ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো।

Rahul

Home » ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের নদনদী ও হ্রদসমূহ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো-মাধ্যমিক ভূগোল
ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো-মাধ্যমিক ভূগোল

ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো।

ভারতের সর্ববৃহৎ বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনাটি হল ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা যা পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থান সরকারের মিলিত প্রচেষ্টায় 1948 খ্রিস্টাব্দে গৃহীত হয় এবং 1951 খ্রিস্টাব্দে বাস্তবায়িত হয়।

পরিকল্পনা রূপায়ণ –

  1. এই পরিকল্পনা অনুযায়ী হিমাচলের ভাকরায় নদীর ওপর ভাকরা বাঁধ দেওয়া হয় – যার দৈর্ঘ্য 518 মিটার, প্রস্থ 305 মিটার এবং উচ্চতা 226 মিটার। এটি পৃথিবীর উচ্চতম বাঁধ। এই ভাকরা বাঁধের পশ্চাতে প্রায় 165 বর্গকিমি ক্ষেত্রমানবিশিষ্ট বিশাল গোবিন্দসাগর জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।
  2. হিমাচল প্রদেশের ভাকরা বাঁধের আরও 13 কিমি দক্ষিণে নাঙ্গালে শতদ্রুর ওপর আরও একটি নাঙ্গাল বাঁধ তৈরি করা হয়েছে যার দৈর্ঘ্য 314 মিটার ও প্রস্থ 112 মিটার।
ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ
ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ

পরিকল্পনার প্রভাব বা ফলাফল –

  1. ভাকরা বাঁধ থেকে ভাকরা প্রধান খাল এবং ভাকরা প্রধান শাখা খাল ও নাঙ্গাল বাঁধ থেকে 64 কিমি দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ খাল কাটা হয়েছে। এই পরিকল্পনার দ্বারা মোট 1100 কিমি দীর্ঘ খাল ও 3400 কিমি দীর্ঘ শাখাখাল কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই খালের মাধ্যমে প্রায় 15 লক্ষ হেক্টর জমি জলসেচের আওতায় আনা হয়েছে।
  2. এই পরিকল্পনার অধীনে ভাকরা, গাঙ্গুয়াল ও কোটলায় মোট চারটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যার উৎপাদন ক্ষমতা মোট 1,220 মেগাওয়াট, এর সাহায্যে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি প্রভৃতি রাজ্যে বিদ্যুৎ জোগান দেওয়া হয়।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প সম্বন্ধে আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের নদনদী ও হ্রদসমূহ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য করো।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের তাৎপর্য – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – একুশের কবিতা – বিষয়সংক্ষেপ