সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’-এর কিছু পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা - ছন্দে শুধু কান রাখো - পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ
Contents Show

1. বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে ও বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে পরিবর্তন এবং বাক্যরচনা

প্রদত্ত শব্দপরিবর্তিত রূপপদ পরিবর্তনবাক্যরচনা
ঝড়ঝোড়োবিশেষ্য থেকে বিশেষণআজ সমস্ত দিনই ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হবে।
মনমানসিকবিশেষ্য থেকে বিশেষণএই কাজটির জন্য মানসিকভাবে আমি তৈরি।
ছন্দছন্দবদ্ধবিশেষ্য থেকে বিশেষণপ্রকৃতির সব কাজেই এক ছন্দবদ্ধ গতি আছে।
দিনদৈনিকবিশেষ্য থেকে বিশেষণবহু শ্রমিকের দৈনিক উপার্জন একশত টাকারও কম।
সুরসুরেলাবিশেষ্য থেকে বিশেষণগ্রাম বাংলায় অনেক সুরেলা পাখির গান শোনা যায়।
সংকেতসাংকেতিকবিশেষ্য থেকে বিশেষণমন দিয়ে শুনলে প্রকৃতির বহু সাংকেতিক ধ্বনি আমরা অনুভব করতে পারব।
দ্বন্দ্বদ্বান্দ্বিকবিশেষ্য থেকে বিশেষণদুই বন্ধুর মধ্যে দ্বান্দ্বিক আলোচনা চলছে।
মন্দতামন্দবিশেষ্য থেকে বিশেষণমানুষের মন্দতা দূর হলেই সমাজে শান্তি ফিরে আসবে।
ছন্দহীনতাছন্দহীনবিশেষ্য থেকে বিশেষণকবিগণ কখনো-কখনো ছন্দহীনতায় ভোগেন।
পদ্যপদ্যময়বিশেষ্য থেকে বিশেষণমনের গভীর অনুরাগই পদ্যের জন্ম দেয়।
সহজতাসহজবিশেষ্য থেকে বিশেষণকবিতার সহজতা পাঠককে আকৃষ্ট করে।

2. শব্দগুলিকে আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্যরচনা

শব্দভিন্ন অর্থবাক্য
মন্দকু / অসৎসর্বদা মন্দ সঙ্গ এড়িয়ে চলা উচিত।
ধীরগামীবিকেলবেলা মৃদুমন্দ বাতাস বইছে।
দ্বন্দ্ববিবাদমানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব করে কোনো লাভ নেই।
সংশয় / দ্বিধামনের সব দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে এসো।
তাললয়সঠিক তালে গান গাইলে তা শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে।
ফল বিশেষভাদ্র মাসে তাল পাকে।
ডাকসম্ভাষণমধুর ডাক মনকে তৃপ্ত করে।
শব্দমেঘের ডাকে রাত্রিবেলা ঘুম ভেঙে গেল।
বাজেধ্বনিত হয়তার গানের সুরটা এখনও কানে বাজে
সময়ঘড়িতে এখন ন-টা বাজে
ছড়াশিশুভুলোনো কবিতাবাংলা শিশুসাহিত্যে ছড়ার একটি নিজস্ব স্থান আছে।
গুচ্ছবাবলু ঘুরে ঘুরে এক ছড়া আঙুর খেয়ে নিল।
মজাআনন্দনতুন জামা পেয়ে শিশুটির খুব মজা হয়েছে।
জলশূন্য হওয়াএই মজা পুকুরটাতে আমাদের ছোটোবেলায় অনেক পদ্মফুল ফুটত।
নয়সংখ্যাবিশেষএ মাসের নয় তারিখে মামারা আমাদের বাড়িতে আসবে।
না-সূচক অব্যয়জগতে কাউকে পর ভাবা উচিত নয়

3. মূল শব্দ নির্ণয় (তদ্ভব থেকে তৎসম)

প্রদত্ত শব্দমূল শব্দ
জোছনাজ্যোৎস্না
চাকাচক্র
কানকর্ণ
দুপুরদ্বিপ্রহর
ঝিঁঝিঝিল্লি

4. কবিতার ভাষা থেকে মৌখিক ভাষায় রূপান্তর

কবিতার ভাষামৌখিক (গদ্য) ভাষা
ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে।ঝড়-বৃষ্টিতে ছন্দ আছে।
ছন্দে বাঁধা রাত্রি-দিন।রাত আর দিন ছন্দে বাঁধা আছে।
কিচ্ছুটি নয় ছন্দহীন।কোনো কিছুই ছন্দহীন নয়।
চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতে।ছন্দ আর সুরের সংকেতে তারা ভুবনটাকে চিনতে পারবে।
কান না দিলে ছন্দে জেনো / পদ্য লেখা সহজ নয়।জেনো, ছন্দে কান না দিলে পদ্য লেখা সহজ নয়।

5. ‘কান’ শব্দটির পাঁচটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার

ভিন্ন অর্থযুক্ত শব্দঅর্থবাক্য
কানইন্দ্রিয়বিশেষবিজ্ঞানের ভাষায় কান হল জ্ঞানেন্দ্রিয়।
কানমলাশাস্তিপদ্ধতিপড়া না পারায় শিক্ষক মহাশয় ছাত্রটির কান মলে দিলেন।
কানপাতলাকথা গোপন করার অক্ষমতারাম খুব কানপাতলা ছেলে, ওর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা যাবে না।
কান খাড়াআগ্রহ সহকারেদরজার পাশে দাঁড়িয়ে রমলা সব কথা কান খাড়া করে শুনতে লাগল।
কানে লাগাশ্রুতিকটুমিতার বেসুরো গান বড়ো কানে লাগে।

6. প্রকৃতির ছন্দ – কান পেতে ও মন পেতে শোনা

নানা প্রাকৃতিক ঘটনার ছন্দ কান পেতে বা মন পেতে শুনলে, তাতে প্রকৃতির ছন্দ ধরা পড়ে।

কান পেতে শোনা যাবে এমনমন পেতে শোনা যাবে এমন
পাখির ডাকদুঃখীর হাহাকার
ঝিঁঝির ডাকহৃদয়ের শব্দ
নদীর কলতানজোছনার নীরব শব্দ
বৃষ্টির শব্দরাতের নীরবতা
মেঘ গর্জনের শব্দমায়ের স্নেহের নীরব প্রকাশ
বায়ুপ্রবাহের শব্দ

আপনার দেওয়া পাঠ্যটিতে বানান ও যতিচিহ্নের ব্যবহার মূলত সঠিক আছে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর কবিতায় ছন্দের দোলা বোঝাতে অনেক জায়গায় হসন্ত (্) এবং উর্ধ্বকমা (‘) ব্যবহার করেছেন (যেমন— আদুল্, ঠিক্, ক’ষে), সেগুলি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তবে দু-একটি জায়গায় সামান্য টাইপিং ভুল ছিল (যেমন— ‘শুষ্ছে’ হবে ‘শুষছে’ এবং ‘গাড়োয়’ হবে ‘গাড়ায়’)। আপনার আগের নির্দেশ অনুযায়ী সংখ্যাগুলিকে ইংরেজিতে পরিবর্তন করে কবিতাটির সংশোধিত রূপ নিচে দেওয়া হলো –

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘পালকির গান’ কবিতাটি শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে সংগ্রহ করো।

সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত ‘সত্যেন্দ্র কাব্যগুচ্ছ’ -গ্রন্থের ‘কুহু ও কেকা’ কাব্যখানিতে ‘পাল্কীর গান’ কবিতাটি আছে (পৃ. 351-356)।

পাল্কী চলে! পাল্কী চলে!
গগন-তলে আগুন জ্বলে!
স্তব্ধ গাঁয়ে আদুল্ গায়ে
যাচ্ছে কারা রৌদ্রে সারা!
ময়রা মুদি চক্ষু মুদি’
পাটায় বসে ঢুলছে ক’ষে!
দুধের চাঁছি শুষছে মাছি,
উড়ছে কতক ভন্‌ ভনিয়ে।-
আস্ছে কারা হন্ হনিয়ে?
হাটের শেষে রুক্ষ বেশে
ঠিক্ দুপুরে ধায় হাটুরে!
কুকুরগুলো শুঁকছে ধুলো,
ধুঁক্ছে কেহ ক্লান্ত দেহ।
ঢুক্ছে গোরু দোকান-ঘরে,
আমের-গন্ধে আমোদ করে!
পাল্কী চলে, পাল্কী চলে-
দুলকি চালে নৃত্য তালে!
ছয় বেহারা,-জোয়ান তারা, –
গ্রাম ছাড়িয়ে আগ্ বাড়িয়ে
নামল মাঠে তামার টাটে!
তপ্ত তামা;- যায় না থামা,-
উঠ্ছে আলে নামছে গাড়ায়, –
পাল্কী দোলে ঢেউয়ের নাড়ায়!
ঢেউয়ের দোলে অঙ্গ দোলে!
মেঠো জাহাজ সামনে বাড়ে,-
ছয় বেহারার চরণ-দাঁড়ে। (সংক্ষেপিত)

1. সমার্থক শব্দ লেখো – জল, দিন, রাত্রি, নদী, ভুবন।

জল – জীবন, বারি, নীর, সলিল, অম্বু।
দিন – দিবস, দিবা, দিনমান, অহ।
রাত্রি – নিশা, যামিনী, রজনী, নিশীথ।
নদী – তটিনী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিণী, সরিৎ।
ভুবন – জগৎ, বিশ্ব, পৃথিবী, অবনী, বসুধা।

2. শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও – দিন/দীন, মন/মণ, সুর/শূর, সকল/শকল।

দিন – দিবস। দীন – দরিদ্র।
মন – চিত্ত। মণ – ওজন-বিশেষ (40 সের)।
সুর – দেবতা। শূর – বীর।
সকল – সব। শকল – মাছের আঁশ।

3. যারা-তারা-র মতো 3টি সাপেক্ষ শব্দজোড় তৈরি করো।

যারা-তারা-র মতো 3টি সাপেক্ষ শব্দজোড় হল – যিনি-তিনি, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন।

4. কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে 3টি সর্বনাম লেখো।

কবিতা থেকে পাওয়া 3টি সর্বনাম হল – ‘কেউ’, ‘যারা’ এবং ‘তারা’।

5. কবিতায় রয়েছে এমন 4টি ‘সম্বন্ধপদ’ উল্লেখ করো।

কবিতায় রয়েছে এমন 4টি ‘সম্বন্ধপদ’ হল – পাখির ডাকে, ঝিঁঝির ডাকে, জলের ছন্দে এবং ঘড়ির কাঁটা। (দ্রষ্টব্য – ব্যাকরণ অনুযায়ী এখানে মূল সম্বন্ধপদগুলি হলো শুধুমাত্র- পাখির, ঝিঁঝির, জলের এবং ঘড়ির)

6. নীচের বাক্য/বাক্যাংশের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদাভাবে দেখাও।

ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে।

উদ্দেশ্য – ছন্দ।
বিধেয় – আছে ঝড়-বাদলে।

দেখবে তখন তেমন ছড়া / কেউ লেখেনি আর কোথাও।

উদ্দেশ্য – কেউ।
বিধেয় – দেখবে তখন তেমন ছড়া লেখেনি আর কোথাও।

জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে / নৌকো জাহাজ দেয় পাড়ি।

উদ্দেশ্য – নৌকো জাহাজ।
বিধেয় –
জলের ছন্দে তাল মিলিয়ে দেয় পাড়ি।

চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতে।

উদ্দেশ্য – তারা।
বিধেয় – ভুবনটাকে চিনবে ছন্দ সুরের সংকেতে।

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের কবিতা, ‘ছন্দে শুধু কান রাখো’ -এর কিছু পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণী বাংলা - ছন্দে শুধু কান রাখো - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি - বাংলা - ছন্দে শুধু কান রাখো - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – ছন্দে শুধু কান রাখো – বিষয়সংক্ষেপ