এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘এই মৃত্যুহীন জীবন, এই অন্তহীন আয়ু কি এভাবেই যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হবে?’ – গণেশ ‘যন্ত্রণা’ বলেছেন কাকে? তাঁর এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
মৃত্যুঞ্জয় টনিক গণেশকে অস্বাভাবিক দীর্ঘজীবন দান করেছিল, তিনি অমরতা লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘজীবনে বিজ্ঞানের অস্বাভাবিক বাড়াবাড়িও তাঁর মনকে পীড়া দিতে শুরু করে। বিশেষত, তিনি যখন লক্ষ করেন, বিজ্ঞানের বেগধর্মী যোজনায় মানুষের জীবন থেকে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে দয়া-মায়া-করুণা-ভালোবাসার মতো আবেগ-অনুভূতি এবং সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির পাটও চুকে যাচ্ছে, তখন তাঁর মন অস্থির হয়ে ওঠে। তা ছাড়া হিমালয়ের নির্জন-পরিসরে, একান্তে, এককভাবে যে একটু চারুকলা অর্থাৎ সৃষ্টির চর্চায় তিনি ডুবে থাকবেন—তাও তিনি পারছিলেন না, সেখানেও তাঁকে মাঝেমধ্যে মানুষের ব্যঙ্গাত্মক উক্তি শুনতে হচ্ছিল। জীবনের এই পরিস্থিতিকে তাই গণেশ যন্ত্রণা বলে মনে করেছেন।
বিজ্ঞান যখন সর্বগ্রাসী হয়ে সমগ্র পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন সে বিষয়ে নিতান্ত বিব্রত হয়েই যোদ্ধার মতো গণেশ সভ্যসমাজ থেকে দূরে হিমালয়ের গিরিগুহায় আশ্রয় নেন। সেই নির্জনতার অবকাশে চলতে থাকে তাঁর একক শিল্পচর্চা। তিনি গান গেয়ে তৃপ্তি পান, পাথর কেটে বানান ছবি, কবিতা লিখে ছড়িয়ে দেন বাতাসে—যদি কেউ পড়ে এই ভেবে। কিন্তু গণেশের ওই নিভৃত শিল্পসংগ্রাম অন্য অনেকের ভালো লাগে না। একদিন ঢেঁকি ও ভেলা-যাত্রী দুই ব্যক্তি গণেশের কবিতাচর্চাকে তীব্র ব্যঙ্গ করে। অন্য একদিন দুটো পাখাওয়ালা লোক তাঁকে এসে রীতিমতো ধমক লাগিয়ে জিজ্ঞাসা করে – ‘ও মশাই, এমন বিকট শব্দ করছেন কেন?’ গণেশ তাঁর গানচর্চার ব্যাখ্যা দিলে, তারা তাঁর গানকে ‘বিটকেল শব্দ’ আখ্যা দেয়। অন্য একদিন গণেশ যখন যান্ত্রিক বাটালি দিয়ে পাথর কেটে ছবি আঁকছিলেন, ধামায় আরোহিণী এক মহিলা তাঁর সেই চর্চা দেখে ব্যঙ্গোক্তি করেন – ‘খেয়েদেয়ে কাজ নেই! ছবি হচ্ছে! ছুঁঃ।’ এসব ঘটনা গণেশের মনে তীব্র হতাশার জন্ম দেয়। তাই গণেশ এমন মনে করতে বাধ্য হন।
‘পাগলা গণেশ’ গল্পের মুখ্য চরিত্র গণেশকে তোমার কেমন লাগল?
প্রখ্যাত কথাশিল্পী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ গল্পে গণেশ মুখ্য তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি একাধারে অসাধারণ এবং ব্যতিক্রমী একটি চরিত্র। মৃত্যুঞ্জয় টনিক গণেশকে অমরতা দান করেছে। তিনি নিজে বিজ্ঞানের অধ্যাপক অথচ কেবল যুগের হুজুগে না চলে, নিছক বিজ্ঞানকর্মে নিজেকে ব্যাপৃত না রেখে, মানুষের মধ্যে উপ্ত মানসবৃত্তিগুলির বিকাশে তিনি আন্তরিক সচেষ্ট হয়েছেন। যুগধর্ম অনুযায়ী তখন পৃথিবীর সর্বত্র বিজ্ঞান ছাড়া আর যেন ভাবনার কোনো বিষয়ই নেই। গত 150 বছরে বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। আবার পাশাপাশি ‘সুকুমার শিল্পবিরোধী আন্দোলন’-ও চলছে। তাই মানবমন থেকে আবেগ, স্নেহ-মায়া-মমতার মতো অনুভূতিগুলি যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটও চুকে যাচ্ছে। তাঁর তখন মনে হয়েছিল – ‘বিজ্ঞানের বাড়াবাড়িরও একটা সীমা থাকা দরকার।’ এমতাবস্থায় প্রায় একক প্রচেষ্টায় কবিতা-গান-আঁকা ইত্যাদির চর্চার জন্য গণেশ হিমালয়ের গিরিগুহায় ডেরা বাঁধেন। সেখানে কবিতা লিখে তিনি ভাসিয়ে দেন বাতাসে, ভাবেন যদি কারও কাছে পৌঁছোয়, যদি কেউ পড়ে। কখনও তিনি গান করেন, ছবি আঁকেন। এমন সৃষ্টিছাড়া কীর্তিকলাপ যাঁর, তাঁকে তো ‘পাগলা’ বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু গণেশ ‘পাগলা’ নন, তিনি আন্তরিক। যান্ত্রিক পৃথিবীর হৈ-হল্লার মাঝে নিঃসঙ্গ হলেও তিনি মানবতার পূজারি। বিজ্ঞাননির্ভর মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই পারস্পরিক আবেগের সূত্রে মানুষকে বাঁধতে তিনি বিজ্ঞানের পাশে মানুষের সৃষ্টিশীলতা ও মানসবৃত্তিকে প্রতিষ্ঠা দিতে চেয়েছেন। একক যুদ্ধের সার্থক সৈনিক গণেশ তাই এক সার্থক মানবচরিত্র হিসেবে এ গল্পে আত্মপ্রকাশ করেছেন। গল্পশেষে তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব যখন জানান, ‘লোকে গান গাইতে লেগেছে, কবিতা মকসো করছে, হিজিবিজি ছবি আঁকছে’, তখন গণেশের প্রাণময় উক্তি – ‘যাঃ তাহলে আর ভয় নেই। দুনিয়াটা বেঁচে যাবে।’
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের তৃতীয় অধ্যায়, ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের কিছু রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন