এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘সালটা 3589।’ – এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে কোন্ কোন্ নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা গল্পে বলা হয়েছে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ গল্পটি একটি কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি। আলোচ্য গল্পে 3589 সাল নাগাদ পৃথিবীতে কেমন অবস্থা তৈরি হতে পারে তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন লেখক। উক্ত সময়ে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ঘটবে পৃথিবীতে। যেমন – ওই সময়ের মধ্যে মাধ্যাকর্ষণ প্রতিরোধকারী মলম আবিষ্কৃত হবে, যার ফলে পৃথিবীতে নানারকম উড়ানযন্ত্র আবিষ্কারের হিড়িক পড়ে যাবে। মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ী টনিক আবিষ্কার করবে, সূর্যের আরও দুটি গ্রহ আবিষ্কৃত হবে এবং জানা যাবে যে সূর্যের আর কোনো গ্রহ নেই। ইতিমধ্যে চাঁদ, মঙ্গল, শুক্র গ্রহে মানুষ ল্যাবরেটরি স্থাপন করবে।
‘ওসব অনাবশ্যক ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না।’ – ‘অনাবশ্যক ভাবাবেগ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তাকে সত্যিই তোমার ‘অনাবশ্যক’ বলে মনে হয় কি?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘অনাবশ্যক ভাবাবেগ’ বলতে কিছু শিল্পসৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যেমন – কবিতা, গান, ছবি আঁকা, কথাসাহিত্য, নাটক, সিনেমা প্রভৃতির চর্চা।
আলোচ্য গল্পে লেখক 3589 সালের যে সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেই সময়ে মানুষ বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কিছুর চর্চাই করবে না হয়তো, তাই তাদের কাছে মনের আবেগের কোনো মূল্য থাকবে না। তাই শিল্পেরও কোনো মর্যাদা থাকবে না। কিন্তু আমার মনে হয় মনের আবেগ হারিয়ে গেলে পৃথিবীটা মরুভূমির মতোই রুক্ষ হয়ে পড়বে। পৃথিবীকে তথা মানুষকে তো বাঁচিয়ে রাখবে মনের আবেগ। কবিতা, গান, ছবি আঁকা প্রভৃতি চর্চা করলে, এগুলির মধ্যে মানুষ বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পাবে। তাই কবিতা, গান, আঁকা প্রভৃতির চর্চাকে ‘অনাবশ্যক’ মনে করি না।
‘চর্চার অভাবে মানুষের মনে আর ওসবের উদ্রেক হয় না।’ – মানুষের মন থেকে কোন্ কোন্ অনুভূতিগুলি হারিয়ে গেছে?
প্রশ্নোক্ত অংশটি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি ‘পাগলা গণেশ’ থেকে নেওয়া হয়েছে। মানুষের মন থেকে হারিয়ে গেছে সৌন্দর্য, দয়া-মায়া-করুণা প্রভৃতির অনুভূতি। এইসব অনুভূতিগুলির আর প্রয়োজন না থাকায়, মানুষের জীবনে এসবের চর্চাও আর হয় না।
‘ব্যতিক্রম অবশ্য এক আধজন আছে।’ – ব্যতিক্রমী মানুষটি কে? কীভাবে তিনি ‘ব্যতিক্রম’ হয়ে উঠেছিলেন?
প্রশ্নোক্ত অংশটি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ব্যতিক্রমী মানুষটি হলেন স্বয়ং পাগলা গণেশ।
গল্পে বর্ণিত 3589 সালেরও 150 বছর পূর্বে যখন ‘মৃত্যুঞ্জয় টনিক’ আবিষ্কৃত হয়, তখন অন্য অনেকের মতো গণেশও তার 50 বছর বয়সে তা পান করেন এবং তার আর মৃত্যু হয় না। প্রায় সমসময় থেকেই শিল্পবিরোধী আন্দোলনও শুরু হয়। মানুষের কাছে তখন থেকেই বিজ্ঞান হয়ে ওঠে চর্চার একমাত্র বিষয়। চর্চার বিষয় থেকে অনিবার্যভাবে বাদ পড়ে যায় সাহিত্য, শিল্প, সংগীত। বিষয়গুলিকে মানুষ অনাবশ্যক বলে বিবেচিত করে। সমকালীন ঘটনার এই গতিপ্রকৃতি গণেশের পছন্দ হয় না। বিজ্ঞানের বাড়াবাড়িরও যে একটা সীমা থাকা দরকার এ তার মনে হয়। তাই একক প্রচেষ্টায় কালের গতিকে উলটো দিকে ফেরানোর ব্যর্থ চেষ্টা না করে গণেশ আশ্রয় নেন সভ্যসমাজ থেকে দূরে হিমালয়ের গিরিগুহায়। একান্ত নির্জনে ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টায় গণেশ শুরু করেন কবিতাচর্চা, গান গাওয়া, ছবি আঁকার সাধনা। এভাবেই তিনি বেগের যুগে আবেগনির্ভরতার পথে, যুগবিরুদ্ধ কাজ করে ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠেন।
‘ও মশাই, অমন বিকট শব্দ করছেন কেন?’ – কার উদ্দেশে কারা এ কথা বলেছিল? কোন্ কাজকে তারা ‘বিকট শব্দ’ মনে করেছিল?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। কথাগুলি বলা হয়েছিল পাগলা গণেশের উদ্দেশে। দুটি পাখাওয়ালা লোক কথাগুলি বলেছিল।
পাগলা গণেশের গানের গলা ভালোই ছিল। একদিন সন্ধেবেলা তিনি গলা ছেড়ে গান গাইতে শুরু করেন। সেইসময় দুটো লোক আকাশযানে চড়ে লাসা থেকে ইসলামাবাদ উড়ে যাচ্ছিল, যেতে যেতে তাদের কানে পাগলা গণেশের গানের শব্দ পৌঁছোয়। তারা গণেশের গানের কোনো অর্থ বা আবেগ বুঝতে পারে না, তাই তারা বিরক্ত হয়। তাদের মনে হয় ওই গানের আওয়াজ বিকট শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থাৎ ব্যতিক্রমী মানুষ পাগলা গণেশের গলা ছেড়ে গান গাওয়াকেই মানুষরা মনে করে ‘বিকট শব্দ’।
‘গণেশ তাদের মুখশ্রী ভুলে গেছে।’ – গণেশ কাদের মুখশ্রী ভুলে গেছে? তাঁর এই ভুলে যাওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। গণেশের তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তাদের মুখশ্রী তিনি একেবারে ভুলে গেছেন।
গণেশ নিজে যেমন কৃতী মানুষ, তেমনই তার ছেলেমেয়েরাও প্রত্যেকেই এক-একজন কৃতী বিজ্ঞানী। বিগত 100 বছর ধরে ছেলেমেয়েদের দেখতে না পাওয়ার জন্যই পাগলা গণেশ ছেলেমেয়েদের মুখশ্রী ভুলে গেছেন।
‘গণেশকে সসম্ভ্রমে অভিবাদন করে বলল,’ – কে, কী বলেছিল? তার এভাবে তাকে সম্মান জানানোর কারণটি কী?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। একজন পুলিশম্যান গণেশকে সম্ভ্রমের সঙ্গে অভিবাদন জানিয়ে বলেছিল – তিনি যে পাহাড়ময় এত কাগজ ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তার কারণ কী? এটা কি নতুন কোনো বিষয়ে গবেষণা?
একদিন গণেশ যখন আপন মনে কবিতা লিখে বাতাসে ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আকাশ থেকে একটা পিপে মাটিতে নেমে আসে। তার মধ্য থেকে একজন পুলিশম্যান বেরিয়ে এসে গণেশকে ‘স্যার’ বলে অভিবাদন জানায়। গণেশ যখন কলকাতার সায়েন্স কলেজে মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স পড়াতেন, তখন তার ছাত্র ছিল ওই পুলিশম্যান। তাই মাস্টারমশাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সে সসম্ভ্রমে তাকে ‘স্যার’ অভিবাদন জানিয়ে সম্মান জানিয়েছে।
‘আমি পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’ – বক্তা কীভাবে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল? তার প্রয়াস শেষপর্যন্ত সফল হয়েছিল কি?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটির বক্তা হলেন গণেশ নিজেই। গণেশ ছবি এঁকে, কবিতা লিখে, গান গেয়ে পৃথিবীকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন।
গণেশের প্রয়াস যে শেষপর্যন্ত সফল হয়েছিল, গল্পশেষে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব গণেশের একক প্রচেষ্টার খবর পেয়ে তাঁর বিমান থেকে গণেশের ডেরায় নেমে যে উক্তি করেছিলেন, তাতেই সেই ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি বলেছিলেন – ‘লোকে গান গাইতে লেগেছে, কবিতা মকসো করছে, হিজিবিজি ছবি আঁকছে।’ অর্থাৎ গণেশের প্রয়াস যে ব্যর্থ হয়নি, তা নিঃসন্দেহে বোঝা যায়।
‘লোকটা অসহায়ভাবে মাথা নেড়ে বলল,’ – এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে কী বলল? তার অসহায়ভাবে মাথা নাড়ার কারণ কী?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের উদ্ধৃত অংশে ‘লোকটা’ অর্থাৎ পুলিশম্যানের কথা বলা হয়েছে, যে একসময় পাগলা গণেশের ছাত্র ছিল।
সে গণেশের কবিতা পড়ে অসহায়ভাবে মাথা নেড়ে বলল যে, সে কিছুই বুঝতে পারছে না। কোনোদিনই সে এ জিনিস পড়েনি এবং তাদের সময়ে শিক্ষানিকেতনে এসব পড়ানো হত না।
আসলে উক্ত পুলিশম্যানের আমলে শিক্ষানিকেতনে কবিতা পড়ানো হত না। ফলে কবিতার সঙ্গে পুলিশম্যানের কোনো সম্পর্কই ছিল না। গণেশের কবিতা পড়ে সে কিছুই বুঝতে পারেনি। গণেশের কবিতার ভাব বা আবেদন তার মাথাতেই ঢোকেনি। এই কারণেই সে অসহায়ভাবে মাথা নেড়েছিল।
‘তিনজন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে রইল।’ – এই তিনজন কারা? তাদের মুগ্ধতার কারণ কী?
প্রশ্নোক্ত অংশটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য অংশের তিনজন হলেন গণেশের প্রাক্তন ছাত্র পুলিশম্যান, পুলিশম্যানের মা এবং স্ত্রী।
পুলিশম্যান গণেশের কবিতা পাঠ করে কিছুই বুঝতে না পেরে চলে গেলেও পরের দিনই সে তার স্ত্রী এবং মা-কে নিয়ে আসে গণেশের কাছে, গণেশের কবিতা শোনার জন্য। গণেশ তাদের দেখে খুশি হয় এবং তাদের কবিতা শোনায়। তবে শুধু তাই নয়, গণেশ তাদের গান শোনায় এবং ছবিও দেখায়। গণেশের এই শিল্পকর্মে পুলিশম্যান, তার মা ও স্ত্রী মোহিত হয়ে পড়ে। তারা যেন কোনো অনাস্বাদিত বস্তুর রস আস্বাদন করতে থাকে। তাই তারা গণেশের কবিতা, গান শুনে এবং ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
পাগলা গণেশ গল্পে সভ্যতার কোন্ সমস্যার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে?
আলোচ্য ‘পাগলা গণেশ’ নামক কল্পবিজ্ঞানধর্মী গল্পে দেখা যায়, মানবসভ্যতা বিজ্ঞানের হাত ধরে সুদূর ভবিষ্যতে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানের বাড়াবাড়ি এবং মানবমনের সৃষ্টিশীলতার মৃত্যু হওয়ার সমস্যাটিকে ইঙ্গিতবাহী করে তোলা হয়েছে।
পাগলা গণেশ গল্পে যেসকল উড়ানযন্ত্রের উল্লেখ আছে সেগুলির পরিচয় দাও।
পাগলা গণেশ গল্পে মাধ্যাকর্ষণ প্রতিরোধী মলম আবিষ্কারের ফলে নানারকম উড়ানযন্ত্র আবিষ্কারের হিড়িক পড়ে যায়। সেগুলি হল-ডাইনিদের বাহন ডান্ডাওলা ঝাঁটার মতো, নারদের ঢেঁকির মতো, কার্পেটের মতো, কার্তিকের বাহন ময়ূরের মতো সব উড়ানযন্ত্র।
‘খামোখা সময় নষ্ট।’ – এমন ভাবনার কারণ কী?
ঘরে ঘরে মানুষ বিজ্ঞান নিয়ে এমন বুঁদ হয়ে আছে যে, প্রতি ঘরের প্রত্যেকেই কোনো-না-কোনো বিজ্ঞানী। ফলে বিজ্ঞান-চর্চা ছাড়া অন্য কোনো চর্চায় কেউ মাথা ঘামায়া না। কবিতা, গান, ছবি আঁকা, কথাসাহিত্য, নাটক, সিনেমা এসব নিয়ে মাথা ঘামানো মানে খামোখা সময় নষ্ট করা। কারণ চারদিকে বিজ্ঞানচর্চার মধ্যে এসব চর্চা কোনো কাজে লাগে না।
‘খেলাধুলোর পাটও চুকে গেছে।’ – কীভাবে বোঝা গেল?
বিজ্ঞানের চরমতম সাফল্য ও প্রসারের যুগেও খেলাধুলোর বল থাকতেই পারে, কেন-না বিজ্ঞান মস্তিষ্কের বিষয়, খেলাধুলো শরীরচর্চা ও বিনোদনের ব্যাপার। তবুও যখন ‘পাগলা গণেশ’ গল্পে 3589 সালের প্রেক্ষাপটে দেখা গেল – মানুষ বিজ্ঞানে বুঁদ, খেলাধুলোর সেরা-জনপ্রিয় আসরগুলি, অর্থাৎ অলিম্পিক-বিশ্বকাপ উঠে গেছে, তখনই বোঝা যায় খেলাধুলোর পাট চুকে গেছে।
‘আছে শুধু বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান।’ – পৃথিবীতে আর কী কী থাকার কথা?
বিজ্ঞান মানুষের কাজে এক আশীর্বাদস্বরূপ শক্তির উৎস সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানই যে মানুষের জীবনের একমাত্র বিষয়, তা কখনো হতে পারে না। মানবমনের সুকুমার শিল্পবোধের নান্দনিক প্রকাশ কবিতা-গান-কবির মতো বিষয়গুলিও তাই মানবসভ্যতার অঙ্গ হওয়ার কথা ছিল। সেইসঙ্গে ক্রীড়া ও দয়া-মায়া-করুণা-ভালোবাসার মতো আবেগ-অনুভূতিও থাকা জরুরি।
পাগলা গণেশের জীবনের প্রতি বিরক্তি কীভাবে গড়ে উঠেছিল?
পাগলা গণেশের বয়স যখন 50 তখন মৃত্যুঞ্জয় টনিক আবিষ্কার হয়েছিল। তা সেবন করায় সে অমর হয়ে যায়। আর 150 বছর আগে যে সুকুমার শিল্পবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তা পাগলা গণেশের পছন্দ হয়নি। এইভাবেই তার জীবনের প্রতি বিরক্তি গড়ে ওঠে।
ঢেঁকি থেকে নামা আর ভেলা থেকে নামা লোক দুটোর সঙ্গে গণেশের কী কথা হয়েছিল?
একটা ঢেঁকি আর একটা ভেলায় চড়ে আসা লোক দুটো গণেশের কাজের ফিরিস্তি থেকে জেনেছিল, গণেশ কবিতা লিখছে, কবিতার পাতা বাতাসে ভাসিয়ে দিচ্ছে-যদি কেউ কুড়িয়ে পায় আর পড়তে ইচ্ছে হয় তো পড়বে। এরপর লোক দুটো গণেশের কাজের প্রতি অবহেলার ভাব প্রকাশ করে।
‘একা সে পৃথিবীর গতি কিছুতেই উল্টে দিতে পারবে না।’ – গণেশের এরূপ ধারণা কেন হয়েছিল?
গণেশ কবিতা লিখে দুটো লোকের কাছ থেকে অবহেলা পেয়েছে, আর গান গাওয়ায় দুটো পাখাওয়ালা ভদ্রলোকের কাছ থেকে কথার খোঁচা খেয়েছে এবং ছবি খোদাই করতে গিয়ে এক ভদ্রমহিলার কাছ থেকে সে উপেক্ষা লাভ করেছে। তারপরেই তার মনে হয়েছে, পৃথিবীর গতিপ্রকৃতি সে একা উলটে দিতে পারবে না।
‘পৃথিবীর বাঁচবার ওষুধ।’ – পৃথিবীর কী অসুখ করেছে বুঝিয়ে দাও।
পৃথিবীর গভীর থেকে গভীরতর অসুখ এখন। এই অসুখে পৃথিবী বিষণ্ণ। বিজ্ঞানের বাড়াবাড়িতে গার্হস্থ্যধর্মের মায়া-মমতার সবরকম পথ নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে ফেরত পাওয়ার ওষুধ হল সুকুমার শিল্প। সুতরাং পৃথিবীর প্রকৃতপক্ষে গভীর অসুখ করেছে।
‘সালটা 3589।’ – সমসময়ের কেমন ছবি গল্পে ফুটে উঠেছে লেখো।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কল্পবিজ্ঞান-গল্প ‘পাগলা গণেশ’ -এর পটভূমিতে উল্লিখিত সালটি সুদূরতম 3589। স্বভাবতই কল্পনা করে নিতে হয় বিজ্ঞানের অকল্পনীয় উন্নতির যুগ সেটা। সে-যুগে মানুষ পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে ছাড়াও অন্য দুই গ্রহ মঙ্গল ও শুক্রে ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। আবিষ্কার করেছে সূর্যের আরও দুটি গ্রহ এবং নিশ্চিত হয়ে গেছে সূর্যের আর কোনো গ্রহ অনাবিষ্কৃত নেই। হাজার হাজার মানুষ মহাকাশের নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে আলোর চেয়েও দ্রুতগতির মহাকাশযানে 100-150 বছর আগে রওনা হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। কাছেপিঠে যাওয়া মানুষেরা ফিরবে ফিরবে করবে। তবে তাদের আসার সময়টি নিশ্চিত নয়। এ পৃথিবীতে মানুষ মরণশীল নয়। পুরাণ কালের মানুষেরা আজও জীবন্ত। তাই মহাকাশগামী মানুষেরা ফিরে এলে সেই আমলের লোকেদের দেখতে পাবে। নতুন মানুষেরও আর জন্ম হচ্ছে না, তাই নবজাতকের কান্নাও আর শোনা যায় না। ঘরে ঘরে বিজ্ঞানী, মানুষ বিজ্ঞানে বুঁদ হয়ে আছে।
‘বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো চর্চাই নেই।’ – বিজ্ঞান বিষয়টি কীভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে? বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো বিষয়গুলি কী কী?
পাগলা গণেশ নামক কল্পবিজ্ঞান গল্পে সালটি তখন 3589। অভাবনীয় উন্নতিতে বিজ্ঞান মানুষের মনের সবটুকু আবিষ্কার করে নিয়েছে। ঘরে ঘরে মানুষ এত বেশি বিজ্ঞান নিয়ে বুঁদ হয়ে আছে যে, ‘প্রতিঘরের প্রত্যেকেই কোনো-না-কোনো বিজ্ঞানের বিজ্ঞানী।’ তাই বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের বিজ্ঞানচর্চায় বিজ্ঞান বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চারদিকে শুধু বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান।
বিজ্ঞান ছাড়া অন্য যে যে বিষয়গুলি চর্চাহীন হয়ে পড়েছে, সেগুলির মধ্যে মূলত পড়ে কবিতা, গান, ছবি আঁকা, কথাসাহিত্য, নাটক, সিনেমা ইত্যাদি। এসব নিয়ে কেউ যেমন মাথা ঘামায় না, তেমনই কোনো কাজে লাগে না বলে এসব বিষয়কে মানুষ ‘অনাবশ্যক ভাবাবেগ’ বলে মনে করে। অন্যদিকে খেলাধুলোর পাটও চুকে গেছে। ‘অলিম্পিক’ ও ‘বিশ্বকাপ’ -এর মতো জনপ্রিয় ক্রীড়াবাসর অবলুপ্ত, দয়া-মায়া-করুণা-ভালোবাসা এসবের প্রয়োজন না থাকায় বা চর্চার অভাবে মানুষের মন থেকে এই আবেগ-অনুভূতিগুলিও মুছে গেছে।
‘তা বলে হিমালয় যে খুব নির্জন জায়গা তা নয়।’ – হিমালয়ের প্রসঙ্গ এল কেন? হিমালয়ও যে নির্জন জায়গা নয় তা কীভাবে প্রমাণিত হয়?
200 বছর বয়সি গণেশ বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে বিজ্ঞানের বাড়াবাড়িকেই ‘সভ্যতার সংকট’ বলে মনে করেছিলেন। তাই অনেক চেষ্টা করেও তিনি যখন দেখলেন কালের চাকার গতি উলটো দিকে ঘোরানো যাবে না, তখন তিনি সভ্যসমাজ থেকে দূরে থাকার জন্য হিমালয়ের এক গিরিগুহায় আশ্রয় নেন। তাই গল্পে হিমালয়ের প্রসঙ্গ এসেছে।
আপাতদৃষ্টিতে হিমালয়কে খুব নির্মল জায়গা বলে মনে হলেও গণেশ জানেন তা সহজ সত্য নয়। কেন-না তখন এভারেস্টের চূড়া চেঁছে সেখানে হয়েছে অবজার্ভেটরি। রূপকুণ্ডে বায়োকেমিস্ট্রির ল্যাবরেটরি তৈরি হয়েছে, নামকরা অনেক নির্জন জায়গাই এখন মানুষের চলাচলে নির্জনতা হারিয়েছে। কে টু, কাঞ্চনজঙ্ঘা, যমুনেত্রী, গঙ্গোত্রী, মানসসরোবর সব জায়গাতেই কোনো-না-কোনো গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমুদ্রতলেও চলেছে নানান পরীক্ষানিরীক্ষা। তাই পরিষ্কার বোঝা যায়, ভূপৃষ্ঠে-ভূগর্ভে-অন্তরীক্ষে কোথাও নিবিড়-নির্জনতা নেই।
‘যাঃ তাহলে আর ভয় নেই। দুনিয়াটা বেঁচে যাবে’ – কখন গণেশ নিশ্চিত হলেন দুনিয়াটা বেঁচে যাবে?
খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাগলা গণেশ’ নামক কল্পবিজ্ঞান গল্পে দেখা যায়, বিজ্ঞানের সর্বগ্রাসী কামড় থেকে গণেশ দুনিয়াটাকে বাঁচানোর চেষ্টায় রত। তাই তার এক সময়ের ছাত্র পুলিশম্যানের কাছে তার সহজ স্বীকারোক্তি – ‘আমি পৃথিবীটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’ হিমালয়ের নিভৃত কোলে তিনি কবিতা লেখেন, উদাত্ত কণ্ঠে গান গেয়ে থাকেন, পাথর কেটে ছবি আঁকেন। অনেকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলেও, ওই পুলিশম্যান একদিন তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে এসে গণেশের কবিতা শুনিয়ে নিয়ে গেল। পরদিন ওই পুলিশের সঙ্গে তার চার সহকর্মী গণেশের দ্বারস্থ হয় কবিতা-গান-ছবি বুঝতে। পরদিন আরও জনাদশেক ব্যক্তি উপস্থিত হয়। অবশেষে একদিন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব গণেশের ডেরায় এসে খেদ প্রকাশ করেন – ‘এ আপনি কী কাণ্ড করেছেন? পৃথিবী যে উচ্ছন্নে গেল!’ গণেশ জানতে পারলেন, লোকে আবার গান গাইছে, কবিতা চর্চা করছে, হিজিবিজি ছবি আঁকছে। তখনই গণেশ নিশ্চিত হলেন ‘দুনিয়াটা বেঁচে যাবে’।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের তৃতীয় অধ্যায়, ‘পাগলা গণেশ’ গল্পের কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন