দশম শ্রেণি – বাংলা – অভিষেক – অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা অভিষেক কবিতাটি মহাকাব্য রামচরিত মানস-এর একাংশ। এই কবিতায়, রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিৎ তার পিতার অনুমতি নিয়ে রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাত্রা করেন।

Table of Contents

দশম শ্রেণি – বাংলা – অভিষেক - অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

মেঘনাদবধ কাব্য-র প্রথম সর্গের নাম কী?

মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ কাব্য-এর প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’।

প্রণমিয়া, ধাত্রীর চরণে, / কহিলা, – ইন্দ্রজিৎ কী বলেছিলেন?

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে নেওয়া আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার সুসংবাদ জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ধাত্রীমাতা প্রভাষার প্রমোদকাননে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা উত্তরিলা; – ‘অম্বুরাশি-সুতা’ কে এবং কেন তাঁর এমন নাম?

অম্বুরাশি শব্দের অর্থ জলরাশি, ‘সুতা’ শব্দের অর্থ কন্যা। সমুদ্রমন্থনের সময় জল থেকে লক্ষ্মীর উত্থান হয়েছিল বলে তাঁকে ‘অম্বুরাশি-সুতা’ বা সমুদ্রের কন্যা বলা হয়েছে।

ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা – ‘অম্বুরাশি-সুতা’ কার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে নেওয়া। ‘অম্বুরাশি-সুতা’ বা লক্ষ্মী ইন্দ্রজিতের ধাইমা প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা – কেন ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন?

অম্বুরাশি-সুতা অর্থাৎ লক্ষ্মী ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন তাঁকে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ দিয়ে যুদ্ধযাত্রায় উৎসাহ দিতে।

সসৈন্যে সাজেন আজি যুঝিতে আপনি। — কে সসৈন্যে সাজেন?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে। প্রিয়পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুতে শোকার্ত রাবণ সৈন্যদল-সহ যুদ্ধসাজে সেজে উঠছেন।

জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া; – এই বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?

রামচন্দ্রকে বধ করে ও খন্ড খন্ড করে কেটে ফেলার পরেও কে বীরবাহুকে হত্যা করল-তা ভেবেই ইন্দ্রজিৎ অবাক হয়েছেন।

কি কহিলা ভগবতি – ভগবতি কে?

আলোচ্য অংশে ‘ভগবতি’ হলেন ইন্দ্রজিতের ধাইমা প্রভাষার ছদ্মবেশে আসা দেবী লক্ষ্মী।

কে বধিল কবে / প্রিয়ানুজে? – ‘প্রিয়ানুজ’ কাকে বলা হয়েছে?

প্রিয়ানুজ বলতে এখানে ইন্দ্রজিতের ছোটো ভাই অর্থাৎ বীরবাহুকে বোঝানো হয়েছে।

ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী কোন্ সংবাদ নিয়ে এসেছিলেন?

ছদ্মবেশী লক্ষ্মী রাবণপুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং তাতে রাবণের শোকগ্রস্ত হওয়ার খবর নিয়ে এসেছিলেন।

এ অদ্ভুত বারতা, – কোন্ ‘বারতা’-র কথা বলা হয়েছে?

যে রামচন্দ্রকে ইন্দ্রজিৎ নিশা-রণে হত্যা করেছেন, তাঁর দ্বারাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন। এখানে ইন্দ্রজিৎকে দেবী লক্ষ্মীর দেওয়া এই সংবাদের কথাই বলা হয়েছে।

শীঘ্র কহ দাসে। – শীঘ্র কী বলতে বলা হয়েছে?

ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ দিতে এসেছেন মেঘনাদকে। লক্ষ্মী কোথা থেকে সেই মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন তা ইন্দ্রজিৎ শীঘ্র জানাতে অনুরোধ করেছেন।

রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী / উত্তরিলা; – ‘ইন্দিরা সুন্দরী’ কে?

ইন্দিরা কথাটি এসেছে ‘ইন্দ্’ ধাতু থেকে যার অর্থ ঐশ্বর্য। ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মীকেই তাই ‘ইন্দিরা সুন্দরী’ বলা হয়েছে।

যাও তুমি ত্বরা করি; – এই শীঘ্র যাওয়ার প্রয়োজন কী?

বীরবাহুর মৃত্যুর পরে লঙ্কাকে রক্ষা করতে ও রাক্ষসকুলের মান বজায় রাখতে ইন্দ্রজিৎকে শীঘ্র যুদ্ধে যেতে বলেছেন দেবী লক্ষ্মী।

রোষে মহাবলী / মেঘনাদ; – মেঘনাদ রুষ্ট হয়ে কী করেছিলেন?

লঙ্কার এই ভীষণ বিপদের মধ্যে নিজের ভূমিকায় রুষ্ট মেঘনাদ ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন, সোনার বালা খুলে দূরে ফেলে দিয়েছিলেন। তার কুণ্ডল পায়ের কাছে পড়েছিল।

পদতলে পড়ি শোভিল কুণ্ডল, – ‘কুণ্ডল’ শব্দের অর্থ কী?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। ‘কুণ্ডল’ শব্দের অর্থ কর্ণভূষণ অর্থাৎ কানের অলংকার।

হা ধিক্ মোরে! – বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?

শত্রুপক্ষের সৈন্য যখন লঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে তখন তিনি নারীদের সঙ্গে প্রমোদকাননে বিলাসে সময় কাটাচ্ছেন-এই ভেবেই ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন।

বৈরিদল বেড়ে / স্বর্ণলঙ্কা, – কাদের বৈরিদল বলা হয়েছে?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। এখানে রামচন্দ্র ও তাঁর সৈন্যবাহিনীকে লঙ্কাপুরী তথা রাক্ষসকুলের বৈরিদল বলা হয়েছে।

হেথা আমি বামাদল মাঝে? – কখন ইন্দ্রজিৎ এ কথা বলেছেন?

শত্রুপক্ষের সৈন্য যখন লঙ্কাপুরীতে আক্রমণ করে বীরবাহুকে হত্যা করে ফেলেছে তখন নিজের প্রমোদকাননে বিলাসমত্ত ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ইন্দ্রজিৎ এ কথা বলেছেন।

হেথা আমি বামাদল মাঝে? – ‘হেথা’ বলতে কোন্ স্থানের কথা বলা হয়েছে?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। ‘হেথা’ বলতে স্বর্ণলঙ্কার প্রমোদ উদ্যানকেই বোঝানো হয়েছে।

এই কি সাজে আমারে, – কী সাজে না বলে বক্তার মনে হয়েছে?

সহোদর বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এবং রামচন্দ্রের সৈন্যবাহিনী স্বর্ণলঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে। এরকম সময়ে তাঁর প্রমোদকাননে থাকা সাজে না বলে ইন্দ্রজিৎ মনে করেছেন।

হৈমবতীসুত কে?

হৈমবতীসূত বলতে পার্বতীর পুত্র কার্তিককে বোঝানো হয়েছে।

হৈমবতীসুত যথা – কীসের কথা এখানে বলা হয়েছে?

আলোচ্য অংশে দেবসেনাপতি কার্তিকের তারকাসুর বধের কথা বলা হয়েছে।

কিম্বা যথা বৃহন্নলারূপী/কিরীটী – ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটী’ কাকে বলা হয়েছে?

অভিষেক পদ্যাংশে উল্লিখিত ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ হলেন মহাভারতের অন্যতম বীর যোদ্ধা অর্জুন।

সাজিলা শূর শমীবৃক্ষমূলে। – শমিবৃক্ষ কোন্ গাছকে বলা হয়?

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশে উল্লিখিত শমিবৃক্ষ হল বাকল-জাতীয় গাছ।

বিরাটপুত্র সহ, উদ্ধারিতে/গোধন, – বিরাট কে এবং তার পুত্রগণের নাম লেখো।

মহাভারতের কাহিনি অনুসারে মৎস্য দেশের রাজা ছিলেন বিরাট, তাঁর তিন পুত্রের নাম শঙ্খ, শ্বেত এবং ভূমিঞ্জয় বা উত্তর।

উদ্ধারিতে/গোধন, – কে গোধন উদ্ধার করেছিলেন?

অর্জুন বিরাটপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে গোধন উদ্ধার করেছিলেন।

অর্জুন কোথায় যুদ্ধসজ্জা করেছিলেন?

মহাভারতের বিরাট পর্বে অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন অর্জুন বিরাটরাজের গোধন উদ্ধারের জন্য শমিবৃক্ষের মূলে দাঁড়িয়ে যুদ্ধসজ্জা করেছিলেন।

ধ্বজ ইন্দ্রচাপরূপী; — ‘ইন্দ্রচাপ’ কথার অর্থ কী?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। ‘ইন্দ্রচাপ’ কথার অর্থ হল দেবরাজ ইন্দ্রের ধনু।

হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী/ধরি পতি-কর-যুগ – প্রমীলার এই আচরণকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

স্বর্ণলতা যেভাবে বিশাল বনস্পতিকে জড়িয়ে রাখে, প্রমীলাও সেভাবেই স্বামী মেঘনাদের হাত জড়িয়ে ধরেছিলেন।

হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী, – ‘হেন কালে’ বলতে কোন্ সময়কে বলা হয়েছে?

বীরবাহুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য ইন্দ্রজিৎ যখন রথে চড়ে বসেছেন, সেই সময়কে বোঝাতেই ‘হেনকাল’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

তবু তারে রাখে পদাশ্রয়ে যূথনাথ। – ‘যুথনাথ’ শব্দের অর্থ কী?

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত অংশে উল্লিখিত ‘যুথনাথ’ শব্দের অর্থ হল হাতির দলের প্রধান।

ব্রততী বাঁধিলে সাধে করি-পদ, – ‘করি-পদ’ শব্দটির অর্থ কী?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। উল্লিখিত ‘করি-পদ’ শব্দটির অর্থ হল হাতির পা।

কে পারে খুলিতে/সে বাঁধে? – এখানে কোন্ বন্ধনের কথা বলা হয়েছে?

ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকারের শব্দ যেন গরুড় পাখির ডাকের মতোই গম্ভীর। শব্দের গভীরতা বোঝাতেই এই প্রসঙ্গ আনা হয়েছে।

কাঁপিলা লঙ্কা – লঙ্কার কেঁপে ওঠার কারণ কী?

ইন্দ্রজিতের ধনুকের প্রচণ্ড টংকারে লঙ্কাপুরী কেঁপে উঠেছিল।

উঠিছে আকাশে/কাঞ্চন-কম্বুক-বিভা। – কাকে ‘কাঞ্চন-কম্বুক- বিভা’ বলা হয়েছে?

বীরবাহুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে লঙ্কেশ্বর রাবণ যুদ্ধসাজে সেজেছেন। রাক্ষসবাহিনীর রেশমি পতাকার ঔজ্জ্বল্যকে এখানে ‘কাঞ্চন- কম্বুক-বিভা’ বলা হয়েছে।

নাদিলা কর্বূরদল – কেন ‘কর্বূরদল’ আওয়াজ করেছিল?

মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে সংগৃহীত উদ্ধৃতাংশে মেঘনাদকে দেখে উল্লসিত হয়ে মহাগর্বে সৈন্যদল আওয়াজ করেছিল।

নমি পুত্র পিতার চরণে, – পিতা ও পুত্র কে?

মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে নেওয়া আলোচ্য অংশে পিতা হলেন লঙ্কার রাজা রাবণ এবং পুত্র হলেন রাজপুত্র মেঘনাদ।

এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি। — কোন্ মায়া বক্তা বুঝতে পারছেন না?

মৃত্যুর পরেও রামচন্দ্র আবার কীভাবে বেঁচে উঠলেন-সেই মায়ার ছলনা বক্তা মেঘনাদ বুঝতে পারছেন না।

সমূলে নির্মূল/করিব পামরে আজি! – কাকে ‘পামর’ বলা হয়েছে?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। এখানে রামচন্দ্রকে ‘পামর’ অর্থাৎ পাপী বলা হয়েছে।

নতুবা বাঁধিয়া আনি দিব রাজপদে। — কে, কাকে রাজপদে এনে দিতে চেয়েছেন?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। মেঘনাদ রামচন্দ্রকে হয় বধ করে, নইলে বেঁধে এনে রাজপদে অর্থাৎ রাবণের পায়ের কাছে দিতে চেয়েছেন।

নাহি চাহে প্রাণ মম – বক্তার প্রাণ কী চায় না?

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশে আমরা দেখি, প্রাণঘাতী যুদ্ধে বারবার মেঘনাদকে পাঠাতে লঙ্কেশ্বর রাবণের প্রাণ চায় না।

বিধি বাম মম প্রতি। – বিধি কার প্রতি বাম?

অভিষেক কাব্যাংশে রাবণের কথানুযায়ী বিধি তাঁর প্রতি বিরুপ।

কে কবে শুনেছে, পুত্র, ভাসে শিলা জলে, – কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে রামচন্দ্রের মৃত্যুর পরে পুনর্জীবন লাভ প্রসঙ্গে এ ধরণের অবাস্তব কথা বলা হয়েছে।

উত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু, – ‘অসুরারি-রিপু’ কে?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। এখানে ‘অসুরারি-রিপু’ বলতে অসুরদের যারা শত্রু, তাদের শত্রু অর্থাৎ মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।

এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে। – এখানে কোন্ কলঙ্কের কথা বলা হয়েছে?

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে পুত্র ইন্দ্রজিৎ থাকতেও পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রাকেই বীরত্বের ক্ষেত্রে কলঙ্ক বলা হয়েছে।

হাসিবে মেঘবাহন; – ‘মেঘবাহন’ কে?

মেঘবাহন হলেন দেবরাজ ইন্দ্র। উল্লেখ্য যে, দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন মেঘ, তাই তাঁকে ‘মেঘবাহন’ বলা হয়।

হাসিবে মেঘবাহন; – ‘মেঘবাহন’-এর হাসার কারণটি কী?

ইন্দ্রজিৎ জীবিত থাকতেও রাবণ যুদ্ধযাত্রা করলে তা ‘মেঘবাহন’ অর্থাৎ ইন্দ্রের হাসির কারণ হবে।

আর একবার পিতঃ, দেহ আজ্ঞা মোরে; – এখানে কোন্ আদেশের কথা বলা হয়েছে?

মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্য উদ্ধৃতিতে রামচন্দ্রকে বধ করার জন্য রাবণের আদেশের কথা বলা হয়েছে।

দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে! – কার বাঁচার কথা এখানে বলা হয়েছে?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। এখানে রামচন্দ্রের বাঁচার অর্থাৎ রক্ষা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সিন্ধু-তীরে/ভূপতিত, – এখানে কীসের কথা বলা হয়েছে?

মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে সিন্ধুতীরে কুম্ভকর্ণের দেহ পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।

সিন্ধুতীরে কুম্ভকর্ণের দেহের পড়ে থাকাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশে সিন্ধুতীরে কুম্ভকর্ণের দেহের পড়ে থাকাকে বজ্রাঘাতে পড়ে থাকা গিরিশৃঙ্গ কিংবা তরুর পড়ে থাকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

আগে পুজ ইষ্টদেবে, – কেন ইষ্টদেবতাকে পুজো করার কথা বলা হয়েছে?

রামের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করতে চাইলে মেঘনাদের উচিত সবার আগে ইষ্টদেবতা অগ্নির পুজো করে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়া-এ কথাই বলেছেন রাবণ।

নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ কর, – ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞ’ কী?

রাক্ষসবংশের কুলদেবতার পূজাস্থান হল নিকুন্তিলা যজ্ঞাগার। এখানে মেঘনাদকে ইষ্টদেবতা অগ্নির পুজোর যজ্ঞ করতে বলা হয়েছে।

সেনাপতি-পদে আমি বরিণু তোমারে। – কে কাকে সেনাপতি পদে বরণ করেছিলেন?

লঙ্কার অধিপতি রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করেছিলেন।

দেখ, অস্তাচলগামী দিননাথ এবে; – এই উল্লেখের কারণ কী?

সূর্যের অস্ত যাওয়ার উল্লেখ করে রাবণ বোঝাতে চেয়েছিলেন যে দিনের সমাপ্তি ঘটেছে। পরদিন সকাল হলেই ইন্দ্রজিৎ যেন রাঘবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যায়।

প্রভাতে যুঝিও, বৎস, – প্রভাতে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে কেন?

ইন্দ্রজিৎ যখন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। রাতের বেলা যুদ্ধ করে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে রাবণ তাঁকে প্রভাতে যুদ্ধে যেতে বলেছেন।

অভিষেক, করিলা কুমারে। – কে, কার অভিষেক করলেন?

উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত। লঙ্কার রাজা রাবণ বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতিপদে অভিষিক্ত করলেন।

সেনাপতিপদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক হয়েছিল কীভাবে?

গঙ্গাজল ছিটিয়ে সেনাপতিপদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক হয়েছিল।

কে কবে শুনেছে পুত্র, ভাসে শিলা জলে, – বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?

রামচন্দ্রের পুনর্জীবন লাভের ঘটনায় রাবণের ধারণা জন্মেছে যে, বিধাতা তাঁর প্রতি বিরূপ, তাই তিনি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

অভিষেক কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি অনবদ্য রচনা। এই কবিতায় তিনি ইন্দ্রজিতের চরিত্রের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শকে তুলে ধরেছেন।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন