জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

Souvick

Home » জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো। অথবা, জলের তড়িৎবিশ্লেষণে উৎপন্ন গ্যাসগুলিকে কীভাবে শনাক্ত করবে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো। অথবা, জলের তড়িৎবিশ্লেষণে উৎপন্ন গ্যাসগুলিকে কীভাবে শনাক্ত করবে?

জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো। অথবা, জলের তড়িৎবিশ্লেষণে উৎপন্ন গ্যাসগুলিকে কীভাবে শনাক্ত করবে?

জলের তড়িৎবিশ্লেষণ – যে পাত্রে জলের তড়িৎবিশ্লেষণ করা হয় তাকে ভোল্টামিটার বলে। এটি বিশেষ ধরনের একটি কাচের পাত্র, যার নীচের অংশ খোলা থাকে। প্রথমে ভোল্টামিটারের নীচের অংশটি রবারের ছিপি দিয়ে বন্ধ করা হয়। এখন দুটি তার ছিপির মধ্য দিয়ে পাত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পাত্রের ভিতরে এই তার দুটির সঙ্গে দুটি প্ল্যাটিনামের পাত লাগানো হয়। এই পাত দুটিকে তড়িদ্দ্বার বলে। এখন পাত্রটিতে বিশুদ্ধ জল দিয়ে ভরতি করে কয়েক ফোঁটা অ্যাসিড ঢালা হয়। এরপর দাগকাটা ও সম-আয়তনবিশিষ্ট দুটি টেস্টটিউব জলপূর্ণ করে তড়িদ্দ্বার দুটির ওপর উপুড় করে রাখা হয়। এইবার পাত দুটি থেকে নির্গত তার দুটির একটিকে ব্যাটারির ধনাত্মক মেরু এবং অপরটি ঋণাত্মক মেরুর সঙ্গে যোগ করা হয়। এখন জলের মধ্যে তড়িৎপ্রবাহ হবে এবং দেখা যাবে তড়িৎপ্রবাহ দ্বারা জল বিশিষ্ট হয়ে তড়িৎদ্বারে দুটিতে রাখা টেস্টটিউবের মধ্যে বুদবুদ আকারে গ্যাস জমা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে তড়িৎপ্রবাহ বন্ধ করলে দেখা যাবে যে, ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে সঞ্চিত গ্যাসের আয়তন ধনাত্মক তড়িৎদ্বারে সঞ্চিত গ্যাসের আয়তনের দ্বিগুণ হয়েছে।

ভোল্টামিটারে জলের তড়িবিশ্লেষণ

ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে সঞ্চিত গ্যাসের মধ্যে একটি জ্বলন্ত পাটকাঠি প্রবেশ করালে দেখা যাবে যে, পাটকাঠিটি নিভে গেল এবং গ্যাসটি নীল শিখায় জ্বলছে। এর দ্বারা বোঝা যায় গ্যাসটি হাইড্রোজেন।

ধনাত্মক তড়িৎদ্বারে সঞ্চিত গ্যাসের মধ্যে শিখাহীন জ্বলন্ত পাটকাঠি প্রবেশ করালে দেখা যাবে যে, পাটকাঠিটি উজ্জ্বল শিখাসহ জ্বলে উঠল। এর দ্বারা বোঝা যায় গ্যাসটি অক্সিজেন।

ব্যাখ্যা – সামান্য অ্যাসিডমিশ্রিত জলের অণুগুলির বেশিরভাগ বিয়োজিত হয়ে H⁺ এবং OH⁻ আয়নে পরিণত হয়।

H₂O ⇌ H⁺ + OH⁻

H⁺ আয়নগুলি ক্যাথোডে যায় এবং প্রত্যেকটি H⁺ আয়ন ক্যাথোড থেকে একটি করে ইলেকট্রন গ্রহণ করে H পরমাণুতে পরিণত হয়। পরে দুটি H পরমাণু যুক্ত হয়ে H₂ অণু গঠন করে এবং ক্যাথোডে সঞ্চিত হয়।

OH⁻ আয়নগুলি অ্যানোডে যায় এবং প্রত্যেক OH⁻ আয়ন একটি করে ইলেকট্রন বর্জন করে OH মূলকে পরিণত হয়। পরে এই OH মূলকগুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে জল এবং O₂ অণু গঠন করে ও অ্যানোডে সঞ্চিত হয়।

ক্যাথোড বিক্রিয়া – H⁺ + e⁻ → H; H + H → H₂↑
অ্যানোড বিক্রিয়া – OH⁻ – e⁻ → OH, 4OH → 2H₂O + O₂↑


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জলের তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি বর্ণনা করো। অথবা, জলের তড়িৎবিশ্লেষণে উৎপন্ন গ্যাসগুলিকে কীভাবে শনাক্ত করবে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের তাৎপর্য – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ