-জন্মদে-র কাছে সেই অমরতা প্রার্থনা করেছেন, যে অমরতা ধরা থাকে মানবমনে। কবির অমরতা হল মানুষ যেন তাঁকে না ভোলে, মনের মন্দিরে সর্বদা ধরে রাখে।
কবি মধুসূদন মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে, স্বদেশ ত্যাগ করে, বিদেশে গিয়েছিলেন বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে খ্যাতিমান হবেন বলে। মনের এই সাধকেই ‘ভুল দোষ’ বলা হয়েছে। আর কাব্য-নাটক রচনা করে তিনি যে বঙ্গভূমির সেবা করতে চান, তাকে ‘গুণ’ বলে প্রচার করেছেন।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতাটি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা।
কবি তাঁর প্রবাসজীবনে ব্যথাভরা মন নিয়ে বঙ্গভূমিকে আন্তরিকভাবে স্মরণ করেছেন। তাঁর মনে হয়েছে, মায়ের স্নেহচ্ছায়া থেকে তিনি দূরে চলে এসেছেন বলে মা বুঝি তাঁকে ভুলে গেছেন। তাই তিনি মায়ের কাছে আত্মনিবেদনের মাধ্যমে করুণ মিনতি জানিয়েছেন। তাঁর এই মিনতিটি হল – মা যেন তাঁর মাতৃদাস এই সন্তানকে ভুলে না যান। মনের সাধ সাধন করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল তাঁর হয়ে থাকে, তবু মায়ের মন যেন কখনও মধুহীন না হয়।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত একদা স্বেচ্ছায় প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন। ফ্রান্সে যাওয়ার আগে তিনি বঙ্গভূমির প্রতি এক অকৃত্রিম টান বা আকর্ষণ অনুভব করেন। তারই অনিবার্য ছাপ লক্ষ করা যায় এই কবিতায়। তিনি বলেন – ভাগ্যের পরিহাসে প্রবাসে যদি তাঁর মৃত্যু হয়, তবে তার জন্য তাঁর কোনো খেদ থাকবে না। কারণ জন্ম হলে মৃত্যু ঘটবেই। কেউই এই পৃথিবীতে অমর নয়।
মৃত্যু যে অনিবার্য তা বোঝাতে কবি প্রথমে বলেছেন – জীবননদীর জল কখনোই স্থির নয়-
‘চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?’
অন্যদিকে কবি বলেছেন – কোনো মাছি যদি অমৃতের হ্রদে পড়ে, তবে সে গলে যায় না বা বিনষ্ট হয় না, বরং অমৃতের গুণে সে অমরত্ব লাভ করে – ‘মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে।’ অর্থাৎ দেশমাতৃকা কবিকে মনে রাখলে তিনিও অমরতা লাভ করবেন।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় কবি দেশমাতৃকার কাছে তাঁর মনোগত অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। কবি বলেছেন – তিনি যদিও যথেষ্ট গুণের অধিকারী নন, তবুও অমরতার প্রতি তাঁর আসক্তি আছে। সেই অমরতা হল – লোকে যেন তাঁকে না ভোলে, মনের মন্দিরে তাঁকে ধরে রাখে এবং স্মরণ করে।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় দেশ মায়ের কাছে অমরতা চাইতে গিয়ে কবি মনে করেছেন তাঁর তেমন গুণ নেই, তবে মা যদি দয়া করে তাঁর ভুল-দোষগুলিকে গুণ বলে ধরেন, তবে তাঁকে বর দান করতে পারেন। যেহেতু মা সুবরদাত্রী, তাই সে বর অবশ্যই অমরতার বর, যে অমরতার অর্থ সৃষ্টির জন্য জনমানসে বেঁচে থাকা। কবি মায়ের কাছে এই বর প্রত্যাশা করেছেন।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘বঙ্গভূমি’ কবিতায় ‘সুবরদে’ বলে মাতৃভূমি বঙ্গদেশকে বুঝিয়েছেন।
মাতৃভূমির কাছে কবি অমর হওয়ার বর চেয়েছেন।
কবি মনে করেন তিনি জীবনে বহু ভুল করেছেন। ভুল করে তিনি বহু মূল্যবান সময়, সম্পদ, শক্তি নষ্ট করেছেন। মাতৃভূমির জন্য তিনি কিছু করতে পারেননি। মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে অবহেলা করে তিনি বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তাই কবি অনুতাপে মাতৃভূমির কাছে এভাবে বর প্রার্থনা করেছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের কবিতা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’-এর কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। যেহেতু পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই এগুলো অনুশীলন করা জরুরি।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন