এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল? হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশ বিরোধী মনোভাব জাগ্রত করেছিল?/জাতীয়তাবোধের জাগরণে হিন্দুমেলা কীরূপ ভূমিকা পালন করেছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল? হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশ বিরোধী মনোভাব জাগ্রত করেছিল?/জাতীয়তাবোধের জাগরণে হিন্দুমেলা কীরূপ ভূমিকা পালন করেছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল?
ভারতীয়দের মধ্যে স্বাদেশিকতার ভাব জাগরণে যে কয়েকটি সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তার মধ্যে হিন্দুমেলা বিশেষ উল্লেখ্য। 1867 সালে বাংলার ঠাকুর পরিবারের সহযোগিতায় রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নবগোপাল মিত্রের তত্বাবধানে হিন্দুমেলার আয়োজন করা হয়, এই মেলা স্বদেশী মেলা বা জাতীয় মেলা নামেও পরিচিত ছিল।
হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্যে ছিল কেবলমাত্র আবেদন-নিবেদন নীতির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে যুবকদের শারীরিক সক্ষমতা গঠনের মধ্যে দিয়ে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও স্বদেশপ্রেমের বিস্তার ঘটানো। রাজনারায়ন বসু ও নবগোপাল মিত্র মনে করতেন ভারতীয় যুবকদের মধ্যে স্বদেশপ্রেমের বিস্তার ঘটানোর জন্য একটি সমিতি গঠন প্রয়োজনীয়। নবগোপাল মিত্র এই উদ্দেশ্যেই ‘জাতীয় পত্রিকা’ (National Paper) প্রকাশ করেন, জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতা অর্জনই ছিল এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এছাড়া হিন্দুমেলার অন্যতম উদ্দেশ্যগুলি ছিল হিন্দু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, প্রাচীন হিন্দুধর্মের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ও ঐক্যবদ্ধভাবে যুবসমাজকে স্বাধীনতা অর্জনে ও স্বদেশিকতায় উদবুদ্ধ করা।
হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশ বিরোধী মনোভাব জাগ্রত করেছিল?
জাতীয়তাবোধের জাগরণে হিন্দুমেলা কীরূপ ভূমিকা পালন করেছিল?
হিন্দুমেলা আত্মনির্ভরতা ও ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে যুবসমাজকে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। শরীরচর্চা, অশ্বচালনা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা-সাহিত্য-শিল্প-সংগীত-স্বাস্থ্য প্রভৃতির মাধ্যমে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে হিন্দুমেলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। সর্বোপরি, দেশীয় জিনিসের প্রদর্শনী, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, বক্তৃতার আয়োজন প্রভৃতিতেও হিন্দুমেলার সদস্যরা অগ্রণী ছিলেন। হিন্দুমেলার অধিবেশনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ও গীত ‘মিলে সবে ভারত সন্তান’ গানটি, বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল? হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশ বিরোধী মনোভাব জাগ্রত করেছিল?/জাতীয়তাবোধের জাগরণে হিন্দুমেলা কীরূপ ভূমিকা পালন করেছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল? হিন্দুমেলা কীভাবে উপনিবেশ বিরোধী মনোভাব জাগ্রত করেছিল?/জাতীয়তাবোধের জাগরণে হিন্দুমেলা কীরূপ ভূমিকা পালন করেছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন