এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, কবি অজিত দত্তের লেখা ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

ছন্দ মানবজীবনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে বুঝিয়ে লেখো।
কবি অজিত দত্ত ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ নামক কবিতায় বলতে চেয়েছেন যে, প্রকৃতির সকল প্রকারের কর্মকাণ্ডেই ছন্দ রয়েছে। এই ছন্দ যেমন জড়জগতে প্রভাব ফ্যালে তেমনই মানবজীবনেও ছন্দের প্রভাব বর্তমান।
প্রকৃতি ছন্দময়, আর প্রকৃতির বুকেই মানুষ পরিপুষ্টি লাভ করে, ফলে মানুষের জীবনেও ছন্দের প্রভাব পড়তে বাধ্য। মানুষ যদি দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে রেখে প্রকৃতির ছন্দকে অনুধাবন করতে পারে, তবে মানুষের জীবন হয়ে উঠতে পারে আনন্দময় ও পদ্যের মতোই লালিত্যময়। অর্থাৎ ছন্দ মনের মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে, মনকে করে তোলে প্রাণময় ও গতিপ্রবণ। প্রকৃতির ছন্দ মানবমনে ধরা পড়লে জীবন হয়ে ওঠে সরস ও পদ্যময়। মানুষের মনকে সৃষ্টিশীল করে তোলে ছন্দ এবং মনের চেতনাশক্তির জাগরণ ঘটাতেও সাহায্য করে প্রকৃতির ছন্দ। এভাবে মানুষের জীবনে ছন্দ প্রভাব ফ্যালে।
কান পেতে যা শুনতে পাবে/কিচ্ছুটি নয় ছন্দহীন। – কান পেতে শোনার ব্যাপারটি কী? উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি অজিত দত্তের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় কান পাততে বলা হয়েছে বিশ্বচরাচরে। কান হল শ্রবণেন্দ্রিয়, যা দিয়ে আমরা শুনে থাকি। কবি এই শোনার ক্ষেত্রে একমুখী হওয়ার কথা বলেছেন। আর শোনার ব্যাপারটি হল জগৎময় ছড়িয়ে থাকা নানা বিষয়ের ছন্দ।
পৃথিবীর সর্বত্রই ছন্দ রয়েছে; ছন্দ রয়েছে ঝড়-বাদলে, ছন্দ রয়েছে চাঁদের জোছনায়; এমনকি দিনের বেলায় যে পাখির কাকলি বা গভীর রাতে যে ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যায়, তার মধ্যেও ছন্দের অবস্থান রয়েছে। নদীর স্রোতের ছন্দ অনুভব করতে পারলে বোঝা যাবে যে, তার মতো কবিতা আর হতেই পারে না। ছন্দের প্রভাবে মোটর বা রেলগাড়ি চলমান হয়, আবার নৌকো বা জাহাজ সাগর পাড়ি দেয় জলের ছন্দেই; পৃথিবীতে দিনরাত্রি হয় ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে – এখানেও সময় বাঁধা পড়েছে ঘড়ির কাঁটার ছন্দে। এই ছন্দ অনুভব করার ক্ষমতা না থাকলে কোনো কিছু থেকেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ কান পেতে শুনলে আমরা বুঝতে পারব যে পৃথিবী ছন্দময়, সব কিছুতেই রয়েছে ছন্দের অবস্থান, ছন্দহীন জীবন সুন্দর হতে পারে না। এই কারণেই কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
কান না দিলে ছন্দে জেনো/পদ্য লেখা সহজ নয়। – ছন্দ বলতে কী বোঝো? কবির প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের কারণ কী?
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি অজিত দত্তের ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘ছন্দ’ বলতে সুমিত শব্দের কাব্যময় প্রকাশকে বোঝানো হয়, যা কানের মাধ্যমে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি করে।
পৃথিবী ছন্দময়, অর্থাৎ প্রকৃতির সকল কর্মকাণ্ডেই রয়েছে ছন্দের ছোঁয়া। ছন্দ না থাকলে জীবনটা আনন্দহীন অর্থাৎ গদ্যময় হয়ে উঠবে। কবিতা বা পদ্য সাহিত্যের এক কোমল অংশ। বলা যায় মনের কোমল ও সুন্দর অনুভূতির প্রকাশ ঘটে কবিতায়। মনে যদি আনন্দ না থাকে অর্থাৎ প্রকৃতি থেকে যদি ছন্দের অনুভূতি আমাদের দেহে-মনে সঞ্চারিত না হয়, তবে জীবন সুন্দর হয় না, মন হয়ে ওঠে কঠিন বা গদ্যের মতোই লালিত্যহীন। যারা কান পেতে আর মন দিয়ে সকল ছন্দকে শুনতে পারবে, তারাই ছন্দের সুর-সংকেত অনুভব করতে পারবে, নাহলে ছন্দ অধরাই থেকে যাবে। গভীর মনোযোগের মাধ্যমে ছন্দকে গ্রহণ করতে পারলে তা থেকে আনন্দ পাওয়া যাবে, তবেই জীবন হবে পদ্যময়। আর কান না দিলে অর্থাৎ ছন্দকে যদি অনুভূতির জগতে না আনা যায়, তবে পদ্যের মতো লালিত্যময়, কোমল, সুন্দর জিনিস রচনা করা যাবে না বলে কবি মনে করেছেন। তাই তিনি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
চিনবে তারা ভুবনটাকে – ‘ভুবন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা কীভাবে ভুবনটাকে চিনবে?
ভুবন বলতে বিশ্বপ্রকৃতি অর্থাৎ মহাবিশ্বকে বোঝানো হয়েছে।
তারা বলতে বোঝানো হয়েছে তাদের, যারা কান পেতে ও মন দিয়ে পৃথিবীর সকল ঘটনার মধ্য থেকেই ছন্দ শুনতে পায়।
এই বিশ্বপ্রকৃতি হল ছন্দময়, প্রকৃতির সব কিছুই চলে ছন্দের মাধ্যমে। পাখির কাকলি, ঝিঁঝির ডাক, নদীর স্রোত, গাড়ি বা জলযানের এগিয়ে চলা সবেতেই বিরাজ করছে ছন্দ। তবে এই ছন্দ ধরতে হবে, অর্থাৎ অনুভূতির মাধ্যমে তাকে গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হল আত্মোপলব্ধি; এই বোধ না থাকলে প্রকৃতির ছন্দকে মানুষ বুঝতে পারে না। এই ছন্দ অনুভব করার জন্য দরকার মন্দ কথায় কান না দেওয়া, আর মনের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব না রাখা। যারা এমন কাজ করতে পারবে, তারাই প্রকৃতির ছন্দ অনুভব করতে পারবে ছন্দকে মনের মধ্যে গ্রহণ করার মাধ্যমে তারা ছন্দের সংকেত বুঝতে পারবে এবং এভাবেই তারা ভুবন বা জগৎকে চিনবে।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের কবিতা, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ -এর কিছু রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন