দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম (প্রবন্ধ) শ্রীপান্থ

শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধটি একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী রচনা। এতে তিনি একটি কালি কলমের সাথে তার নিজের জীবনের সংযোগ তুলে ধরেছেন।

লেখক ছোটবেলায় একটি কালি কলম কিনেছিলেন। সেই কলমটি ছিল তার কাছে খুবই প্রিয়। সেটি দিয়ে তিনি লেখালেখি করতেন, চিঠি লিখতেন, এবং তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন। কলমটি তার কাছে ছিল তার আবেগ এবং স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

একদিন লেখক কলমটি হারিয়ে ফেলেন। তিনি কলমটি খুঁজে পেতে অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু তা পান না। কলমটি হারানোর পর লেখক খুবই হতাশ এবং দুঃখিত হন। তিনি কলমটিকে আর কখনও ফিরে পাবেন না বলে বুঝতে পারেন।

রচনাটিতে লেখক কালি কলমের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি কলমটিকে একটি বন্ধু হিসেবে দেখেছেন। কলমটিকে হারানোর পর তিনি তার জীবন থেকে এক বিরাট কিছু হারিয়ে ফেলার অনুভূতি পেয়েছেন।

রচনাটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, কালি কলম শুধু একটি লিখন উপকরণ নয়, এটি আমাদের আবেগ এবং স্মৃতির সাথেও জড়িত। তাই, আমাদের কালি কলমের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত।

দশম শ্রেণি – বাংলা – হারিয়ে যাওয়া কালি কলম

প্রবন্ধকার পরিচিতি

ভূমিকা – জগতের এত বিষয়ে এত জ্ঞান খুব বেশি মানুষের আমি দেখিনি। – পণ্ডিত, সাহিত্যিক, বিদগ্ধ ব্যক্তি নিখিল সরকার সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন কবি-সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। কলকাতার সংস্কৃতি, প্রাচীন জীবনধারা সম্পর্কে দীর্ঘদিন গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন নিখিল সরকার। বাংলা সাহিত্য জগতে ‘শ্রীপান্থ‘ ছদ্মনামেই তিনি অধিক পরিচিত।

জন্ম ও শৈশব – ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর গ্রামে নিখিল সরকারের জন্ম হয়। শৈশবজীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল।

শিক্ষাজীবন – ময়মনসিংহতেই নিখিল সরকারের শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক হন।

কর্মজীবন – তরুণ বয়সে সাংবাদিকতা দিয়ে নিখিল সরকারের কর্মজীবনের সূচনা হয়। তিনি প্রথমে যুগান্তর পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারপর আনন্দবাজার পত্রিকা-র সম্পাদকীয় বিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি করেন। ‘পুস্তক পর্যালোচনা’ এবং প্রতি সোমবার ‘কলকাতার কড়চা’-এই দুটি বিষয় তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য কীর্তি।

সাহিত্যজীবন – সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়ই নিখিল সরকারের সাহিত্যপ্রতিভার বিকাশ ঘটে। আদি কলকাতার সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে তিনি দীর্ঘ লেখালেখি ও গবেষণা করেন। প্রবন্ধ আকারে তাঁর লেখাগুলি বিভিন্ন ইংরেজি পত্রিকাতেও প্রকাশিত হতে থাকে। লেখালেখির প্রতি গভীর আগ্রহ এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে শ্রীপান্থ বহু কবি-সাহিত্যিকের সান্নিধ্যে আসেন। তিনি বাংলায় প্রথম ধাতব হরফে ছাপা হ্যালহেডের আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ গ্রন্থটির সম্পাদিত সংস্করণের দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল- আজব নগরী (প্রথম গ্রন্থ), শ্রীপান্থের কলকাতা, যখন ছাপাখানা এলো, মোহন্ত এলোকেশী সম্বাদ, কেয়াবাৎ মেয়ে, মেটিয়াবুরুজের নবাব, দেবদাসী, ঠগী, হারেম, বটতলা।

পুরস্কার – নিখিল সরকার ১৯৭৮-এ আনন্দ পুরস্কার পান।

জীবনাবসান – ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে ৭৩ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যানসারে এই পণ্ডিত মানুষটির জীবনাবসান ঘটে।

উৎস

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধটি কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই রচনা থেকে গৃহীত।

বিষয়সংক্ষেপ

কালি-কলম-মন, লেখে তিন জন-প্রবাদটি প্রচলিত হলেও কলম ক্রমশ হারিয়ে গিয়েছে। লেখক লেখালেখির অফিসে কাজ করেন। লেখক ছাড়া সেখানে সবাই কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এমনকি কখনও ভালোবেসে তারা লেখকের লেখাটাও কম্পিউটারে লিখে দেন। কলম লেখকের নিত্যসঙ্গী। কখনও সেই কলম নিয়ে যেতে ভুলে গেলেই বিপদ। অফিসে কারও সঙ্গে কলম থাকে না। আবার কলম পেলেও তার মুখ ভোঁতা, ফলে লিখে তিনি শান্তি পান না। লেখালেখির অফিস হওয়া সত্ত্বেও কারও কাছে কলম থাকে না। তবুও কালগুণে তারা সবাই মুনশি।

লেখক গ্রামের ছেলে। শৈশবে বাঁশের কলম তৈরি করে তাঁর লেখাপড়ার শুরু। বড়োদের পরামর্শে কলমের মুখটা চিরে নিতেন, কারণ তাহলে কালি ধীর প্রবাহে পড়ত। কাগজের মতো করে কলাপাতা কেটে তাতেই তিনি লিখতেন। বাড়ির কাজ মাস্টারমশাইকে দেখানোর পর বাড়ি ফেরার পথে তা পুকুরে ফেলে দিতেন, কারণ সেই যুগে এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, বাড়ির বাইরে ফেললে গোরুতে খেলে অমঙ্গল বা পাপ হয়।

শৈশবে লেখক ও তাঁর সহপাঠীরা মা, পিসি, দিদিদের সাহায্যে বাড়িতেই কলমের মতো কালিও তৈরি করতেন। অতি সহজ পদ্ধতিতে বাড়িতে যে কাঠের উনুনে রান্না হত, সেই কড়াইয়ের তলার কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে, পাথরের বাটিতে গুলে লেখক ও তাঁর সহপাঠীরা কালি তৈরি করতেন। কখনও হরীতকী, আতপ চাল ভাজা পুড়িয়ে বেটে মিশিয়ে নিতেন। তারপর একটা খুন্তির গোড়ার দিক আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে সেই জলে ছ্যাঁকা দিতেন। জল কম থাকায় তা টগবগ করে ফুটত। সবশেষে ন্যাকড়া দিয়ে ছেঁকে দোয়াতে ভরে কালি প্রস্তুত করতেন। তবে প্রাচীনদের মত ছিল ভালো কালি তৈরির জন্য প্রয়োজন তিল, ত্রিফলা, শিমুল গাছের ছাল, ছাগলের দুধ ও লোহা। এভাবেই বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত, ঘরে তৈরি কালি, কলাপাতা দিয়েই লেখক ও তাঁর সহপাঠীদের প্রথম লেখালেখির কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কলম হাতছাড়া হওয়ার উপক্রমে লেখক ব্যথিত হয়েছেন।

লেখক ভেবেছেন, তিনি যদি জিশু খ্রিস্টের আগে জন্মাতেন বা মিশরে জন্মাতেন বা যদি সুমেরিয়ান, ফিনিসিয়ান হতেন, তাহলে নীল নদের তীর থেকে নলখাগড়া ভেঙে নিয়ে কলম বানাতেন। ফিনিসীয় হলে বনপ্রান্ত থেকে হাড় সংগ্রহ করে কলম বানাতেন। রোমের সম্রাট জুলিয়াস সিজার হলে ব্রোঞ্জের শলাকা বা স্টাইলাস হাতে তুলে নিতেন। চিনারা শুধু তুলিতে লিখেছেন, বাকি সকলেই বাঁশের, নলখাগড়ার, পাখির পালকের বা ব্রোঞ্জের শলাকা কলম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

যুগের পরিবর্তনে নানান রকমের কলম এসেছে। বাঁশের কলম আর খুঁজেই দেখা যায় না। খাগের কলম শুধু সরস্বতী পুজোর সময় ব্যবহৃত হয়। এমনকি পালকের কলম দেখতে গেলেও তৈলচিত্রেই শুধু তা দেখা যায়। যেমন, উইলিয়ম জোন্স বা মুনশি কেরি সাহেবের ছবিতে দেখা যায়। পালকের কলম বানানোর জন্য সাহেবরা পেনসিল শার্পনারের মতো একটা যন্ত্রও বানিয়েছিলেন।

পালকের কলম, দোয়াতকলম সবই এখন উধাও। অনেক অফিসে ডটপেনই দোয়াতকলম হিসেবে সাজানো থাকে। একসময় ফেরিওয়ালারাও কলম বিক্রি করত। ছোটোবেলায় লেখক দেখেছেন, এক দারোগাবাবু পায়ের মোজায় কলম গুঁজে রাখতেন। আধুনিক ছেলেরা বুকপকেটের বদলে কাঁধের ছোটো পকেটে কলম সাজিয়ে রাখে। শিক্ষিত মানুষ ছাড়াও কলম যে-কোনো মানুষেরই সঙ্গী হয়ে ওঠে। সর্বভোগ্য ও সর্বজনীন হওয়ার ফলে পকেটমারদের কাছেও কলম গুরুত্ব হারায়।

লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান নামক ব্যবসায়ী ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করে পেনের জগতে বিপ্লব আনেন। লেখক কলেজ স্ট্রিটের এক দোকানে ফাউন্টেন পেন কিনতে গিয়ে পার্কার, শেফার্ড, ওয়াটারম্যান, সোয়ান, পাইলট প্রভৃতি হরেক পেনের হরেকরকম দাম ও কারুকার্য দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। সেখান থেকে সস্তায় একটা জাপানি পাইলট পেন কিনে আনেন। দোকানদার অনেক কসরত করে পেনটার নিব কতটা শক্ত তা দেখান। ফাউন্টেন পেন সংগ্রহও একসময় নেশার মতো ছিল। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ, শরৎচন্দ্র প্রমুখের ফাউন্টেন পেন সংগ্রহের নেশা ছিল।

লেখক ছিলেন কালিকলমের ভক্ত। হাই স্কুলে ভরতির পর তিনি বাঁশের কলম ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কালি বানানোও তখন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় বাজারে কাজল, সুলেখা প্রভৃতি কালি কিনতে পাওয়া যেত। এরপর ফাউন্টেন পেন তার রকমারি বাহারি চেহারা নিয়ে ক্রমশ দোয়াত এবং কলমকে হটিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে কঞ্চির কলম, খাগের কলম, দোয়াতকলম, কালির আধার, ব্লটিং পেপার সব কিছু হারিয়ে যায়।

একবার সুভো ঠাকুরের দোয়াতের সংগ্রহ দেখে লেখক অবাক হয়েছিলেন। কাচের, কাট-গ্লাসের, পোর্সেলিনের, শ্বেতপাথরের, জেডের, পিতলের, এমনকি সোনারও দোয়াত হত। সেইসমস্ত দোয়াত দিয়েই অমর সাহিত্যিকরা তাঁদের সাহিত্য রচনা করেছিলেন। কলমের সেইসব সোনালি দিন ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে। ফাউন্টেন পেনের জায়গা নেয় বল-পেন। ফাউন্টেন পেন এবং বল-পেন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় আসে। বল-পেনের জোরের জায়গা হল তার কালির স্থায়িত্ব। আবার ফাউন্টেন পেনের অহংকার তার নিবের বৈচিত্র্য। যন্ত্রযুগ ধনী, দরিদ্র, শ্রুতিলেখক সবারই কলমের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত।

এরপর একসময় বাজারে আসে কম্পিউটার। কম্পিউটারের কারণে কলমের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে উঠেছে। একসময় বিশ্বের দরবারে লিপিকুশলীদের সম্মান ছিল, বই লেখার মূল্য কম হলেও তা অমূল্য ছিল। লেখক বা লিপিকররা তাঁদের বই নিয়ে গর্ব করতেন। কলমকে বলা হত তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।

ইতিহাসে পালকের কলমধারীদের সত্যিই কখনো-কখনো তলোয়ার হাতে লড়াই করতে হয়েছে। তাই অনেক পরিবর্তনের মাঝেও কাউকে কলম আঁকড়ে থাকতে দেখলে লেখকের ভালো লেগেছে। তাঁর সময়কালের অন্নদাশঙ্কর রায় বা সুভাষ মুখোপাধ্যায় টাইপরাইটারে লিখলেও বাকিরা কলমেই লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা সত্যজিৎ রায় কলমের সাহায্যেই তাঁদের শিল্পবোধকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। এঁদের দুজনেরই কলমের লেখা শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল।

লেখক স্বীকার করেছেন, তিনি কলমের ভক্ত হলেও আধুনিক বল-পেনের কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে কলম যে সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল, সেই করুণ কাহিনিও লেখক জানাতে ভোলেননি।

নামকরণ

সাহিত্যের নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রচয়িতার অভিপ্রায় রচনাটির নামের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। নামকরণ সাধারণত চরিত্রধর্মী, বিষয়ভিত্তিক বা ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে। আমাদের পাঠ্য ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটির নামকরণ কতদূর সার্থক, তা আলোচনাযোগ্য।

কালি-কলম-মন, লেখে তিন জন-অর্থাৎ, প্রাচীন কাল থেকেই মনের সঙ্গে কালি এবং কলমের সম্পর্ক। সময় এগিয়ে চলেছে নদীর স্রোতের মতো। বহমানতার যুগে মানুষ ক্রমশ যন্ত্রকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর ফলেই মানুষ মনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ছোটো ছোটো সামগ্রী হারাতে বসেছে। লেখক তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বলেছেন যে, তাঁর অফিসে সবাই কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী। একমাত্র তিনিই কলম ব্যবহার ছাড়তে পারেননি। এর ফলে একদিন যদি কোনও কারণে কলম নিয়ে যেতে ভুলে যাই তবেই বিপদ। -কলম! কারও সঙ্গে কলম নেই।

এই বিলাপ থেকেই স্পষ্ট যে কলম হারিয়ে যেতে বসেছে। শৈশবে লেখকরা যেভাবে বাঁশের কলম তৈরি করে ব্যবহার করেছেন এবং কড়াইয়ের নীচের কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে জলে গুলে যেভাবে কালি তৈরি করেছেন তা এখন স্মৃতির বিষয়। ফাউন্টেন পেন আসার পর কলম হয়ে ওঠে সস্তা এবং সবার প্রিয়। ক্রমশ ফাউন্টেন পেনের আধিপত্যকে হটিয়ে দিয়ে বাজার দখল করে বল-পেন। ইতিহাসের পাতায় চলে যায় বাঁশের পেন, খাগের পেন, পালকের পেন প্রভৃতি। হাতে তৈরি কালি, সুলেখা কালি, কালি শুকানোর ব্লটিং পেপার সব উধাও হয়ে যেতে থাকে। আক্ষেপের সুরে তাই লেখক বলেছেন, আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে। কম্পিউটার তাদের জাদুঘরে পাঠাবে বলে যেন প্রতিজ্ঞা করেছে। তাঁর আক্ষেপ বিষাদে পরিণত হয়েছে, কারণ তিনিও জানেন যে আধুনিকতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। তবুও শৈশবের সেই কালিকলম হারিয়ে যাওয়াকে তিনি মানতে পারেননি। তাই বিষয়ের সঙ্গে নামটি সাযুজ্যপূর্ণ এবং সংগতি লাভ করেছে। বিষয়ধর্মী নামকরণ হিসেবে রচনাংশটির নামটি তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক হয়েছে।

শ্রীপান্থের “হারিয়ে যাওয়া কালি কলম” প্রবন্ধটি একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী রচনা। এতে তিনি একটি কালি কলমের সাথে তার নিজের জীবনের সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। লেখক তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, কর্মজীবন এবং অবসর জীবনের বিভিন্ন ঘটনার সাথে কালি কলমের স্মৃতি মিশিয়ে দিয়েছেন। তিনি কালি কলমের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি কালি কলমের ইতিহাস এবং গুরুত্বের কথাও বলেছেন।

লেখক কালি কলমের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, কালি কলম কেবল একটি লেখার উপকরণ নয়, এটি একটি বন্ধু, একজন সহচর। কালি কলমের মাধ্যমে তিনি তাঁর মনের কথা, তাঁর অনুভূতি, তাঁর ভাবনা প্রকাশ করেছেন। কালি কলম তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

লেখক কালি কলমের অবলুপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কালি কলম আজ একটি বিলুপ্তপ্রায় দ্রব্য। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদির আগমনে কালি কলমের ব্যবহার কমে গেছে। তবে, লেখক মনে করেন, কালি কলমের গুরুত্ব আজও অপরিসীম। কালি কলমের মাধ্যমে লেখালেখি করা একটি আলাদা অনুভূতি। কালি কলমের মাধ্যমে লেখালেখি করলে মনে হয়, মনের কথা সরাসরি কাগজে ফুটে উঠছে।

“হারিয়ে যাওয়া কালি কলম” প্রবন্ধটি আমাদের কালি কলমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথেও কিছু কিছু জিনিসের গুরুত্ব কখনও কমে যায় না।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন