নবম শ্রেণী – ইতিহাস – জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ – সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একত্রিত হয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠিত হয়। এই সংস্থার নাম জাতিসংঘ। জাতিসংঘের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং মানবাধিকার রক্ষা করা।

Table of Contents

জাতিসংঘ (League of Nations) কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়? জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় কে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন?

জাতিসংঘ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘চোদ্দো দফা’ শর্তের শেষ শর্তে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলেছিলেন (১৯১৮ খ্রি., ৮ জানুয়ারি)। তাঁর আদর্শের উপর ভিত্তি করেই প্যারিস শান্তি সম্মেলনে জাতিসংঘ গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

উড্রো উইলসন কে ছিলেন? জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান কী?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন উড্রো উইলসন।

তিনি বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে চোদ্দো দফা নীতি ঘোষণা করেন, তার উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ গড়ে ওঠে।

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

জাতিসংঘের সনদে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলি আলোচিত হয়েছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি ছিল –

  • পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
  • প্রত্যেক রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেওয়া।
  • ন্যায় ও সততার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
  • আন্তর্জাতিক আইন, বিধিনিষেধ, চুক্তি ও সন্ধির শর্তাদি যথাযথভাবে মেনে চলা।
  • অবহেলিত জাতি, নারী, শিশু ও শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষা করা।

লিগ কভেনান্ট (League Covenant) কী?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে আয়োজিত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) আমেরিকার রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব গৃহীত হলে উইলসনের নেতৃত্বে ১৯ জন সদস্যের এক কমিটি জাতিসংঘের যে খসড়া সংবিধান রচনা করে, তা লিগ কভেনান্ট নামে পরিচিত।

জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর কোথায় ছিল? জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব বা সেক্রেটারি জেনারেল কে ছিলেন?

জাতিসংঘের সদর দপ্তর বা প্রধান কার্যালয় ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।

জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর কোথায় ছিল

জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন স্যার জেমস এরিক ভূমন্ড (Sir James Eric Drummond)।

জাতিসংঘ কয় ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত ছিল? প্রাথমিক সদস্য কাদের বলা হত?

জাতিসংঘ দু-ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত ছিল। যথা –

  • প্রাথমিক সদস্য (Original members) এবং
  • সাধারণ সদস্য (Non-Original members)।

মিত্রপক্ষভুক্ত যেসকল দেশ বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাদের জাতিসংঘের প্রাথমিক সদস্য বলা হত।

জাতিসংঘের প্রধান সংস্থাগুলি কী কী?

জাতিসংঘ তিনটি প্রধান সংস্থা নিয়ে গড়ে উঠেছিল। এগুলি হল –

  • সাধারণ সভা (League Assembly) – প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিয়ে সাধারণ সভা গঠিত হয়েছিল।
  • পরিষদ (League Council) – জাতিসংঘের সদস্যদের মধ্যে ৫টি স্থায়ী ও ৪টি অস্থায়ী মোট ৯ সদস্য নিয়ে পরিষদ গঠিত হয়েছিল। পরে স্থায়ী সদস্যসংখ্যা ৬ ও অস্থায়ী সদস্যসংখ্যা ৯ অর্থাৎ মোট ১৫ করা হয়েছিল।
  • সচিবালয় (Secretariat) – সচিবালয় হল জাতিসংঘের মহাসচিব বা সেক্রেটারি জেনারেলের দপ্তর। এ ছাড়াও ছিল আন্তর্জাতিক বিচারালয়, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা ইত্যাদি বিভিন্ন সংস্থা।

জাতিসংঘের সাধারণ সভার (League Assembly) কাজ কী ছিল?

জাতিসংঘের সাধারণ সভা ছিল সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। এর কাজ ছিল –

  • বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘু সমস্যা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
  • কোনো নতুন রাষ্ট্রকে সদস্য করার বিষয়ে আলোচনা করা।

লিগ পরিষদ (League Council) কেন গঠিত হয়?

লিগ পরিষদ গঠন করার উদ্দেশ্য ছিল –

  • লিগের সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে বিভিন্ন আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
  • সদস্য রাষ্ট্রের পারস্পরিক রাজনৈতিক বিরোধের মীমাংসা করা।

লিগ পরিষদ (League Council) কীভাবে গঠিত হয়?

লিগ পরিষদ গঠিত হয়েছিল ৫টি স্থায়ী ও ৪টি অস্থায়ী মোট ৯টি সদস্য নিয়ে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি, জাপান স্থায়ী সদস্য হিসেবে যোগদান করলেও আমেরিকা যোগ দেয়নি। পরে সোভিয়েত রাশিয়া ও জার্মানি স্থায়ী সদস্য হিসেবে যোগদান করলে স্থায়ী সদস্যসংখ্যা হয় ৬ এবং অস্থায়ী সদস্য হয় ৯ অর্থাৎ মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫-তে।

জাতিসংঘের পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলি কারা ছিল?

প্রতিষ্ঠাকালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি ও জাপান ছিল জাতিসংঘের পরিষদের স্থায়ী সদস্য। পরে রাশিয়া ও জার্মানিকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

লিগ পরিষদের (League Council) প্রধান কাজ কী ছিল?

জাতিসংঘের কাজকর্ম পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব ছিল লিগ পরিষদের হাতে। লিগ পরিষদের প্রধান কাজ ছিল আন্তর্জাতিক সমস্যা বিষয়ে আলোচনা ও তার সমাধান করা। তবে লিগ পরিষদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে পরিষদের সকল সদস্যকে একমত হতে হত।

জাতিসংঘের সচিবালয়ের (Secretariat) কাজ কী ছিল?

জাতিসংঘের সচিবালয় হল জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তর। সচিবালয়ের কাজ হল –

  • সাধারণ সভা ও লিগ পরিষদের আলোচনার জন্য তথ্যাদি সরবরাহ করা।
  • বিভিন্ন রাষ্ট্রের অভিযোগ নথিভুক্ত করা।
  • দরকারি কাগজপত্র সংরক্ষণ ও অধিবেশন আহ্বান করা ইত্যাদি।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থার (ILO) প্রধান কাজ কী ছিল? এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত ছিল? এই সংস্থার উদ্দেশ্য কী ছিল?

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থার (ILO) প্রধান কাজ ছিল – বিশ্বের সমস্ত শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি এবং তাদের সর্বপ্রকার শোষণমুক্তির বিষয়ে নজর দেওয়া।

  • এর সদর দপ্তর ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।
  • এই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি এবং তাদের উন্নয়নের প্রতি জাতিপুঞ্জের সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

যুগ্ম নিরাপত্তা (Collective Security) বলতে কী বোঝো?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিল। এইভাবে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটাই ‘যুগ্ম নিরাপত্তা’ নামে পরিচিত।

অছি প্রথা (Mandatory System) বলতে কী বোঝো?

ভার্সাই সন্ধির শর্তানুসারে যুদ্ধে পরাজিত রাষ্ট্রগুলির থেকে আদায়ীকৃত অঞ্চলগুলির শাসন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাকেই অছি প্রথা বলা হয়।

কবে, কী উদ্দেশ্যে জেনেভা প্রোটোকল (Geneva Protocol) রচনা করা হয়েছিল?

১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভা প্রোটোকল রচিত হয়।

এর উদ্দেশ্য ছিল – 1. শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের মীমাংসা করা, 2. যুদ্ধকে বেআইনি ঘোষণা করা, 3. আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত বিরোধগুলিকে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানির জন্য প্রেরণ করা ইত্যাদি।

লোকার্নো চুক্তি (Locarno Treaty) কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘের উদ্যোগে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে লোকার্নো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এইভাবে উভয়পক্ষের পুরোনো বিরোধের সমাপ্তি ঘটে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সঙ্গে জার্মানির সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়। জার্মানি জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে (১৯২৬ খ্রি.)। জার্মানি তার হৃত গৌরব সামান্য হলেও ফিরে পেতে সক্ষম হয়।

এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত দেশগুলির মধ্যে বিরোধ দূর করা।

লোকার্নোতে কয়টি ও কী ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

লোকার্নোতে মোট ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় (১৯২৫ খ্রি.)।

পোল্যান্ড, বেলজিয়াম, চেকোশ্লোভাকিয়া, ইটালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানি- এই সাতটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি ছিল দু-ধরনের – 1. সাতটি চুক্তির মধ্যে তিনটি ছিল Treaties of Mutual Guarantees (প্রতিশ্রুতি) এবং 2. বাকি চারটি ছিল Treaties of Arbitration (মধ্যস্থতা)।

লোকার্নো স্পিরিট (Locarno Spirit) কী?

লোকার্নোতে সর্বপ্রথম বিজয়ী রাষ্ট্রবর্গের সঙ্গে বিজিত রাষ্ট্রগুলিকে মিত্রতা চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরাজিত রাষ্ট্রের প্রতি বিজয়ী রাষ্ট্রের এই ব্যবহার দ্বারা বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাসের সুপ্রচেষ্টাকেই লোকার্নো স্পিরিট বলা হয়ে থাকে।

কেলগ-ব্রিয়া চুক্তি (Kellogg-Briand Pact) বা প্যারিসের শান্তিচুক্তি কবে, কোন্ কোন্ দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়? এই চুক্তির উদ্দেশ্য কী ছিল?

আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে প্যারিসে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেলগ (Kellogg) ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিয়া (Briand)-র উদ্যোগে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরকারী দেশগুলি ছিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, জাপান, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড ও চেকোশ্লোভাকিয়া।

কেলগ-ব্রিয়াঁ চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল – যুদ্ধ প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধের মীমাংসা, যৌথ নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা প্রভৃতি।

কোন্ কোন্ ঘটনা জাতিসংঘের দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছিল?

অথবা, জাতিসংঘের ব্যর্থতার দুটি উদাহরণ দাও।

যে – সমস্ত ঘটনা জাতিসংঘের দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলেছিল সেগুলি হল –

  • গ্রিসের কারফু দ্বীপকে কেন্দ্র করে গ্রিস ও ইটালির মধ্যে বিরোধের মীমাংসা না করতে পারা।
  • ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জাপান চিনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ ও দখল (১৯৩২ খ্রি.) করলে জাতিসংঘ জাপানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
  • ইটালি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে আবিসিনিয়া আক্রমণ করলে সেক্ষেত্রেও জাতিসংঘ কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে কবে, কোথায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়? এতে ক-টি দেশ যোগ দিয়েছিল?

১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে জাতিসংঘের উদ্যোগে নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেনেভার নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ৬১টি দেশ যোগ দিয়েছিল।

জাতিসংঘের সাফল্যের দুটি উদাহরণ দাও।

জাতিসংঘের উল্লেখযোগ্য দুটি সাফল্য ছিল –

  • ইঙ্গ-মিশর, জার্মানি-পোল্যান্ড, সুইডেন-ফিনল্যান্ড প্রভৃতি বিরোধের মীমাংসা জাতিসংঘ করতে সক্ষম হয়েছিল।
  • আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ জেনেভা প্রোটোকল (১৯২৪ খ্রি.), লোকার্নো চুক্তি (১৯২৫ খ্রি.), কেলগ- ব্রিয়াঁ চুক্তি (১৯২৮ খ্রি.) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করেছিল।

জাতিসংঘ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘ স্থাপিত হলেও মূলত যেসব কারণে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলি হল- 1.জাতিসংঘের সাংগঠনিক দুর্বলতা, 2. তার ত্রুটিপূর্ণ ভোটদান পদ্ধতি, 3. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের জাতিসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ না করা, 4. যুদ্ধকে বেআইনি ঘোষণা করলেও আগ্রাসনকে নিষিদ্ধ না করা, 5. জাতিসংঘের নিজস্ব সেনাবাহিনীর অভাব, 6. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তোষণনীতি এবং সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মহামন্দা।

জাতিসংঘের কৃতিত্ব আলোচনা করো।

অথবা, জাতিসংঘের অবদান আলোচনা করো।

জাতিসংঘ দুর্বল হয়ে পড়লে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর অবলুপ্তি ঘটলেও এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য- শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা কিন্তু পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমাজ ও শ্রমিকদের কল্যাণসাধন, জনস্বাস্থ্য, দাসপ্রথার উচ্ছেদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানোন্নয়ন এবং সর্বোপরি সহযোগিতা ও সম্প্রীতির ধারণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিল জাতিসংঘ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম কী? এটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির নাম সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations Organisation)।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।

UNO – এর পুরো নাম কী? সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস কবে?

UNO – এর পুরো নাম United Nations Organisation (ইউনাইটেড নেশনস্ অরগ্যানাইজেশন)।

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ২৪ অক্টোবর দিনটিকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস বা U N Day বলে অভিহিত করা হয়।

লন্ডন ঘোষণাপত্র (London Declaration, ১৯৪১ খ্রি.) বলতে কী বোঝো?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে লন্ডন শহরে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ মিলিত হয়ে একটি ঘোষণাপত্রের দ্বারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব জানান। এই ঘোষণাপত্রই ‘লন্ডন ঘোষণাপত্র’ নামে পরিচিত।

লন্ডন ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব কী?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ লন্ডনে এক ঘোষণাপত্রের দ্বারা বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন। অর্থাৎ এই ঘোষণাপত্রকেই সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা যায়। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আটল্যান্টিক সনদ (Atlantic Charter) বলতে কী বোঝো?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৯ আগস্ট আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট (Franklin Roosevelt) ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল (Winston Churchil) আটল্যান্টিক মহাসাগরে নিউ ফাউন্ডল্যান্ডের কাছে ‘প্রিন্স অফ ওয়েলস’ (Prince of Wales) ও ‘অগাস্টা’ (Augusta) নামক জাহাজে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। ১৪ আগস্ট তাঁরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন। এটি ‘আটল্যান্টিক সনদ’ (Atlantic Charter) নামে পরিচিত।

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আটল্যান্টিক সনদ (Atlantic Charter) বলতে কী বোঝো

আটল্যান্টিক সনদ (Atlantic Charter) জারি হওয়ার পটভূমি কী ছিল?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ লন্ডন ঘোষণাপত্র পেশ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোকাবিলা ও বিশ্বে শান্তি স্থাপন করবার জন্য এক আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এই ঘোষণার পরেই আটল্যান্টিক সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই সনদই ছিল রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

আটল্যান্টিক সনদে কবে, কারা স্বাক্ষর করেন?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল উত্তর আটল্যান্টিক মহাসাগরে প্রিন্স অফ ওয়েলস নামে এক যুদ্ধজাহাজে যুদ্ধপরবর্তী পর্বে বিশ্বশান্তি এবং বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সম্পর্কিত ‘আটল্যান্টিক সনদ’ নামে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।

কবে এবং কোথায় আটল্যান্টিক সনদ (Atlantic Charter) রচিত হয়?

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৯-১২ আগস্ট আটল্যান্টিক সনদ রচিত হয়।

আটল্যান্টিক মহাসাগরের উপর আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের রণতরী ‘অগাস্টা’ (Augusta) ও ‘প্রিন্স অফ ওয়েলস’ (Prince of Wales) – নামক যুদ্ধজাহাজে কয়েকবার আলোচনার পর ‘আটল্যান্টিক সনদ’ রচিত হয়।

আটল্যান্টিক সনদের ঘোষিত নীতিগুলি কী ছিল?

আটল্যান্টিক সনদের ঘোষিত নীতিগুলি হল –

  • সনদে স্বাক্ষরকারী সমস্ত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সমানাধিকার স্বীকৃত হবে।
  • পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে পারস্পরিক বিবাদের মীমাংসা করা হবে।
  • চুক্তিভঙ্গকারী দেশের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯৪২-১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মিত্রপক্ষীয় শক্তিগুলির দ্বারা আয়োজক কয়েকটি সম্মেলনের নাম লেখো।

১৯৪২-১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মিত্রপক্ষীয় শক্তিগুলির দ্বারা আয়োজিত কয়েকটি সম্মেলন হল –

  • ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ওয়াশিংটন সম্মেলন,
  • ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে মস্কো ঘোষণা,
  • ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের (ডিসেম্বর) তেহরান ঘোষণা
  • ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের ডাম্বারটন ওক্স্ সম্মেলন এবং
  • ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের (ফেব্রুয়ারিতে) ইয়াল্টা সম্মেলন।

ওয়াশিংটন সম্মেলন (Washington Declaration) কবে, কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? ওয়াশিংটন সম্মেলনের গুরুত্ব কী?

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, সোভিয়েত রাশিয়া, চিন – সহ ২৬টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিবর্গ এক সম্মেলনে মিলিত হন, যা ওয়াশিংটন সম্মেলন (Washington Declaration) নামে পরিচিত।

এই সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিবর্গ আটল্যান্টিক সনদের মূল নীতিগুলি মেনে নিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ঘোষণাপত্র নামে এক দলিলে স্বাক্ষর করেন। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠায় এই সম্মেলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

মস্কো সম্মেলনে (Moscow Declaration) উপস্থিত বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নাম লেখো। এই সম্মেলন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত মস্কো সম্মেলনে (Moscow Declaration) ইংল্যান্ড, আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিন-এর প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মস্কো সম্মেলনের গুরুত্ব হল- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে এই সম্মেলনে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তেহরান ঘোষণার (Tehran Declaration) গুরুত্ব কী?

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ১ ডিসেম্বর আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বুজভেল্ট, সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান স্ট্যালিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল ইরানের রাজধানী তেহরানে মিলিত হয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ছোটো-বড়ো সমস্ত রাষ্ট্রকে এই সংগঠনে যোগদানের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এই ঘোষণাপত্রে বিশ্বশান্তি রক্ষার্থে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করা হয়।

ডাম্বারটন ও সম্মেলন (Dumberton Oaks Conference) কত খ্রিস্টাব্দে, কাদের মধ্যে হয়েছিল? এই সম্মেলনের গুরুত্ব কী?

ডাম্বারটন ওকস্ সম্মেলন (Dumberton Oaks Conference) ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, সোভিয়েত রাশিয়া, চিন প্রভৃতি রাষ্ট্রের মধ্যে হয়েছিল।

ডাম্বারটন ও সম্মেলন (Dumberton Oaks Conference) কত খ্রিস্টাব্দে, কাদের মধ্যে হয়েছিল

এই সম্মেলনের গুরুত্ব হল- একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সম্মিলিত জাতিপুপ্তের (United Nations Organisation) খসড়া কবে, কোন্ সম্মেলনে গৃহীত হয়?

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ডাম্বারটন ওস্ সম্মেলনে (Dumberton Oaks Conference) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের খসড়া প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল।

ইয়াল্টা সম্মেলনে (Yalta Conference) উপস্থিত প্রতিনিধিবর্গের নাম লেখো। এই সম্মেলন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা সম্মেলনে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল এবং সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান স্ট্যালিন অংশগ্রহণ করেন।

এই সম্মেলনে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির নাম ও তাদের ভেটো (Veto) প্রয়োগের অধিকার নির্ধারিত করা হয়।

সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন (San Francisco Conference) কবে, কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিনিধিগণ ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের উদ্দেশ্য, নীতি ও গঠনতন্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করেন। সম্মেলন শেষে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষিত হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ কবে ও কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সংবিধানকে সনদ (Charter) বলা হয়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে একটি সম্মেলনে ৫১টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিবর্গ সনদে স্বাক্ষর করেন।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ সদস্য (Charter Member) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর যেসকল রাষ্ট্র ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে প্রথম স্বাক্ষর করেছিল, তাদের ‘সনদ সদস্য’ (Charter Member) বলা হয়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে ৫১টি দেশ প্রথম স্বাক্ষর করে। এই ৫১টি দেশ হল ‘সনদ সদস্য’-ভুক্ত দেশ।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে স্বাক্ষরকারী কয়েকটি রাষ্ট্রের নাম লেখো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে মোট ৫১টি রাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, হল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ কীভাবে সংশোধন করা হয়?

নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ সভায় উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে জাতিপুঞ্জের সনদ সংশোধিত হয়।

জাতিপুঞ্জের সনদে পারস্পরিক বিরোধ মেটাবার জন্য কোন্ কোন্ পদ্ধতির উল্লেখ আছে?

জাতিপুঞ্জে সনদের ৬ অধ্যায়ের ৩৩নং ধারায় শান্তিপূর্ণ বিরোধ মেটানোর ৭টি পদ্ধতির উল্লেখ আছে। এগুলি হল- আলাপ-আলোচনা, অনুসন্ধান, মধ্যস্থতা, সালিশি বিচার নিষ্পত্তি, আঞ্চলিক সংস্থা, ব্যবস্থাপনা অথবা অন্য কোনো শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বন।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হল –

  • আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবী থেকে যুদ্ধের সম্ভাবনা দূর করা।
  • সমস্ত জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও সমানাধিকার স্বীকার করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সৌহার্দ্যস্থাপন।
  • পৃথিবীর মানবজাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রভৃতি বিভিন্ন মানবিক সমস্যাবলির সমাধান করা।
  • বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নীতিগুলি কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদের ২নং ধারায় জাতিপুঞ্জের নীতিগুলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। নীতিগুলি হল –

  • জাতিপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রগুলির সমান সার্বভৌম মর্যাদা।
  • শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান।
  • জাতিপুঞ্জ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না ইত্যাদি।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রস্তাবনায় কী বলা হয়েছে?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, জাতিপুঞ্জের প্রথম কাজ হল যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা কয়টি ও কী কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা ছয়টি।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থাগুলি হল –

  • সাধারণ সভা (General Assembly) |
  • নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) |
  • অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (Economic and Social Council)|
  • অছি পরিষদ (Trusteeship Council)|
  • আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice)।
  • মহাসচিব ও সচিবালয় (Secretary General and Secretariat) |

জাতিপুঞ্জের কোনো রাষ্ট্রের সদস্যপদ লাভের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসংঘের সনদের ৪ নং ধারা অনুযায়ী জাতিপুঞ্জের নিয়মকানুন মানতে বদ্ধপরিকর কোনো রাষ্ট্র সদস্যপদ গ্রহণের আবেদন জানালে তা নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয় – এই পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ সভার ২/৩ অংশ সদস্যের সম্মতিতে আবেদনকারী রাষ্ট্র সদস্যপদ লাভ করে।

জাতিপুঞ্জে কোনো রাষ্ট্রের সদস্যপদ কীভাবে খারিজ হয়?

জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসংঘের সনদের ৬নং ধারানুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি রাষ্ট্রের মর্যাদা হারায় তথা জাতিপুঞ্জের সনদে উল্লিখিত নীতিগুলির বারবার লঙ্ঘন করলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে ওই রাষ্ট্রের সদস্যপদ খারিজের প্রস্তাবটি সাধারণ সভার ২/৩ অংশ সদস্যের সমর্থনে কার্যকরী হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা (General Assembly) কীভাবে গঠিত হয়?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সকল সদস্যকে নিয়ে সাধারণ সভা গঠিত হয়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ৫১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ সভা গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সাধারণ সভার সদস্য রাষ্ট্রসংখ্যা ১৯৩ (২০১৪ খ্রি.)। প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র সাধারণ সভায় ৫ জন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। তবে ভোট দেওয়ার সময় প্রত্যেক রাষ্ট্র একটিমাত্র ভোটপ্রদানের অধিকারী।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার বার্ষিক অধিবেশন কবে বসে? এই অধিবেশনে কত জন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন?

  • বার্ষিক অধিবেশন – সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বার্ষিক অধিবেশন বসে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবারে।
  • সভাপতি ও সহ-সভাপতি – সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে ১জন সভাপতি ও ২১জন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার (General Assembly) কাজ কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার কাজ হল-

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভার (General Assembly) কাজ কী
  • জাতিপুঞ্জের সনদে লিপিবদ্ধ যে-কোনো বিষয়ে আলোচনা করা, সমালোচনা করা ও সুপারিশ করা।
  • জাতিপুঞ্জের বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নির্বাচন করা।
  • জাতিপুঞ্জের বাজেট বিষয়ে আলোচনা ও তা পাস করা।

নিরাপত্তা পরিষদ বলতে কী বোঝায়?

নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) হল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী সংস্থা। ৫টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী অর্থাৎ মোট ১১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ১৫। অস্থায়ী সদস্যরা ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির নাম উল্লেখ করো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা পাঁচ। এই পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হল – 1. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, 2. রাশিয়া, 3. ইংল্যান্ড, 4. ফ্রান্স ও 5. চিন।

জি-৪ (G-4) গোষ্ঠী কী?

উত্তর ভারত, ব্রাজিল, জাপান ও জার্মানি এই ৪টি দেশ একত্রে ‘জি-৪’ গোষ্ঠী নামে পরিচিত। এরা প্রত্যেকেই জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই অস্থায়ী সদস্য এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভে আগ্রহী।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের উপর বহু গুরুত্বপূর্ণ কার্যভার অর্পণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ হল –

  • আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
  • আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার জন্য যে-কোনো বিষয়ে তদন্ত, সালিশি ও শাস্তিদান করা।
  • আন্তর্জাতিক শান্তিভঙ্গকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বয়কট ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা।

UNCIP কী?

কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে একটি কমিশন নিয়োগ করে। এই কমিশনের নাম United Nations Commission For India and Pakistan বা সংক্ষেপে UNCIP।

ভেটো (Veto) বলতে কী বোঝায়? অথবা, ‘ভেটো ক্ষমতা’ বলতে কী বোঝো?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন। যে-কোনো স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র অসম্মতি জানালে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। স্থায়ী সদস্যদের এই অসম্মতিজ্ঞাপক ভোটে কোনো প্রস্তাব বাতিল করার ক্ষমতাকে ‘ভেটো’ (Veto) বা ‘ভেটো ক্ষমতা’ বলা হয়।

ডবল ভেটো (Double Veto) বলতে কী বোঝায়?

অথবা, দ্বৈত ভেটো বলতে কী বোঝায়?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্র ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে এইসব সদস্য রাষ্ট্র একই বিষয়ে দুবার ভেটো দিতে পারে, একে ‘ডবল ভেটো’ (Double Veto) বা ‘দ্বৈত ভেটো’ বলা হয়।

বারুচ প্রকল্প কী?

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন কূটনীতিবিদ বার্নাড বারুচের নামে একটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা তৈরি হয়, যাতে পারমাণবিক শক্তির বিপজ্জনক ব্যবহারের এবং এই শক্তির বিজ্ঞানসম্মত ও অর্থনৈতিক ব্যবহারের কথা বলা হয়। এই প্রস্তাব জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় গৃহীত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘ভেটো’ প্রয়োগ দ্বারা এই প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে বাতিল হয়। এই প্রস্তাবই ‘বাবুচ প্রকল্প’ নামে পরিচিত।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের আর্থসামাজিক পরিষদ (Economic and Social Council) কীভাবে গঠিত হয়?

সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে আর্থসামাজিক পরিষদ (Economic and Social Council) গঠিত হয়। সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ হল ৩ বছর। প্রতি ৩ বছর অন্তর ১৮ জন সদস্য অবসর গ্রহণ করেন এবং ১৮ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের অধীনে কতকগুলি কল্যাণমুখী। সংস্থার নাম লেখো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (Economic and Social Council) অধীনস্থ কল্যাণমুখী সংস্থাগুলি হল –

  • আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা বা International Labour Organisation (ILO)।
  • বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organisation (WHO)।
  • জাতিপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা United Nations Educational, Scientific and Cultural Organisation (UNESCO)।
  • খাদ্য ও কৃষি পরিষদ বা Food and Agricultural Organisation (FAO)।
  • জাতিপুঞ্জের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত তহবিল বা United Nations Children’s Emergency Fund (UNICEF)।
  • আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বা International Monetary Fund (IMF)।

WHO কী?

WHO-এর পুরো কথা হল World Health Organisation বা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনগণের স্বাস্থ্যরক্ষা করা হল এই সংস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য। এই সংস্থা বিশেষত ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, বসন্ত, কুষ্ঠ, এন্ড্স, পোলিও প্রভৃতি রোগ নির্মূল করার জন্য অর্থ, চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়ে সাহায্য করে।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের অধীনস্থ কল্যাণমুখী সংস্থা হল এই WHO।

জাতিপুঞ্জের সংস্থা WHO বিশ্ব মানবকল্যাণে কী ভূমিকা নেয়?

WHO অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইডস্, পোলিও, কুষ্ঠ, ইবোলা প্রভৃতি রোগের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমতকে সচেতন করে। এইসব রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য গবেষণা করা, আবিষ্কৃত ঔষধ ও অর্থ দিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে সাহায্য করা এবং সর্বোপরি অনুন্নত দেশগুলির জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপও গ্রহণ করে থাকে।

UNESCO কী?

বিশ্ববাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও বিভিন্ন মানব অধিকার কার্যকরী করার জন্য জাতিপুঞ্জের ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ’ গঠিত হয়। এই পরিষদের একটি অন্যতম সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা বা United Nations Educational, Scientific and Cultural Organisation (UNESCO) |

মানবকল্যাণে জাতিপুঞ্জের সংস্থা UNESCO কী ভূমিকা নিয়েছে?

UNESCO বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা একটি সংস্থা। এই উদ্দেশ্যে নিরক্ষতা দূরীকরণ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যপুস্তক রচনা, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিভিন্ন ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

UNICEF কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের আন্তর্জাতিক ‘শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত তহবিল’ বা United Nations Children’s Emergency Fund (UNICEF) নামক সংস্থাটি বিশ্বের কয়েক কোটি শিশুদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছে। এ ছাড়া অনুন্নত দেশগুলিতে শিশুদের স্বাস্থ্য, খাদ্য, চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের প্রতিপালন করা, ওষুধপত্রের সরবরাহ ইত্যাদি বহু কাজের দায়িত্ব এই সংস্থা পালন করে থাকে।

UNRRA কী?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে ‘জাতিপুঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রশাসন’ বা United Nations Relief and Rehabilitation Administration (UNRRA) নামে সংস্থাটি গঠিত হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষদের কাজ কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষদের কাজ হল –

  • বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে তথ্যাদি সংগ্রহ করে সুপারিশসহ সাধারণ সভায় পেশ করা।
  • বিশ্বের সব দেশের মানুষের মানবাধিকার, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষা করা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষদের কাজের ক্ষেত্র এত বিস্তৃত যে এর অধীনে ১৩টি সংস্থা আছে। যেমন- WHO, IMF, FAO প্রভৃতি।

অছি ব্যবস্থা (Trusteeship System) বলতে কী বোঝো?

স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত অঞ্চলের প্রশাসন পরিচালনা ও তদারক করার জন্য জাতিপুঞ্জের সনদে যে ব্যবস্থার উল্লেখ করা হয়, তা ‘অছি ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

জাতিপুঞ্জের অছি পরিষদের লক্ষ্য কী? কয়েকটি অছি-ভুক্ত দেশের নাম লেখো।

জাতিপুঞ্জের অছি পরিষদের লক্ষ্য হল- অনুন্নত দেশগুলিকে জাতিপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে রেখে তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটিয়ে স্বাধীনতা পাওয়ার উপযুক্ত করে তোলা।

কয়েকটি অছি-ভুক্ত দেশের নাম হল- ক্যামেরুন, সোমালিল্যান্ড, টাঙ্গানিকা ইত্যাদি।

অছি পরিষদ কীভাবে গঠিত হয়?

অছি পরিষদ সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিম্নোক্ত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়- 1. অছি অঞ্চলগুলির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, 2. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং 3. সাধারণ সভা কর্তৃক ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত সদস্যগণ।

আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice) কত জন সদস্য নিয়ে কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়?

আন্তর্জাতিক বিচারালয় নেদারল্যান্ড বা হল্যান্ডের হেগ শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিচারালয় ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত।

আন্তর্জাতিক বিবাদ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে এটি স্থাপিত হয়।

আন্তর্জাতিক বিচারালয় কত জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত? বিচারপতিরা কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?

জাতিপুঞ্জের সনদের ৩নং ধারা অনুসারে আন্তর্জাতিক বিচারালয় ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত।

বিচারপতিরা ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। প্রতি ৩ বছর অন্তর ৫ জন বিচারপতি অবসর নেন এবং ৫ জন বিচারপতি নবনিযুক্ত হন।

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের দুটি প্রধান কাজ লেখো।

আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের প্রধান দুটি কাজ হল –

  • সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মামলার বিচার করা এবং
  • জাতিপুঞ্জের বিভিন্ন শাখাকে পরামর্শ দেওয়া।

ইন্টারপোল (Interpol) কী?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অন্যতম অঙ্গ হল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠন। এরাই ‘ইন্টারপোল’ নামে পরিচিত। ফ্রান্সের লিয়তে এর সদর দপ্তর এবং বর্তমান বিশ্বের ১৯০টি দেশ এর সদস্য।

জাতিপুঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার নাম লেখো। জাতিপুঞ্জের দপ্তর (Secretariat) কীভাবে গঠিত?

জাতিপুঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার নাম হল- কর্মদপ্তর বা সচিবালয় (Secretariat)।

১ জন মহাসচিব (Secretary General), ৮ জন সহকারী মহাসচিব এবং প্রায় ১০ হাজার কর্মচারী নিয়ে জাতিপুঞ্জের দপ্তর গঠিত।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তর কোথায়? সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব (Secretary General) কে?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব ছিলেন ট্রিগভি লি (Trygve Lie)|

মহাসচিব কে? তিনি কীভাবে নির্বাচিত হন?

মহাসচিব হলেন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কর্মদপ্তরের (Secretariat) মুখ্য পরিচালক।

তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত হন।

জাতিপুঞ্জের প্রথম এবং বর্তমান মহাসচিবের নাম কী?

জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব ট্রিগভি লি (Trygve Lie, ও ১৯৪৬-১৯৫৩ খ্রি.) এবং নবম তথা বর্তমান মহাসচিব হলেন। অ্যান্টোনিও গুটারেস (Antonio Guterres, ২০১৭-বর্তমান)।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের কাজগুলি কী?

অজনা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে মহাসচিবের প্রধান কাজগুলি হল –

  • রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা।
  • প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ করা।
  • জাতিপুঞ্জের সকল দপ্তরের প্রশাসন পরিচালনা করা।
  • সংগঠনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
  • রাষ্ট্রসংঘের সংস্থাগুলির আলাদা সচিবালয়ে পরিচালন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করা।
  • আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা।
  • বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

জাতিসংঘ (League of Nations) ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (United Nations Organisation) মধ্যে সাদৃশ্যগুলি আলোচনা করো।

জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে সাদৃশ্যগুলি হল –

  • উভয় সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
  • সাংগঠনিক দিক থেকেও এদের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। উভয়েই মূলত চারটি সংস্থার মাধ্যমে কাজকর্ম সম্পাদন করে।
  • জাতিসংঘের ম্যান্ডেট ও জাতিপুঞ্জের অছিব্যবস্থা প্রায় একই জিনিস।
  • জাতিসংঘ ও জাতিপুঞ্জ উভয়েরই সদস্য রাষ্ট্রগণ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ‘ভেটো’ প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দিতে পারে।

জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলি আলোচনা করো।

জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলি হল –

  • জাতিসংঘের সনদের থেকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ অনেক বেশি স্পষ্ট এবং দীর্ঘ। জাতিপুঞ্জের সনদে বিভিন্ন দপ্তরের গঠন ও কর্মপ্রণালী আলোচিত হয়েছে।
  • জাতিসংঘের সাফল্য ভার্সাই চুক্তির উপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু জাতিপুঞ্জের সাফল্য কোনো চুক্তির উপর নির্ভরশীল নয়।
  • জাতিসংঘের তুলনায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ অনেক বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান।
  • জাতিসংঘের সদস্য নয় এমন কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারত না কিন্তু অ-সদস্য রাষ্ট্রগুলিকেও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ শাস্তিপ্রদান করবার অধিকারী।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের দুটি সাফল্য লেখো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের দুটি সাফল্য হল –

  • এই সংস্থা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে রোধ করতে সক্ষম হয়েছে এবং
  • কঙ্গো সমস্যা, সুয়েজ সমস্যা, আলজিরিয়ার সমস্যা, মরক্কো সংকট প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করেছে।
  • হল্যান্ডকে প্রতিহত করে ইন্দোনেশিয়ায় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা (১৯৫০ খ্রি.) হয়েছে।
  • উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা (১৯৫০ খ্রি.) প্রভৃতি।

সুয়েজ সংকটে জাতিপুঞ্জের ভূমিকা কী ছিল?

১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আব্দেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইসরায়েল যৌথভাবে মিশর আক্রমণ করে সুয়েজ খালের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দেয় এবং জাতিপুঞ্জের শান্তিসেনা মিশরে প্রবেশ করে ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনে।

কোরিয়া সম্পর্কে জাতিপুঞ্জের অস্থায়ী কমিশন কবে, কী উদ্দেশ্যে গঠিত হয়?

কোরিয়া সম্পর্কে জাতিপুঞ্জের অস্থায়ী কমিশন ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়। এই কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য ছিল দুই কোরিয়ার মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করা।

এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট ভারতীয় কূটনীতিবিদ কে পি এস মেনন।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতাগুলি লেখো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতাগুলি হল –

  • এই সংস্থা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং
  • নয়া ঔপনিবেশিকতাবাদের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে পারেনি।
  • সর্বোপরি, উপসাগরীয় যুদ্ধ ও বর্ণবৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কেন ব্যর্থ হয়?

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিজস্ব সেনাবাহিনীর অভাব থাকার দরুন শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া, বিভিন্ন দেশ থেকে গৃহীত সেনাদের মধ্যে সংহতি ও সমন্বয়ের অভাব, সদস্য রাষ্ট্রগুলির ভেটো প্রয়োগ, জাতিপুঞ্জের নিজস্ব আর্থিক তহবিল না থাকা, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রভাব ইত্যাদি নানা কারণের জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ব্যর্থ হয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গুরুত্ব আলোচনা করো।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আলোচনা করো।

প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল সংগ্রহ, স্থায়ী নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠন, নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি রাশিয়া ও আমেরিকার মতো বৃহৎ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল রূপে প্রতিভাত হয়।

জাতিপুঞ্জ কেন UNSCOP গঠন করেছিল?

প্যালেস্তাইন সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিপুঞ্জ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ১১জন সদস্য নিয়ে গঠন করেছিল ইউনাইটেড নেশনস স্পেশাল কমিটি অন প্যালেস্তাইন (United Nations Special Committee On Palestine)। UNSCOP সুপারিশ অনুসারে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে জাতিপুঞ্জ প্যালেস্তাইনে পৃথক ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এর ফলে প্যালেস্তাইন অঞ্চল ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রে বিভাজিত হয়ে পড়ে।

কেন জাতিপুঞ্জ নিরপেক্ষ জাতিসমূহের পুনর্বাসন কমিশন গঠন করেছিল? এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে কোন্ দেশ নিযুক্ত হয়েছিল?

কোরিয়া যুদ্ধে ধৃত যুদ্ধবন্দিদের প্রত্যার্পণের জন্য ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে জাতিপুঞ্জ ‘নিরপেক্ষ জাতিসমূহের পুনর্বাসন কমিশন’ গঠন করেছিল।

এই কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ভারতের জেনারেল থিমাইয়া।

জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ, উভয়ই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু এর ব্যর্থতায় ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন