এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’-এর কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
সপ্তম শ্রেণির বাংলা: ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 7 Bengali

‘ছন্দ আছে জোছনাতে,’ – উদ্ধৃতাংশটি কার লেখা কোন্ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে? জোছনাতে কীভাবে ছন্দ আছে?
উৎস – উদ্ধৃত অংশটি প্রখ্যাত কবি অজিত দত্ত রচিত ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ নামক কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।
বিশ্লেষণ – চাঁদের যে স্নিগ্ধ আলো রাতের পৃথিবীকে অপরূপ সৌন্দর্যে ভরিয়ে তোলে, তাকেই আমরা জোছনা বলি। এই সুমধুর জোছনা আমাদের মনে এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি করে; আমরা জোছনার জাদুকরী মাধুর্যে আবেগে মত্ত হয়ে পড়ি। জোছনার এই প্রভাব যেহেতু মানুষের মনকে গভীরভাবে স্পন্দিত করে, তাই বলা যায় জোছনারও নিজস্ব এক সূক্ষ্ম ছন্দ আছে। তা না হলে এই স্নিগ্ধ আলো মানুষকে এমনভাবে মোহিত করতে পারত না।
‘নদীর স্রোতের ছন্দ যদি / মনের মাঝে শুনতে পাও’ – নদীর স্রোতের ছন্দ কীভাবে মনের মাঝে শুনতে পাওয়া যায়?
উৎস – আলোচ্য পঙ্ক্তিটি কবি অজিত দত্তের লেখা ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতা থেকে সংকলিত হয়েছে।
বিশ্লেষণ – নদী আপন বেগে সাগরের অভিমুখে অবিরাম বয়ে চলে। নদীর সেই বয়ে চলার অবিরাম ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৌকো চলে, মাঝি গান গায়। নদীর স্রোতের এই কলতান আমাদের মনে এক গভীর আনন্দের সঞ্চার করে। মানুষ যদি একাগ্র চিত্তে ও অনুভবের মাধ্যমে স্রোতের এই ছন্দ বা গান শুনতে পায়, তবে সে বুঝতে পারবে যে, প্রকৃতির এই সুরের চেয়ে মধুর আর কিছু হতে পারে না। স্রোতের অন্তরে যে ছন্দময় সুর লুকিয়ে আছে, তা এক সুন্দর কবিতার মতোই শ্রুতিমধুর।
‘জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে / নৌকো জাহাজ দেয় পাড়ি।’ – জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে নৌকো-জাহাজ কীভাবে পাড়ি দেয়?
উৎস – উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি কবি অজিত দত্ত রচিত ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতার অন্তর্গত।
বিশ্লেষণ – আমাদের এই প্রকৃতি আদ্যোপান্ত ছন্দময়, অর্থাৎ প্রকৃতির প্রতিটি কাজের মধ্যেই এক অন্তর্নিহিত ছন্দ লুকিয়ে আছে। এই ছন্দ ছাড়া জীবন ও জগৎ স্থবির হয়ে পড়ত। নদী বা সাগরের তীরে বসলে দেখা যায়, ঢেউ এসে পাড়ে অবিরাম ‘ছলাৎ ছলাৎ’ শব্দে আছড়ে পড়ছে। সেই ছন্দময় ধ্বনি রসিক মানুষের মনে সুরের জাগরণ ঘটায়। নৌকো বা জাহাজ যখন নদীর বুকে ভেসে চলে, তখন তারাও ঢেউয়ের এই স্বাভাবিক ছন্দের তালে তাল মিলিয়েই দূরদেশে পাড়ি দেয়। এক্ষেত্রেও ছন্দের চেতনা তাদের যাত্রাপথকে প্রভাবিত করে। একাগ্র মন দিয়ে অনুভব করতে না পারলে প্রকৃতির এই নিখুঁত ছন্দকে উপলব্ধি করে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না।
‘কিচ্ছুটি নয় ছন্দহীন।’ – উদ্ধৃতাংশের ব্যাখ্যা লেখো।
উৎস – আলোচ্য অংশটি কবি অজিত দত্তের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত।
তাৎপর্য – কবি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, এই বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবজীবন আদ্যোপান্ত ছন্দময়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে ও কাজে রয়েছে ছন্দের স্পন্দন। ঝড়বাদলের গর্জন, জোছনার স্নিগ্ধতা, পাখির কলকাকলি, ঝিঁঝিপোকার ডাক, নদীর কলতান, এমনকি মোটর বা রেলগাড়ির চাকার শব্দ—সবকিছুর মধ্যেই এক অপূর্ব ছন্দ বিরাজমান। মনে এই ছন্দের উপলব্ধি থাকলে, জীবন পদ্যের মতো সুন্দর, সহজ ও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। সমগ্র ভুবনটাই যেন এক অদৃশ্য ছন্দ-সুরের সংকেতে পরিচালিত হচ্ছে। তাই কবি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বিশ্বচরাচরে কোনো কিছুই ছন্দহীন নয়।
‘জীবন হবে পদ্যময়,’ – জীবন কখন পদ্যময় হবে?
উৎস – প্রশ্নোদ্ভূত অংশটি কবি অজিত দত্ত বিরচিত ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণ – জীবন ও জগৎ সর্বদাই ছন্দময় এবং সর্বত্রই ছন্দ বিরাজমান। চারপাশের এই বস্তুজগতের ছন্দ যদি মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজে গভীরভাবে অনুভব করতে পারে, তবে তার জীবন অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর হয়ে ওঠে। কবিতা বা পদ্য যেমন সুমধুর ও ছন্দবদ্ধ হয়, মানুষের জীবনে প্রকৃত আনন্দ এলে তার জীবনও তেমনই কবিতার মতো মধুর হয়ে ওঠে। তাই কবি পরামর্শ দিয়েছেন মন দিয়ে, কান পেতে প্রকৃতির সকল উপাদান থেকে ছন্দের স্বাদ অনুভব করার জন্য। এইভাবে প্রকৃতি ও জীবনের ছন্দের সঙ্গে একাত্ম হতে পারলে জীবনে প্রকৃত আনন্দ আসবে, আর সেই আনন্দের আগমনেই জীবন এক সুন্দর পদ্যের মতো হয়ে উঠবে।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের কবিতা, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’-এর কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে।
যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন