সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত আশরাফ সিদ্দিকী রচিত ‘একুশের কবিতা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে কবি পরিচিতি, কবিতার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, সারসংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই আলোচনাটি আপনাদের ‘একুশের কবিতা’ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ

কবি পরিচিতি

কবি আশরাফ সিদ্দিকী 1927 খ্রিস্টাব্দের 1 মার্চ বর্তমান বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের নাগবাড়ি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ডা. আবদুস সাত্তার সিদ্দিকী এবং মাতা সমীরণ নেসা। 1950 খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলায় এমএ পাস করেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট কবি, লেখক এবং খ্যাতনামা লোকতত্ত্ববিদ। পাক্ষিক ‘মুকুল’ পত্রিকার সম্পাদক ড. আশরাফ সিদ্দিকী ‘বিষকন্যা’, ‘তালেব মাস্টার’, ‘উত্তর আকাশের তারা’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘কুঁচবরণ কন্যে’ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি 75টি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং 500-এর বেশি কবিতা লিখেছেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষাকারী ভাষা-আন্দোলন 1952 খ্রিস্টাব্দে শুরু হলে কবিও এই দীর্ঘ আন্দোলনে গভীরভাবে যুক্ত থাকেন। তাঁর সমগ্র সাহিত্যে, বিশেষত কাব্যে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে।

পাঠপ্রসঙ্গ

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

একুশে ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলতে পারি।”

উনিশশো বাহান্ন খ্রিস্টাব্দের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদারক্ষার যে সংগ্রাম হয়েছিল, তাতে সেদিন ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন আব্দুস সালাম, আব্দুল জব্বার, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবুল বরকত, শফিউর রহমান। এঁরাই প্রথম ভাষা-শহিদ। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা-শহিদ দিবস পালিত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে পালিত হয়। এই কবিতায় কবি যেমন দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তেমনই মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং দায়বদ্ধতার কথাও বলেছেন। ‘প্রভাতবর্ণন’ কবিতার ‘পাখি সব করে রব’ পঙ্ক্তিটি উল্লেখ করে এবং মায়ের কথা স্মরণ করে আবহমানের প্রতি কবি বিশ্বাসও রেখেছেন।

বিষয়সংক্ষেপ

মাতৃভাষার প্রতি অসাধারণ টান ‘একুশের কবিতা’র মধ্যে অনিবার্যভাবে গাঁথা হয়ে আছে। কবির চেতনায় একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদদের কথা উজ্জ্বল। শৈশবে পড়া ‘পাখি সব করে রব’ কবিতাটি যেন মন্ত্রের মতো বাজছে স্মৃতির গভীরে। মাতৃভূমি বাংলাদেশ, মাটির গান ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, জারি, সারি গান, শৈশবে মায়ের গাওয়া নানা গানের কলি, বিন্নিধান – এসবের পাশাপাশি কবির মনে আসছে তাদের কথাও, উনিশশো বাহান্ন খ্রিস্টাব্দে খাজা নাজিমুদ্দিন সরকারের পুলিশ গুলি করে মেরেছিল যাদের। ইতিহাস লিখে নিয়েছে সেই বেদনাময় ঘটনা, বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে রক্ষার সেই করুণ কাহিনি। কবির বয়ানে ঝরে পড়া কয়েকটি পাখি আসলে ভাষা-শহিদ আর সহস্র পাখি হল আপামর মানুষ, যারা ভাষার জন্য পা মেলায় মিছিলে, যার মধ্যে কবি দেখেন মাকে। সহস্র সহস্র বাঙালি তাঁদের মাতৃভাষায় কথা বলে। কবির মা, যিনি বাংলা ভাষায় কথা বলেন তিনি কথায় কথায় রূপকথা, কথকতা, বাংলা ছড়ার ছন্দে সুরের ফুল ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর মিছিলে গাইছেন – ‘পাখি সব করে রব’।

নামকরণ

সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর কবিতার নামকরণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে তার বিষয়বস্তুর উপর আলোকপাত করতেই হবে। আলোচ্য কবিতাটি যে পটভূমিতে রচিত হয়েছিল সেই পটভূমির সঙ্গে ইতিহাসের একটা গভীর যোগ রয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে স্বাধীন হয়েছিল। জন্ম হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান দুটি স্বাধীন দেশের। পাকিস্তানের একটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান আজ স্বাধীন বাংলাদেশ নামে পরিচিত। এই দুই পাকিস্তান ভাগ হয়েছিল ভাষাগত কারণে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পূর্ব পাকিস্তানে জোর করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করলে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মানুষ এর তীব্র বিরোধিতা করে। এর ফলে 1952 খ্রিস্টাব্দের 21 ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাজা নাজিমুদ্দিন সরকারের পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এর ফলে মারা যান আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল জব্বার। এই পাঁচ ভাষা-শহিদের মৃত্যুতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষজন তীব্র আন্দোলনে নেমে পড়ে যা থেকে 1971 খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। 21 ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই ইতিহাসেরই ছায়াপাত ঘটেছে ‘একুশের কবিতা’য়। তাই ভাষার প্রতি আবেগে দেশপ্রেমিক কবি তাঁর এই কবিতায় ভাষা মুগ্ধতার প্রচার করতে সচেষ্ট হয়েছেন। এই কবিতার নামকরণ ‘একুশে’ শব্দটি যেন মন্ত্রের মতো উচ্চারণে যুক্ত হয়েছে। আর নামকরণটিও সার্থকতা লাভ করেছে।

শব্দার্থ ও টীকা

  • রব – শব্দ, ধ্বনি।
  • কানন – সুন্দর বাগান।
  • কুসুম – ফুল।
  • পাঠশালা – প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • মন্ত্র – পবিত্র শব্দ বা বাক্য।
  • জারি – মুসলমানি শোকগাথা জাতীয় গান।
  • সারি – বাংলাদেশের লোকসংগীত, মাঝি-মাল্লাদের গান।
  • ভাটিয়ালি – ভাটার টানে নৌকো ছেড়ে মাঝিরা যে সুরে গান গায়।
  • মুর্শিদি – বাংলাদেশের ইসলামি লোকসংগীত বা দেহতত্ত্বের গান।
  • গানের কলি – গানের পঙ্ক্তিটি বা পদ।
  • বিন্নিধান – বাংলাদেশের এক ধরনের সুগন্ধি আউস ধান। জমা জলে জন্মায় এই ধান। ভালো খই হয়।
  • কালবৈশাখী – চৈত্র-বৈশাখ মাসের বিকালের ঝড়বৃষ্টি।
  • বাট – রাস্তা।
  • হাট – সপ্তাহে একবার কি দু-বার নির্দিষ্ট দিনে বসে এমন বাজার।
  • কলতান – পাখির কলকণ্ঠের সুর।
  • দিগন্ত – দিকের প্রান্তসীমা।
  • মুখর – ধ্বনিময়।
  • কথকতা – পুরাণকথার পাঠ ও ব্যাখ্যা।
  • রূপকথা – ছেলেভোলানো অবাস্তব গল্প।
  • মিছিল – শোভাযাত্রা।
  • রাখাল – গো-রক্ষক, গোরু চরানো ও তত্ত্বাবধান যার কাজ।
  • পাঠ – পঠন, অধ্যয়ন, পাঠ্যবিষয়।
  • রাতি – (পদ্যে ব্যবহৃত) সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কাল।
  • পোহাইল – (পদ্যে ব্যবহৃত) ভোর হওয়া, শেষ হওয়া।

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘একুশের কবিতা’-র বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি কবিতাটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মাতৃভাষা - বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মাতৃভাষা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা - বঙ্গভূমির প্রতি - পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – বঙ্গভূমির প্রতি – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা - পাগলা গণেশ - পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – পাগলা গণেশ – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – মাতৃভাষা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – বঙ্গভূমির প্রতি – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – পাগলা গণেশ – পাঠ্যাংশের ব্যাকরণ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – বঙ্গভূমির প্রতি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর