Madhyamik Bengali Question Paper 2017 With Answer

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়, পুরোনো বছরের প্রশ্ন ও উত্তর দেখা খুবই জরুরি। এই ব্লগ পোস্টে আমরা ২০১৭ সালের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করব। এর মাধ্যমে পরীক্ষার ধরন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রশ্নোত্তরের ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা।

Table of Contents

এই পোস্টটি তোমাদেরকে মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায় সে সম্পর্কে সাহায্য করবে। পুরোনো প্রশ্ন দেখে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করতে পারবে এবং প্রশ্নোত্তরের ধারণা পাবে। এছাড়াও, পরীক্ষার ফলাফল ভালো করার জন্য কৌশল শেখাবে।

পরীক্ষার জন্য নিয়মিত অনুশীলন এবং কঠোর পরিশ্রমই সেরা পথ। এই ব্লগ পোস্টটি পড়ে তোমরা মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে, এটাই আমাদের আশা।

Madhyamik Bengali Question Paper 2017 With Answer

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : (১×১৭=১৭)

 ১.১ গিরিশ মহাপাত্রের সাথে অপূর্বর পুনরায় কোথায় দেখা হয়েছিল —

(ক) পুলিশ স্টেশনে

(খ) জাহাজ ঘাটায়

(গ) রেল স্টেশনে

(ঘ) বিমান বন্দরে

উত্তর : (গ) রেল স্টেশনে

১.২ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল —

(ক) আট টাকা দশ আনা

(খ) আট টাকা আট আনা

(গ) দশ টাকা চার আনা

(ঘ) দশ টাকা দশ আনা

উত্তর : খ) আট টাকা আট আনা

১.৩ হোলির দিন দলের ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে এক রকম পোশাক দেখে কি করতে বলেছিল —

(ক) ছবি আঁকতে

(খ) হোলি খেলতে

(গ) কুস্তি লড়তে

(ঘ) ফুটবল খেলতে

উত্তর : (গ) কুস্তি লড়তে

১.৪ ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশ টি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

(ক) লোরচন্দ্রানি

(খ) পদ্মাবতী

(গ) সতীময়না

(ঘ) তহফা

উত্তর : (খ) পদ্মাবতী

১.৫ “প্রদোষ কালে ঝঞ্জা বাতাসে রুদ্ধশ্বাস,” — প্রদোষ কথার অর্থ —

(ক) সন্ধ্যা

(খ) ভোর

(গ) রাত্রি

(ঘ) দুপুর

উত্তর : (ক) সন্ধ্যা

১.৬ ইন্দ্রজিতের স্ত্রীর নাম —

(ক) ইন্দিরা

(খ) শর্মা

(গ) নিক্সা

(ঘ) প্রমিলা

উত্তর : (ঘ) প্রমিলা

১.৭ “সিজার যে কলমটি দিয়ে  কাসকাকে আঘাত করেছিল” — তার পোশাকি নাম —

(ক) রিজার্ভার

(খ) স্টাইলাস

(গ) পার্কার

(ঘ) পাইলট

উত্তর : (খ) স্টাইলাস

১.৮ নিজের হাতের কলমের আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল যে লেখকের, তাঁর নাম —

(ক) বনফুল

(খ) পরশুরাম

(গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

(ঘ) শৈলন্দাজ মুখোপাধ্যায়

উত্তর : (গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

১.৯ যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণীটি —

(ক) ইংরেজি ভাষায় দক্ষ

(খ) বাংলা ভাষায় দক্ষ

(গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে

(ঘ) ইংরেজি জানে এবং ইংরেজি ভাষায় অল্পাধিক বিজ্ঞান পড়েছে।

উত্তর : (গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে

১.১০ বিভক্তি —

(ক) সর্বদা শব্দের পূর্বে বসে

(খ) সর্বদা শব্দের পরে যুক্ত হয়

(গ) শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে

(ঘ) শব্দের পূর্বে আলাদাভাবে বসে

উত্তর : (খ) সর্বদা শব্দের পরে যুক্ত হয়

১.১১ ‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।‘ নিম্ন রেখো পদটি —

(ক) অপাদান কারক

(খ) কর্ম কারক

(গ) করণ কারক

(ঘ) অধিকরণ কারক

উত্তর : গ) করণ কারক

১.১২ কর্মধারয় সমাসের প্রাধান্য থাকে —

(ক) পূর্ব পদের অর্থের

(খ) পর পদের অর্থের

(গ) উভয় পদের

(ঘ) ভিন্ন অর্থ সমস্ত পদের

উত্তর : (খ) পর পদের অর্থের

১.১৩ ইশাবের  সঙ্গে কুস্তি লড়তে তো একেবারে গড়রাজি —নিম্ন রেখো পথে কোন সমাসের উদাহরণ?

(ক) অব্যয়ীভাব

(খ) নঞ তৎপুরুষ

(গ) বহুব্রীহি

(ঘ) কর্মধারয়

উত্তর : (খ) নঞ তৎপুরুষ

১.১৪ “এইটুকু কাশির পরিশ্রমে সে হাপাইতে লাগিল” —  বাক্যটি কোন শ্রেণীর?

(ক) সরল বাক্য

(খ) জটিল বাক্য 

(গ) যৌগিক বাক্য 

(ঘ) মিশ্র বাক্য

উত্তর : (ক) সরল বাক্য

১.১৫ যে বাক্য সাধারনভাবে কোন কিছুর বর্ণনা বা বিবৃতি  থাকে, তাকে বলা হয় —

(ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য

(খ) নির্দেশক বাক্য

(গ) আবেগ সূচক বাক্য

(ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্য

উত্তর : (খ) নির্দেশক বাক্য

১.১৬ যে বাক্য কর্ম কর্তা রূপে প্রতিমান হয় তাকে বলে —

(ক) কর্মবাচ্য

(খ) কর্তৃবাচ্য

(গ) ভাববাচ্য

(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

উত্তর : (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

১.১৭ “পাঁচ দিন নদীকে দেখা হয় নাই” —  এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?

(ক) কর্তৃবাচ্য

(খ) ভাববাচ্য

(গ) কর্মবাচ্য

(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

উত্তর : (খ) ভাববাচ্য

২. কমবেশি ২০ টি সব এর নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :  (১×১৯=১৯)

২.১ নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৪=৪)

২.১.১ তপনের গল্প পড়ে ছোট মাসে কি বলেছিল?

উত্তর : তপনের লেখা গল্পটির পুরোটা না পড়ে তার প্রশংসা করেন এবং গল্পটি কোথাও থেকে নকল করেছে কি না তা জিজ্ঞাসা করেন।

২.১.২ “এক একখানি পাতা সিরিয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল”। —উদ্দেশ্য ব্যক্তি কিসের পাতা জলে ফেলতে লাগলো?

উত্তর : ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ স্ত্রীকে বিরহবেদনাপূর্ণ যে পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী চিঠি লিখেছিল তা তার পকেটে ছিল। সেই চিঠিরই এক-একটি পৃষ্ঠা জলে ফেলছিল।

২.১.৩ “ইহা যে কত বড় ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল “।  ভ্রম’ টি কি?

উত্তর : পথের দাবী উপন্যাসের নামকরণের মূলে রয়েছে গদ্যাংশের নায়ক অপূর্বের ভ্রান্ত ধারণা। ফার্স্ট ক্লাস ট্রেনের যাত্রী হওয়ায় তিনি আশা করেছিলেন যে, কেউ তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে না এবং তিনি নির্বিঘ্নে রাতভর ঘুমিয়ে পরের দিন ভামো পৌঁছে যাবেন। কিন্তু বার বার তাকে ঘুম ভাঙানোতে তার এই ধারণা ভুল বলেই অপূর্ব অনুভব করে। এই ভ্রান্ত আশাকেই উপন্যাসে “ভ্রম” বলা হয়েছে।

২.১.৪ ‘অদল বদল’ গল্পটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন?

উত্তর : ‘অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

২.১.৫ জগদীশ বাবু তীর্থ ভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন?

উত্তর : জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য বিরাগীকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন।

২.২ নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৪=৪)

২.২.১ “শিশু আর বাড়িরা খুন হল” — ‘শিশু আর বাড়িরা খুন’ হয়েছিল কেন?

উত্তর : ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো’ যুদ্ধের করাল থাবার আঘাতে ‘শিশুরা আর বাড়িরা’ খুন হয়েছিল। যুদ্ধ এসে সব কিছু ধ্বংস করে। মানুষের স্বপ্ন-সৃজন-প্রেরণা সব কিছুই যুদ্ধে খুন। হয়। যেমন খুন হয় বসবাসের বাড়ি আর আত্মার আত্মীয় শিশুরা। যুদ্ধই তাদের খুন করে।

২.২.২ “আমাদের পথ নেই আর” — তাহলে আমাদের করণীয় কি?

উত্তর : যখন আমাদের, অর্থাৎ সর্বহারা মানুষদের, জীবনযাপনের পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসে, তখন আমাদের আরও বেশি সহমর্মিতা ও ঐক্যবদ্ধতার সাথে থাকা অপরিহার্য।

২.২.৩ “এসো যুগান্তরের কবি” — কবির ভূমিকাটি কি হবে?

উত্তর : কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগান্তের কবির কাছে মানহারা মানবী তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।

২.২.৪ “অস্ত্র ফেলো, অস্ত্র রাখো” — কোথায় অস্ত্র ফেলার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : কবি জয় গোস্বামীর “অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান” কবিতায়, তিনি অস্ত্রের ভয়াবহতা ও এর বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতার মূল বার্তা হলো অস্ত্রকে হাত থেকে নামিয়ে পায়ে রাখা।

২.২.৫ “দেখিয়া রূপের কলা/বিস্মিত হইল বালা/অনুমান করে নিজ চিতে।” ‘বালা’  কি অনুমান করেছিল?

উত্তর : সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা অনুযায়ী, অচেতন সুন্দরীকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা ধারণা করেছিলেন যে, হয়তো কোনো বিদ্যাধরী দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে পৃথিবীতে এসে পড়েছেন, অথবা সমুদ্রের ঝড়ে ভেসে এসে এই অবস্থায় পৌঁছেছেন।

২.৩  নিচের যে কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৩=৩)

২.৩.১ ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’— এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির কত দাম?

উত্তর : শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম আড়াই হাজার পাউন্ড।

২.৩.২ “আমরা ফেরার পথে কোনো পুকুরে তা ফেলে দিয়ে আসতাম।” — বক্তা কেন তা পুকুরে ফেলে দিতেন?

উত্তর : প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হোমটাস্কের জন্য ব্যবহৃত কলাপাতা পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতেন কারণ তা গোরুতে খেয়ে নিলে অমঙ্গল হবে।

২.৩.৩ বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম সম্বন্ধে কি বিধান দিয়েছিলেন?

উত্তর : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি এই বিধান দিয়েছিল যে, নতুন কোনো রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলায় ব্যবহার করা যাবে।

২.৩.৪ পরিভাষার উদ্দেশ্য কি?

উত্তর : প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর মতে, পরিভাষার উদ্দেশ্য ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং তার অর্থ সুনির্দিষ্ট করা।

 ২.৪ নিচে যে কোন আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৮=৮)

২.৪.১ ‘শূন্য বিভক্তি’ কাকে বলে?

উত্তর : যে শব্দ বিভক্তি পদের সাথে যুক্ত হয়ে শব্দকে পদে রূপান্তরিত করে, কিন্তু নিজে অপ্রকাশিত থাকে এবং মূল শব্দের কোন রূপ পরিবর্তন করে না, তাকে শূন্য বিভক্তি বলে।

২.৪.২ ‘অস্ত্র রাখো’ — নিম্ন রেখো পথটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় কর।

উত্তর : অস্ত্র = কর্মকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

২.৪.৩ নিত্য সমাস কাকে বলে?

উত্তর : নিত্য সমাস হল সেই সমাস যেখানে সমাসের অর্থ বোঝার জন্য ব্যাসবাক্য তৈরি করা যায় না, অথবা ব্যাসবাক্য তৈরি করতে হলে অন্য শব্দের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।

২.৪.৪ ‘চরণ কমলের ন্যায়’ — ব্যাসবাক্যটির সমাজবদ্ধ করে সমাসের নাম লেখ।

উত্তর : চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল। এটি হল উপমিত কর্মধারয় সমাস।

২.৪.৫ আমি গ্রামের ছেলে — বাক্যটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ চিহ্নিত কর।

উত্তর : আমি গ্রামের ছেলে — বাক্যটিতে উদ্দেশ্য হল ‘আমি’ এবং ‘গ্রামের ছেলে’ হল বিধেয়।

২.৪.৬ একটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের উদাহরণ দাও।

উত্তর : একটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য হল — দরজা বন্ধ করো।

২.৪.৭ কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের অন্তত একটি পদ্ধতি উল্লেখ কর।

উত্তর : কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের জন্য কর্তার সাথে ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ প্রয়োগ করতে হবে।

২.৪.৮ প্রযোজক কর্তার একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর :  শিক্ষিকা আমাদের ভূগোল পড়ান। ‘শিক্ষিকা’ হল প্রযোজক কর্তা। এক্ষেত্রে ‘শিক্ষিকা’ নিজে ক্রিয়া সম্পাদন না করে ‘আমাদের’ দিয়ে তা করাচ্ছেন। তাই ‘শিক্ষিকা’ হল প্রযোজক কর্তা।

২.৪.৯ অসিত বাবু আর +কোন প্রশ্ন করলেন না — প্রশ্ন বাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর : অসিতবাবু আর কোনো প্রশ্ন করলেন কি?

২.৪.১০ ‘এ কার লেখা?’ কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন করো।

উত্তর : এ কে লিখেছে?

৩. প্রসঙ্গ নির্দেষসহ কমবেশি সাতটি শব্দের নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (৩+৩=৬)

 ৩.১ নিচের যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৩×১=৩)

৩.১.১ হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি কিভাবে মাস্টার মশাই কে বোকা বানিয়েছিলেন? (১+২)

উত্তর : স্থান – হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়েছিলেন।

মাস্টারমশাইকে বোকা বানানো – দয়ালবাবুর লিচু বাগানে হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরেছিলেন। ছেলেরা তাঁকে সত্যিকারের পুলিশ বলেই মনে করেছিল এবং ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল। তারপর সেই ছেলেগুলির স্কুলের মাস্টারমশাই সেখানে এসে নকল পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে, তাকে আট আনা ঘুষ দিয়েছিলেন। ঘুষ পাওয়ার পর তবেই নকল পুলিশ হরিদা সেই চার জন ছেলেকে ছেড়েছিলেন। হরিদা এভাবেই মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন।

৩.১.২ “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে ।” — কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে সে কি বোঝাতে চেয়েছে? (১+২)

উত্তর :  উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – উদ্ধৃত অংশে নদেরচাঁদের বুঝতে পারার কথা বলা হয়ছে।

নদেরচাঁদের মতামত – প্রবল বৃষ্টির কারণে পাঁচ দিন অদর্শনের পরে নদীর উন্মত্ত রূপ দেখে নদেরচাঁদ চমকে ওঠে। তার মনে হয় নদী যেন খেপে গেছে। নদেরচাঁদ উপলব্ধি করে, নদীর ওপর তৈরি রং করা নতুন ব্রিজ, নদীর বাঁধ যেন নদীর প্রবাহের পথে প্রবল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী সেসব ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়। নদী যেন উদ্দামতার মধ্য দিয়ে তার বিদ্রোহের প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

৩.২ নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৩×১=৩)

৩.২.১ “আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরের করতে ছেদন!“ — উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখ। (১+২)

উত্তর : স্বাধীনতা ও সমাজ রূপান্তরের জন্য কবি নবীন বিপ্লবীশক্তির আগমন প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রলয়ের মধ্য দিয়ে ধ্বংসের রূপ ধরে তার আবির্ভাব ঘটছে। কিন্তু সেই ধ্বংসের মধ্যেই রয়েছে সৃষ্টির সম্ভাবনা। ভাঙার মধ্য দিয়েই গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকে। ধ্বংস যদি না-ই হয়, তবে সৃষ্টি কোনোদিন সম্ভবপর এ হয়ে উঠতে পারে না। চিরসুন্দরের এভাবেই আবির্ভাব ঘটে। তাই নবীনের এরূপ ধ্বংস-উন্মাদনা আসলে জীবনবিমুখ অসুন্দরকে দূর করার জন্য।

৩.২.২ “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিষময় মানিয়া;” — কাকে মহাবাহু বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কি? (১+২)

উত্তর : আলোচ্য অংশে রাবনপুত্র ইন্দ্রজিৎকে মহাবাহু বলা হয়েছে।

প্রমোদকাননে, দেবী লক্ষ্মী হাজির হন রাক্ষসপতি ইন্দ্রজিতের কাছে। দুঃখিত মুখে তিনি ইন্দ্রজিতকে জানান বীরবাহুর মৃত্যুর কথা। রামের হাতে বীরবাহুর এই মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিতের মনে অবিশ্বাসের ঝড় বয়ে যায়। কারণ, মাত্র আগের রাতেই রণক্ষেত্রে তিনি রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছিলেন। তাই রামের দ্বারা বীরবাহুর নিহত হওয়ার খবর তার কাছে অসম্ভব ও অবিশ্বাস্য মনে হয়। লক্ষ্মীর বর্ণনা শুনে ইন্দ্রজিতের মনে ‘অদ্ভুত’ বোধ জাগ্রত হয়। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “এ কি করে সম্ভব? আমি তো রামকে পরাজিত করেছি! তাহলে রাম কীভাবে বীরবাহুকে হত্যা করল?” লক্ষ্মী তখন ইন্দ্রজিতকে যুদ্ধের বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেন। রামের অলৌকিক শক্তি ও বীরত্বের কথা শুনে ইন্দ্রজিত হতাশ ও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। রামের প্রতি তার প্রতিশোধের আগুন আরও প্রখর হয়ে ওঠে।

এই ঘটনা রামায়ণের যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বীরবাহুর মৃত্যু রাক্ষসদের জন্য এক বিরাট ক্ষতি এবং রামের অগ্রগতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

৪. কম বেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৪.১ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে ,কিন্তু শখ ষোলআনায় বজায় আছে।” — বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও। (১+৪)

উত্তর : বাবুটির পরিচয় – এখানে বাবুটি বলতে শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ রচনাংশের অন্যতম চরিত্র গিরীশ মহাপাত্রের কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় – গিরীশ মহাপাত্রের বয়স ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়। বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে তাকে থানায় ধরে আনা হয়। রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া লোকটি কাশতে কাশতে ভিতরে প্রবেশ করে। কাশির দমক দেখে মনে হয়েছিল তার আয়ু আর বেশিদিন নেই। মাথার সামনে বড়ো বড়ো চুল থাকলেও ঘাড় ও কানের কাছে চুল প্রায় ছিল না। আর চুল থেকে বেরোচ্ছিল লেবুর তেলের উগ্র গন্ধ। এর সঙ্গে মানানসই ছিল তার পোশাকও। গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। তার বুকপকেট থেকে বাঘ-আঁকা একটি রুমালের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছিল। পরনে ছিল বিলাতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। পায়ে সবুজ রঙের ফুলমোজা যেটা হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা। পায়ে ছিল বার্নিশ করা পাম্পশু, যার তলাটা আগাগোড়া লোহার নাল বাঁধানো। আর হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া একগাছি বেতের ছড়ি।

৪.২ জগদীশ বাবুর বাড়ি হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল তা বর্ণনা কর। (৫)

উত্তর : বিরাগীর পোশাক – জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী হরিদার খালি গায়ে ছিল সাদা উত্তরীয় আর পরনে ছিল সাদা ছোটো থান। তার পা ছিল ধুলোমাখা আর সঙ্গে ছিল একটা ঝোলা। সেই ঝোলার মধ্যে একটি গীতা রাখা ছিল। বিরাগী হরিদাকে দেখে জগদীশবাবু চমকে ওঠেন।

বিরাণীর বক্তব্য –জগদীশবাবুকে বিরাগী বলেন যে তিনি নিজের সম্পত্তি আর অর্থের অহংকারে নিজেকে ভগবানের থেকেও বড়ো বলে মনে করেন। জগদীশবাবু বিরাগীকে রাগ করতে বারণ করায় বিরাগী জবাব দেন যে তিনি বিরাগী, রাগ নামে তাঁর কোনো রিপুই নেই। বিরাগীকে জগদীশবাবু তাঁর বাড়িতে থাকার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু বিরাগী তাঁকে বলেন ধরিত্রীর মাটিতেই তাঁর স্থান, তাই তিনি এই দালান বাড়িতে থাকবেন না।

খাবার গ্রহণ না করা – খাওয়ার কথা বলা হলে তিনি কোনো কিছু স্পর্শ না করে শুধু এক গ্লাস ঠান্ডা জল খান।

মোহমুক্তির বাণী – বিরাগী জগদীশবাবুকে মোহমুক্ত হওয়ার কথা বলে জানান ধন, যৌবন সব কিছুই বঞ্চনাস্বরূপ। যাকে পেলে সৃষ্টির সব ঐশ্বর্য পাওয়া যাবে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার উপদেশ দিয়ে বিরাগী চলে যান। নির্লোভ

মানসিকতা – তীর্থভ্রমণের জন্য জগদীশবাবু বিরাগীকে একশো এক টাকা দিতে চাইলে বিরাগী সেই টাকা নেননি। সন্ন্যাসীর মতে, তিনি যেমন ধুলো মাড়িয়ে যেতে পারেন তেমনই অনায়াসে সোনা, টাকা এইসব মাড়িয়েও চলে যেতে পারেন। এই বলে সন্ন্যাসী সেখান থেকে চলে যান।

৫. কম বেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৫.১ “হায় ছায়াবৃতা” — ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কি? তার সম্পর্কে কবি কি বলেছেন সংক্ষেপে লেখ। (১+৪)

উত্তর : ছায়াবৃতা বলার কারণ – নিবিড় অরণ্যঘেরা পরিবেশে আফ্রিকার অবস্থান, সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছোতে পারে না। তাই আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে।

কবির বক্তব্য – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটিতে কবি যেন আফ্রিকার জন্মলগ্নের ইতিহাসটি তুলে ধরেছেন। ঘন অরণ্যঘেরা ভূখণ্ডে আফ্রিকার জন্ম। তাই কবি বলেছেন ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’ কথাটি। অরণ্য এত ঘন যে, সূর্যের আলোও সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। তাই ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুর’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

আফ্রিকার জন্মলগ্নে ভৌগোলিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল। সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর নিজের খেয়ালে ভাঙাগড়ার কাজ করেন। তাঁর সন্তোষের ওপর নির্ভর করে সৃষ্টির স্থায়িত্ব। না হলে তিনি অধৈর্য হয়ে নতুন সৃষ্টিকে ধ্বংস করে আবার গড়তে থাকেন। বিধাতার এই ঘনঘন মাথা নাড়ার দিনে ভয়ংকর সমুদ্রের বাহু প্রাচী পৃথিবীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এভাবেই নতুন ভূখণ্ড হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশের জন্ম হয়। ভৌগোলিক দিক থেকে আফ্রিকার অবস্থান নিরক্ষীয় অঞ্চলে। এই কারণে অঞ্চলটি ঘন অরণ্যে ঘেরা। সূর্যের আলো এখানে পৌঁছোতে পারে না। প্রকৃতি যেন বাধার প্রাচীর গড়ে তুলে আফ্রিকাকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। এই প্রসঙ্গেই কবি আলোচ্য উদ্ধৃতিটি করেছেন।

৫.২ “যেখানে ছিল শহর/সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা।” — ’অসুখী একজন’ কবিতায় অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কিভাবে হলো লেখ।(৫)

উত্তর : কথামুখ – যুদ্ধ মানেই ধ্বংস আর রক্তাক্ততা। পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতাতেও শিশু আর বাড়িদের খুন হওয়ার ছবি যুদ্ধের ভয়াবহ চরিত্রকেই তুলে ধরে।

যুদ্ধের তাণ্ডব – যুদ্ধ এসেছিল রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতো। সমস্ত সমতল জুড়ে আগুন ধরে গেল। আর তার আগ্রাসনে পুড়ে গেল সবকিছু। শিশুমৃত্যু ঘটল, মানুষের বাসস্থান ধ্বংস হল, ছারখার হয়েগেল সাজানো পৃথিবী। মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে পড়ল শান্ত হলুদ দেবতার মূর্তি। তারাও আর স্বপ্ন দেখতে পারল না। অর্থাৎ যুদ্ধের আগুনে যেন পুড়ে গেল মানুষের ঈশ্বরবিশ্বাসও। অথচ এরাই হাজার হাজার বছর ধরে শান্তির প্রতীক হয়ে মন্দিরে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। যুদ্ধের আগুনে পুড়ে গেল কবির ফেলে আসা সাধের বাড়িঘর, বারান্দায় টাঙানো ঝুলন্ত বিছানা, বাগান, চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ।

স্মৃতিচিহ্ন – যেখানে শহর ছিল সেখানে পড়ে থাকল শহরের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিছু কাঠকয়লা আর দোমড়ানো লোহা। ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকল পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা।

সাক্ষী হয়ে থাকা – জমাট রক্তের কালো দাগ হত্যালীলা এবং ধ্বংসস্তূপের সাক্ষী হয়ে থেকে গেল।

৬. কমবেশি ১৫০ শব্দে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৬.১ “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” — এই বাধা দূর করতে লেখক কি কি পরামর্শ দিয়েছেন তা আলোচনা কর।(৫)

উত্তর : প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী রাজশেখর বসু তার একটি বাংলা ভাষার বিজ্ঞান প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথে সম্ভাব্য বাধাগুলি বিশ্লেষণ করেছেন। এই প্রবন্ধে, তিনি সাতটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করেছেন –

ইংরেজি ভাষার প্রভাব – যারা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজিতে বিজ্ঞান পাঠ করেছেন তাদের জন্য বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা বেশ কঠিন হতে পারে। ইংরেজি ভাষার প্রভাবে অনেক বিজ্ঞানী বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক ধারণা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারেন না।

পারিভাষিক শব্দের অভাব – বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, বাংলা ভাষায় এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব রয়েছে। এর ফলে বিজ্ঞান বিষয়ক ধারণা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে অসুবিধা হয়।

সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানবোধের অভাব – পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানবোধ তুলনামূলকভাবে কম। সামান্য বিজ্ঞানবোধ না থাকলে বিজ্ঞানভিত্তিক রচনা বোধগম্য হয় না।

লেখার ভাষাগত দুর্বলতা – অনেক লেখকের ভাষা আড়ষ্টতা ও ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদের প্রবণতা রচনাকে অস্পষ্ট ও অসাবলীল করে তোলে।

পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়ার প্রবণতা – কিছু লেখক ভুল ধারণায় পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে রচনাকে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেন। এর ফলে বিষয়বস্তুর স্পষ্টতা নষ্ট হয়।

অলংকার ব্যবহারের অভাব – সৃষ্ঠিশীল অলংকার, উপমা ও রূপক ছাড়া অন্যান্য অলংকার ব্যবহার না করলে বিজ্ঞানভিত্তিক রচনা রুক্ষ ও নিরাস্যকর হয়ে ওঠে।

ভুল তথ্য পরিবেশন – অনেক লেখক না জেনে বা সামান্য জেনে ভুল তথ্য পরিবেশন করে বাংলা বিজ্ঞান সাহিত্যকে দূষিত করেন।

রাজশেখর বসু বিশ্বাস করেন যে, এই বাধাগুলি অতিক্রম না করতে পারলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ত্রুটিহীন হওয়া সম্ভব নয়। তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

৬.২ ‘ফাউন্টেন পেন’ বাংলায় কি নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে ?ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো। (১+১+৩)

উত্তর : ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম – ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম ঝরনা কলম।

বাংলা নামকরণ – শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় নামটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্ম-ইতিহাস – পণ্ডিতদের মতে, কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব ঘটিয়েছে ফাউন্টেন পেন। কিন্তু এর জন্ম-ইতিহাসটি বেশ চমকপ্রদ।

  • আবিষ্কারক – এর আবিষ্কারক লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। তিনি এই নতুন ধরনের কলম তৈরি করে অফুরন্ত কালির ফোয়ারা খুলে দিয়েছিলেন।
  • চুক্তিপত্র সই – সেকালের আরও অনেক ব্যবসায়ীর মতো তিনিও দোয়াতকলম নিয়ে কাজে বের হতেন। একবার তিনি গিয়েছেন আর-একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করতে। দলিল কিছুটা লেখা হয়েছে এমন সময় দোয়াত হঠাৎ উপুড় হয়ে কাগজে পড়ে গেল। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ছুটলেন কালির সন্ধানে। ফিরে এসে শোনেন, ইতিমধ্যে অন্য একজন তৎপর ব্যবসায়ী সইসাবুদ শেষ করে চুক্তিপত্র পাকা করে গেছেন।
  • প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া – এই ঘটনায় বিমর্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, এর একটা বিহিত করতেই হবে। অর্থাৎ এমন একটা পদ্ধতির খোঁজ করতে হবে যেখানে কলমের সঙ্গে কালির দোয়াত নিয়ে ঘুরতে হবে না। তারপরই আবিষ্কার করলেন ফাউন্টেন পেন।
  • নবযুগের প্রতিষ্ঠা – দোয়াতের যুগের অবসান ঘটিয়ে কালক্রমে এই ফাউন্টেন পেন লেখালেখির নবযুগের প্রতিষ্ঠা ঘটাল।

৭. কমবেশি ১২৫ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৪×১=৪)

৭.১ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদ্দৌলার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।(৪)

উত্তর :

  • কথামুখ – ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজের চরিত্রে একাধিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন-
  • জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমী – নবাব সিরাজ বাংলার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলার দুর্দিনে তাঁর চরমতম শত্রু মীরজাফর প্রমুখের প্রতি তিনি একত্রে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
  • অসাম্প্রদায়িক – সিরাজের দেশাত্মবোধ ছিল অসাম্প্রদায়িক। বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানদের নয়, মিলিত হিন্দু-মুসলমানদের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা। এই অসাম্প্রদায়িকতা ছিল তাঁর দেশপ্রেমের স্বরূপ।
  • জাতীয়তাবাদী – সিরাজদ্দৌলা বাংলার মানমর্যাদা রক্ষার একজন অতন্দ্র সৈনিক। সাম্প্রদায়িকতামুক্ত জাতীয়তাবোধই সিরাজকে ইতিহাসের নায়ক করেছে।
  • উদার ও আদর্শবাদী – সিরাজের চরিত্রের মধ্যে উদারতা ও আদর্শের এক অদ্ভুত সমন্বয় ছিল। মাতৃভূমির স্বাধীনতারক্ষার জন্য ব্যক্তিগত শত্রুতাকে তিনি ভুলে যেতে পেরেছিলেন। এমনকি ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভের পরে নিজে বিচারের মুখোমুখি হতে বা সিংহাসন ছেড়ে দিতেও তিনি রাজি ছিলেন।
  • যন্ত্রণাদীর্ণ ও হতাশাগ্রস্ত – আদর্শের আড়ালে অবশ্য আর-এক সিরাজকে পাওয়া যায়, যিনি সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত। সিরাজ বেগম লুৎফাকে বলেছেন- মানুষের এমনি নির্মমতার পরিচয় আমি পেয়েছি যে, কোনো মানুষকে শ্রদ্ধাও করতে পারি না, ভালোও বাসতে পারি না। আদর্শের বলিষ্ঠতা আর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার দ্বন্দ্বে হতাশায় এভাবেই দীর্ণ হয়েছেন সিরাজদ্দৌলা।

৭.২ “কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা” — কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে? একথা বলার কারণ কি? (১+৩)

উত্তর : উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর রাজসভায় উপস্থিত ইংরেজদের প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশে প্রশ্নোদ্ধৃত কথাটি বলেছেন।

আলোচ্য কথাটি বলার কারণ – ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং নবাব সিরাজের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘আলিনগরের সন্ধি’ অনুযায়ী, ইংরেজরা কোনোমতেই নবাবের বিরুদ্ধে কোনোরকম যুদ্ধযাত্রা বা যুদ্ধের আয়োজন করবে না। কিন্তু, সিরাজের হাতে কলকাতার অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের একটি পত্র এসে পৌঁছোয়। এই পত্রের মাধ্যমে সিরাজ জানতে পারেন যে, অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের নেতৃত্বে তাঁর বিরুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিমধ্যেই সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আরও সৈন্য ও নৌবহরের কথা ভাবছে। তিনি এও জানতে পারেন, বহুদিন আগে থেকেই স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধযাত্রার ছক কষেছিলেন এবং পরিকল্পনামাফিকই আলিনগরের সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করতে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন। সর্বোপরি, নবাবের রাজসভায় উপস্থিত কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসও এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। তাই ক্রুদ্ধ ও ক্ষুদ্ধ সিরাজ ওয়াটসকে প্রকাশ্য রাজসভায় এ কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

৮. কমবেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×২=১০)

৮.১ কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও।(৫)

উত্তর :

  • শুরুর কথা – মতি নন্দীর কোনি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি। উপন্যাসে তাদের দারিদ্র্যপীড়িত পারিবারিক জীবনের করুণ কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
  • অভাবী সংসার – পিতার মৃত্যুর পর কোনির দাদা কমল তাদের সংসারের হাল ধরেছে। একটা গারেজে মাসে দেড়শো টাকা মাইনেতে কমল কাজ করে। এই সামান্য আয়েই মা আর ভাই-বোনদের মুখে সে খাবার তুলে দেয়।
  • বাসস্থান – থাকার জন্য উপযুক্ত ঘরও কোনিদের নেই। একটামাত্র তক্তাপোশ, তাতেও তোশক নেই। শুধু চিটচিটে ছোটো কয়েকটা বালিশ। দেয়ালের দড়িতে টাঙানো জামা-প্যান্ট। তাদের খোলার চালের ঘরে একটিমাত্র জানালা। তার নীচে থকথকে পাঁকে ভরা নর্দমা।
  • দারিদ্র্যের চাপ – কমল নিজেও স্বপ্ন দেখত একদিন সে বড়ো সাঁতারু হবে। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর দারিদ্র্যের চাপে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সে জানে কোনির ভিতর লুকিয়ে আছে প্রতিভা। কিন্তু সাধ থাকলেও কমলের সাধ্য নেই। দু-বেলা দু-মুঠো খাবার জোগাড় করাই তারপক্ষে কঠিন। কঠিন রোগে আক্রান্ত কমলের লড়াইও মৃত্যুতে শেষ হয়ে গিয়েছে।
  • রোজগারহীন সংসারে সাহায্যের হাত – সম্পূর্ণ রোজগারহীন কোনিদের সংসারে এরপর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ক্ষিতীশ। ‘প্রজাপতি’ দোকানে কাজ করে কোনি পায় চল্লিশ টাকা। অপরদিকে ছাঁট কাপড় কেটে কোনির মায়ের সামান্য আয় হয়। এভাবেই দারিদ্র্যকে নিত্যসঙ্গী করে নিয়ে কোনিদের সংসার চলতে থাকে।

 ৮.২ ক্ষিদ্দা কিভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা কর।(৫)

উত্তর :

  • নির্দেশক ও অনুপ্রেরণা – গঙ্গার ঘাট থেকে মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার ভিকট্রি স্ট্যান্ড পর্যন্ত কোনির যে যাত্রা সেখানে ক্ষিদ্দাই কোনির প্রথম ও প্রধান নির্দেশক ও অনুপ্রেরণা।
  • অনুশীলনের ব্যবস্থা – ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন করানোর জন্য কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই অনুশীলনে সাঁতারের বিভিন্ন কৌশল ক্ষিতীশ কোনিকে শিখিয়েছিলেন। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ-টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনির প্র্যাকটিস চলত।
  • ছকে বাঁধা জীবন – ক্ষিতীশ কোনির জীবনযাত্রাকে একটা ছকে বেঁধে দিয়েছিলেন। কোনি কখন কী কী খাবে সেই ব্যাপারেও ক্ষিতীশ নিয়ম জারি করেছিলেন। কোনিকে প্রতিদিন দুটো ডিম, দুটো কলা এবং দুটো টোস্ট খাওয়ার কথা ক্ষিতীশ বলেন। এগুলি কোনিকে খেতে দেওয়ার বদলে আরও এক ঘণ্টা কোনির জলে থাকতে হবে বলে ক্ষিতীশ জানান।
  • অমানুষিক পরিশ্রম – লোভ দেখিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করিয়ে নেওয়া অন্যায় জেনেও যন্ত্রণা আর সময় দুটোকেই হারানোর জন্য ক্ষিতীশ এমনটা করেছিলেন। কোনি টিফিনের বদলে টাকা চাইলে ক্ষিতীশ আর কোনির মধ্যে বোঝাপড়া হয়। ক্ষিতীশ কোনিকে নানা উদাহরণ দিয়ে তাকে উজ্জীবিত করেন।
  • সফলতা অর্জন – ক্ষিতীশই দেয়ালে ‘৭০’ লিখে টাঙিয়ে দিয়ে কোনির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দিনের পর দিন কোনির এই কঠোর অনুশীলনই তাকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যায়।

৮.৩ “জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকাই পড়ে এসেছে আমার কাছে” — কোনির এই অভিমান এর কারণ কি? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা কর। (২+৩)

উত্তর :

কোনির অভিমানের কারণ –

  • চক্রান্তের শিকার – মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় কোনি বাংলা দলে সুযোগ পেলেও আসল সময়ে তাকে চক্রান্ত করে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
  • অবহেলার পাত্রী – ট্রেনে যাত্রা থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত সবাই কোনিকে অবহেলার চোখে দেখেছে। বাংলার সম্মান বাঁচানোর জন্য দায়ে পড়ে ৪×১০০ মিটার রিলে প্রতিযোগিতায় কোনিকে নামতে বলা হল সে অভিমানে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।

পরবর্তী ঘটনা –

  • চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন – মাদ্রাজে প্রতিযোগিতার শেষ বিষয় ছিল ৪×১০০ মিটার রিলে। মহারাষ্ট্র তখন তিন পয়েন্টে এগিয়ে। বাংলাকে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করতেই হবে। নাহলে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন সফল হবে না। অমিয়া অসুস্থ থাকার জন্য বিকল্প সাঁতারু হিসেবে কোনির ডাক পড়ে।
  • শেষ ভরসা – বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করার শেষ ভরসা হয়ে ওঠে কোনি। কিন্তু বঞ্চনা আর অবহেলায় অভিমানী কোনি জলে নামতে চায় না।
  • অপমানের জবাব – এই সময় হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোর্টিং’ বলে অপমান করলে কোনির মাথায় জেদ চেপে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে, চোয়াল শক্ত করে কোনি নেমে পড়ে জলে। মহারাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাঁতারু রমা যোশির ঝাঁপ দেওয়ার তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে ঝাঁপ দেয়। তবুও তীব্র মনোবল আর হৃদয়ে পুষে রাখা অভিমানকে সম্বল করে কোনি রমা যোশিকে পিছনে ফেলে দেয়। ক্ষিতীশের মরিয়া চিৎকার ‘ফাইট, কোনি ফাইট’ শেষপর্যন্ত সত্যে পরিণত হয়। কোনির গলায় ওঠে সোনার মেডেল, তা যেন সমস্ত অপমানের জবাব।

৯.  চলতি গদ্যে বঙ্গানুবাদ কর : (৪×১=৪)

One day a dog stole a piece of meat from a butcher shop. He was crossing over a bridge. Suddenly, he saw his own shadow in the water. He thought that there was another dog and he had a bigger piece of meat.

উত্তর : একদিন একটি কুকুর কসাইয়ের দোকান থেকে এক টুকরো মাংস চুরি করল। তিনি একটি সেতু পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ সে পানিতে নিজের ছায়া দেখতে পেল। তিনি ভাবলেন যে অন্য একটি কুকুর আছে এবং তার কাছে একটি বড় মাংস রয়েছে।

১০. কমবেশি ১৫০ শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

১০.১ নারী স্বাধীনতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা কর।(৫)

উত্তর :

সুমিতা – আজ নাকি বিশ্ব নারী দিবস?

দীপা – মনে হয়, তাই-ই। সেইজন্য আমাদের পাড়ার ক্লাবে অনুষ্ঠান হচ্ছে।

সুমিতা – কী হয় বল তো নারী দিবস পালন করে? নারীরা তো গৃহকোণে বন্দি। কবে তারা সংসারের জেলখানা থেকে মুক্তি পাবে?

দীপা – মুক্তির পথ হল লেখাপড়া শেখা। আজও মেয়েদের চলাফেরার রাস্তা মসৃণ নয়। অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ-সব জায়গায় তারা পুরুষের অধীন।

সুমিতা – কিন্তু নারীকে স্বাধীনতা না-দিলে তো সমাজ কখনও এগোবে না। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন – এই বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,/অর্ধেক তার সৃজিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

দীপা – সে-কথা আর কে মানে বল! স্বামী বিবেকানন্দও তো বলেছেন – ভারতের দুর্দশার অন্যতম কারণ হল নারীজাতির প্রতি অবহেলা।

সুমিতা – তবে আমার মতে, নারীকেই বেরিয়ে আসতে হবে পুরুষের কারাগার থেকে। শিক্ষা ও সাহসে পুরুষের সমকক্ষ হতে হবে। অংশগ্রহণ করতে হবে বিভিন্ন সামাজিক কাজে।

দীপা – তবে বর্তমানে দেশের প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ আবশ্যিক হয়েছে। বিশেষ সংরক্ষণব্যবস্থা নারীকে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে।

সুমিতা – তবুও নারী দুর্বল। একজন পুরুষ ট্রেনে-বাসে নির্ভয়ে একা একা যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু নারীর পক্ষে তা সম্ভব নয়। খবরের কাগজ খুললেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দীপা – আমার মনে হয়, পাড়ায় পাড়ায় নারীবাহিনী গড়ে তুলে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পণপ্রথা যে আজও বেঁচে আছে, তার কারণ নারীর দুর্বলতা। নারী বিদ্রোহিনী হয়ে উঠলে এই প্রথারও অবলুপ্তি ঘটবে।

সুমিতা – তাহলে চল, আমরা স্কুলজীবন থেকেই শপথ নিই, দেশ ও দশের কাজে পুরুষের মতো আমরাও অংশগ্রহণ করব। পুরুষতন্ত্র বলে কিছু মানব না। আমাদের একটাই ‘তন্ত্র’ হবে-সেটি হল ‘মানবতন্ত্র’।

দীপা – চল, তাহলে আজ থেকেই এই ভাবনা নিয়ে জীবনযাত্রা শুরু করি।

১০.২ কোনো গ্রামীন এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন হলো — এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।(৫)

উত্তর :

বলরামপুর গ্রামে সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন: গ্রামবাসীদের সুখের দিন শুরু!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বলরামপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিষ্ণুপুর ১ নং ব্লকের অন্তর্গত বলরামপুর গ্রামে গতকাল স্থানীয় বিধায়ক শ্রী সুকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরকারি হাসপাতালের উদ্বোধন হয়েছে। এই হাসপাতাল গ্রামবাসীদের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর আগে এলাকায় কোন সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল না।

স্বাস্থ্যসেবায় দূরত্ব কমে আসছে: পূর্বে, গ্রামবাসীদের চিকিৎসার জন্য বারুইপুর সদর হাসপাতালে যেতে হত, যা অনেক দূরে অবস্থিত। দূরত্ব এবং যানবাহনের অসুবিধার কারণে, অনেক অসুস্থ রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যেতেন। নতুন হাসপাতালটি স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা: নতুন সরকারি হাসপাতালটিতে মোট দশটি শয্যা রয়েছে এবং এতে পাঁচজন ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজনে রাতের বেলা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও পাওয়া যাবে। হাসপাতাল ভবনটি আধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে নির্মিত এবং এতে রোগীদের জন্য সকল প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় বাসিন্দা হাবুল মন্ডল বলেন, “এই হাসপাতালটি আমাদের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ। এবার থেকে আমাদের অসুস্থ হলে দূরে যেতে হবে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এই দরকারী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

আশা করা হচ্ছে এই নতুন সরকারি হাসপাতাল বলরামপুর গ্রাম ও আশেপাশের এলাকার মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।

১১. কমবেশি ৪০০ শব্দে যেকোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা কর : (১০×১=১০)

১১.১ বাংলার ঋতু বৈচিত্র

উত্তর :

বাংলার ঋতু বৈচিত্র

“তপস্বিনী কী তপস্যা করে অনুক্ষণ
আপনারে তপ্ত করে, ধৌত করে, ছাড়ে আভরণ
সূর্য প্রদক্ষিণ করি ফিরে সে পূজার নৃত্যতালে
ভক্ত উপাসিকা।”

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা – সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ঋতুতে ঋতুতে পৃথিবী পালটে ফেলে তার রূপ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতের বিচিত্র দোলনায় দুলে দুলে এগিয়ে চলেছে নতুন দিনের দিকে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বেশে সেজে উঠে সে যেন বন্দনা করে চলে প্রাণপুরুষ সূর্যকে। কখনও তার বুক আগুন-গরম, শুষ্ক, কখনও বা হিমস্নিগ্ধ, কখনও আবার কুসুম-কোমল। জলঙ্গির ঢেউয়ে ভেজা এই সবুজ করুণ দেশ-বাংলায় এই মনোরম ঋতুবৈচিত্র্যকে অসামান্য সৌন্দর্যে উপলব্ধি করা যায়।

গ্রীষ্ম – বাংলা পঞ্জিকার প্রথম কয়েকটা পাতাকে আগুনের হলকায় রক্তিম করে তোলে যে ঋতু, তার নাম গ্রীষ্ম। মরুভূমির দহন জ্বালা আদি-অন্ত ভূমিকে করে তোলে দগ্ধ, লেলিহান চিতা শুষে নেয় জীবজগতের প্রাণরস। মাঝে মাঝে বৈশাখী বিকেলে হানা দেয় ঝড়, কেশরফোলা সিংহের মতো ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। দস্যুর মতো ছুটে আসে মাতাল হাওয়া, আলুথালু ডালপালা, উপুড় হয়ে পড়া বনস্পতিকে ভিজিয়ে দিয়ে যায় একপশলা বৃষ্টি।

বর্ষা – গ্রীষ্মের রুদ্রলীলার পর মেঘে মেঘে আকাশ ঢেকে আসে বর্ষা। বর্ষার আবির্ভাবে মন গলা ছেড়ে গেয়ে উঠতে চায় –

“এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা,
গগন ভরিয়ে এসেছে ভুবন ভরসা।”

নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায় সংবৃত অম্বর, বাঁধনহারা মাঠে শস্যের শ্যামহিল্লোল, ব্যাঙের ডাক, ভিজে হাওয়া-সবাই মিলে পূর্ণ করে দেয় বর্ষা প্রকৃতির নিটোল চিত্রটাকে। এ যেন নজরুল কথিত সেই দৃশ্য – ‘সুন্দরের চোখে চোখভরা জল’। ফুল ফোটার সময়-কেয়া-কদম্ব-গন্ধরাজের গন্ধবাহারে মেতে ওঠবার সময় বর্ষা। কিন্তু মাঝে মাঝে অতিবৃষ্টি ডেকে আনে প্রলয়ংকরী বন্যা। তবু বলা যায় বর্ষা আবেগের ঋতু, হৃদয়ের শুষ্ক ধারাপথে জলসিঞ্চনের ঋতু।

শরৎ – বর্ষার বিরহের পর শরৎ আসে আলোয় ধোওয়া দিন, আর জ্যোৎস্নামাখা রাত্রি নিয়ে। আকাশে ভেসে বেড়ায় বর্ষণক্লান্ত সাদা মেঘ, নদীতীরে কাশফুলের মেলা, শিশিরকণায় আলোর ছটা। শিউলির সুবাসে, পুজোর আবহে নেচে ওঠে হৃদয়। একসময় বিদ্যালয়ে ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে, প্রবাসীদের ঘরে ফিরিয়ে এনে, পূজাবার্ষিকীর নতুন গন্ধের আমেজ বেয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজো। তারপর একে একে আসে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। উৎসবের মাস আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যায়। শরৎ বিদায় নেয়।

হেমন্ত – হেমন্তের মুখ ঢাকা কুয়াশার চাদরে। সে যেন একাকী পড়ছে জীবনের কোনো ধূসর পান্ডুলিপি। শীতের অল্প ছোঁয়ায়, তার বুকে যেন কোনো গহন বিষাদছায়া। তবু হেমন্ত ভরে দিয়ে যায় বাংলার শস্যভাণ্ডারকে। মাঠে মাঠে সোনার ধান গেয়ে ওঠে নবান্নের গান। আসন্ন শীতের শূন্যতার আগে হেমন্ত পূর্ণ করে যায় জীবনের ভাঁড়ার।

শীত – গাছেরা পাতাহারা, প্রাণীকুল মৃত্যুহিম জড়ত্বে কম্পমান। চারিদিকে যেন শূন্যতার একচ্ছত্র সাম্রাজ্য। তবে বর্তমানে বাংলার শীত আর অত রিক্ত নয়। বরং গ্রীষ্মপ্রধান এই দেশে শীত বয়ে নিয়ে আসে কর্মচাঞ্চল্য। মনোরম আবহাওয়ায় আর দুপুরবেলার মৃদু রোদ-শিকারের উদ্যোগে বাংলার শীতকালকে বেশ উপভোগ্যই বলা যায়।

বসন্ত – শীতের রেশ কাটিয়ে বসন্ত আনে প্রমত্ত প্রাণের প্রমুক্ত উল্লাস। পলাশ-কৃষ্ণচূড়া আগুন ধরিয়ে দেয় দিগন্তে-দিগন্তে। বসন্ত উচ্ছ্বাসের ঋতু, নবীন প্রাণকে বিশ্বের আনন্দ সুধায় পূর্ণ করে নেওয়ার ঋতু।

উপসংহার – ঋতু আসে, ঋতু যায়। আমাদের অতি গাণিতিক মগজকেও অল্পস্বল্প বিচলিত করে পালটে যায় প্রকৃতির রূপ-রং। বর্ষায় মন উদাস হয়ে যায়, শীতে স্থবির। উত্থান-পতনের বন্ধুর পথ বেয়ে ঋতুর জপমালা হাতে নিয়ে আমরা যেন বন্দনা করি নিখিল প্রাণপুরুষকে।

১১.২ তোমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র

উত্তর : 

তোমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র

ভূমিকা – জীবনের সীমায়িত পরিধিতে যে কয়টি স্থানে আমি ভ্রমণ করেছি, তার মধ্যে আমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হল মুরশিদাবাদের হাজারদুয়ারি। ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের এমন মনোরম স্থান পশ্চিমবঙ্গের আর কোথাও নেই। পশ্চিমবঙ্গে যে কয়টি পর্যটন কেন্দ্র বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়, হাজারদুয়ারি তাদের মধ্যে গাম্ভীর্যে এবং গৌরবে অতুলনীয়।

অবস্থান – মুরশিদাবাদ জেলার বহরমপুর মহকুমার অন্তর্গত লালবাগে এই ঐতিহাসিক সৌধটি অবস্থিত। ভাগীরথীর পূর্ব পাড়ে এই সৌধটির সংলগ্ন ইমামবাড়াও প্রাচীনত্বে মহনীয়। সিরাজ-উদ্দৌলার মৃত্যুর পর হুমায়ুন জা হাজারদুয়ারি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে। এখানে নবাবি আমলের বহু নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। এটি মূলত একটি সংগ্রহশালা। এই হাজারদুয়ারির নিকটবর্তী স্থানে আছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কাঠগোলা বাগান, জগৎশেঠের বাড়ি, নবাব বংশের সমাধিস্থল, মীরজাফরের বাড়ি, কাটরা মসজিদ, মতিঝিল, খোসবাগ ইত্যাদি। নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার স্মৃতি বুকে নিয়ে এই জায়গাগুলি বহু পর্যটকের সংবেদকে আকর্ষণ করে চলেছে। ভাগীরথীর পূর্ব পাড়ে খোসবাগে আছে আলিবর্দি খাঁ, আমিন ও সিরাজের সমাধিস্থল।

কেন প্রিয় – ভালোলাগা, মন্দলাগা ব্যাপারটি মানুষের রুচির ওপর নির্ভরশীল। আমার কাছে যা প্রিয়, অন্যের কাছে তা নাও হতে পারে। তবে মুরশিদাবাদের একটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা আছে। বাংলার স্মরণীয় ইতিহাসের একটা অধ্যায় এখানে নীরব হয়ে আছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার স্মৃতি যেন প্রাচীন প্রাসাদগুলির অলিন্দে অলিন্দে আজও অক্ষত হয়ে আছে। এক অনির্বচনীয় ভাবাবেগে মন আবিষ্ট হয়। মনে হয় বাংলার এক গৌরবময় ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আছি আমি। ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগে মনের মধ্যে তৈরি হয় গভীর ভাবাবেগ। তাই হাজারদুয়ারি আমার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

সরকারি পদক্ষেপ – বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তবে মুরশিদাবাদের প্রতি সরকারি পদক্ষেপ আরও জরুরি হওয়া প্রয়োজন। বহু প্রাচীন সৌধ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসপ্রায়। সেগুলি অধিগ্রহণ করে অবিলম্বে সংস্কার করতে হবে। রাস্তাঘাটও উন্নত নয়। পর্যটকদের যাতায়াতে খুব অসুবিধা হয়। সরকারি নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সৌধগুলির সংস্কার সাধন করতে পারলে বাংলার এই ঐতিহাসিক স্থানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

উপসংহার – কেউ ভালোবাসে পাহাড়, কেউ সমুদ্র, কেউ-বা অরণ্য। আমি ভালোবাসি ইতিহাস। ছোটোবেলা থেকেই ইতিহাসের কাহিনি আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। মুরশিদাবাদের হাজারদুয়ারি দেখে আমি যেন আড়াইশো বছর আগের এক ধূসর অতীতে ফিরে গিয়েছিলাম। আজও স্বপ্নের মধ্যে দেখতে পাই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্দৌলাকে। আজও যেন কানে বাজে তাঁর জলসাঘরের টপ্পাঠুংরি। চিরদিন এই স্থানটি আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

১১.৩ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

উত্তর :

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

ভূমিকা – মানুষ যেদিন পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখল, সেদিন থেকেই শুরু হল তার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পথে যাত্রা। আগুন আবিষ্কারই মানুষের বিজ্ঞানের জয়যাত্রার পথে প্রথম পদক্ষেপ। এইভাবে সভ্যতা যত এগিয়ে চলল, বিজ্ঞানের জয়রথও হল গতিশীল। আর আধুনিক যুগ তো সম্পূর্ণভাবেই বিজ্ঞাননির্ভর। বিজ্ঞান ছাড়া মানুষের এক পা-ও অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রযুক্তি হল সেই বিজ্ঞানেরই প্রয়োগ।

প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞান – সকালে খবরের কাগজ আর এক কাপ চা দিয়ে জীবন শুরু তো অনেকদিন আগে থেকেই চলে আসছে। মাথার ওপর ফ্যান, রাতে বিদ্যুতের আলো, বাস, ট্রাম, ট্রেন, প্লেন—এগুলো তো বহুদিন আগেই আবিষ্কার হয়েছে। প্রতিদিন এগুলোকে ব্যবহার করেই আমরা দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক ও গতিশীল করেছি। ঠিক এই মুহূর্তে আমরা এতটাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর যে, এক পা এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, একজায়গায় দাঁড়িয়ে একটু নড়তেও পারি না। আমাদের আজকের জীবন সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞাননির্ভর। রান্নার কাজটাও এখন মানুষকে করতে হয় না, করে দেয় মাইক্রোওভেন। ইনটারনেটের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন সাইট থেকে অনলাইনে অর্থাৎ বাড়ি বসে জিনিস কেনাবেচা করা, এ ছাড়া ইনটারনেট ব্যাংকিংয়ের সাহায্যে টাকা জমা দেওয়া, ইলেকট্রিক ও টেলিফোনের বিল জমা দেওয়া—এইসবই এখন আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। শুধু তাই নয়, নবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রোগ নির্ণয়ের বহু পদ্ধতিও আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ছাড়া ঘরে বসেই আমরা জেনে নিতে পারি ডাউন রাজধানী এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে। রেল বা প্লেনের টিকিট কাটতে এখন আমাদের আর লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না। বাড়ি বসেই সব পাওয়া যায় মোবাইলের বোতাম টিপে। বলা যায় আমাদের আধুনিক জীবন একশো ভাগই বিজ্ঞাননির্ভর।

অতিরিক্ত বিজ্ঞাননির্ভরতার কুফল – বিজ্ঞান প্রগতির ধারক ও বাহক-এ কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু অতিরিক্ত বিজ্ঞাননির্ভরতা মানুষকে চেষ্টাহীন জড় পদার্থে পরিণত করছে। তার মাথা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নব নব সৃষ্টির আবেগ এবং সংগ্রামী চেতনা। এর ফলে মানুষে মানুষে সামাজিক সম্পর্কও শিথিল হয়ে পড়ছে। মানুষ যন্ত্রের ব্যবহার করতে গিয়ে নিজেই যেন একটা যন্ত্র হয়ে উঠেছে। হারিয়ে যাচ্ছে তার আবেগ। তাই সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন – বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। আবেগহীন মানুষ তো যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

উপসংহার – এমন দিন বোধহয় আর বেশি দূরে নেই, যেদিন বিজ্ঞানই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। এ কথাও অনস্বীকার্য যে, বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন একেবারেই অচল। বিজ্ঞানের সাহায্যেই আমরা বহু প্রতিকূলতাকে অনায়াসে অতিক্রম করতে সক্ষম হচ্ছি। মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞাননির্ভরতা আমাদের মানবিক বোধকে যেন নষ্ট না-করে। বাইরের জগৎকে আলোকিত করার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান যেন আমাদের অন্তরকেও জ্ঞানের আলোকে আলোকিত করে তোলে।

১১.৪ একটি গাছ একটি প্রাণ

উত্তর :

একটি গাছ একটি প্রাণ

“অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদি প্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দহীন পাষাণের বক্ষ পরেচ আনিলে বেদনা
নিঃসার নিষ্ঠুর মরুতলে।”

– বৃক্ষবন্দনা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা – সৃষ্টির উষালগ্নে এই পৃথিবীতে ছিল একমাত্র গাছ-শুধুই অরণ্য। তারপর একসময় এই পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব হয়। তখনকার প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ প্রাণ ধারণ করেছিল একমাত্র গাছকে আশ্রয় করেই। তারা গাছের ছাল দিয়ে বস্ত্র তৈরি করে, গাছের ফলমূল খেয়ে গাছের কোটরে বসবাস করতে শুরু করে। এভাবেই তারা তখন জীবন কাটাত। বৃক্ষই একদিন মরু পৃথিবীর বুকে প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি করে ‘মরুর দারুণ দুর্গ হতে’ মৃত্তিকাকে মুক্তি দিয়েছিল। তাই বৃক্ষই আমাদের আদিপ্রাণ।

বৃক্ষচ্ছেদন ও কারণ – প্রাচীন কালে মানুষ যে-কোনো পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ করত। পুত্র জন্ম নিলে তার মঙ্গলের কথা ভেবে বৃক্ষরোপণ করা হত। কিন্তু সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার অরণ্যবাসী জীবন ছেড়ে হয়েছে সামাজিক। ক্রমে জনসংখ্যা বেড়েছে। মানুষ অরণ্য কেটে তৈরি করেছে শহর, নগর। আধুনিক সভ্যতার প্রয়োজন মেটাতে আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি, যানবাহন প্রভৃতি তৈরির উদ্দেশ্যে ক্রমেই অরণ্যের ধ্বংস সাধন করা হয়েছে। এখনকার যান্ত্রিক সভ্যতায় আমরা অতিমাত্রায় যান্ত্রিক হয়ে উঠেছি। মানবজীবনে বৃক্ষের গুরুত্ব বা উপযোগিতা ভুলে গেছি।

মনুষ্যজীবনে বৃক্ষের অবদান – মনুষ্যজীবনে বৃক্ষের অবদান প্রচুর। বৃক্ষের আশীর্বাদস্বরূপ আমরা বসবাসের গৃহ, আসবাবপত্র, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, ওষুধ প্রভৃতি পাই। সর্বোপরি বৃক্ষ আমাদের পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের জোগান দেয়। দ্বিতীয়ত, গাছ ভূমিক্ষয়ে বাধা দেয়। তৃতীয়ত, গাছই আমাদের এই বিশাল জীবজগতের খাদ্য ও শক্তির প্রধান উৎস। গাছের মধ্যে যে শক্তি নিহিত থাকে, কাঠ, কয়লা, পেট্রোলিয়াম প্রভৃতির মাধ্যমে আমরা তা পেয়ে থাকি। চতুর্থত, এই বনজসম্পদ থেকেই বিভিন্নপ্রকার জীবনদায়ী ওষুধ প্রস্তুত হয়, যেমন – কুইনাইন, রেসারপিন, অ্যাট্রোপিন ইত্যাদি। ম্যাপল গাছের পাতার সংস্পর্শে এসে আমাশয়ের রোগজীবাণু বিনষ্ট হয়। অরণ্য সম্পদের ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন (O₃) স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ওই স্তর ভেদ করে সূর্যের আলট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি আমাদের গায়ে সরাসরি এসে পড়ছে। এর ফলে নানাবিধ চর্মরোগ, এমনকি ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য রোগও হচ্ছে। এককথায় বায়ুদূষণ প্রতিরোধ, মৃত্তিকাক্ষয় প্রতিরোধ, জলের পূর্ণ ব্যবহার ও পরিবেশের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে বৃক্ষের অবদান অপরিসীম।

অরণ্য সংরক্ষণ – অরণ্য সংরক্ষণের সহজতম অথচ শক্তিশালী উপায় হল বনমহোৎসব। রবীন্দ্রনাথ বনমহোৎসবের আহ্বান করেছিলেন এই বলে – মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে / হে প্রবল প্রাণ / ধূলিরে ধন্য করো করুণার পুণ্যে/হে কোমল প্রাণ। আজ এই পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে প্রধান জ্বালানিরূপে ব্যবহৃত হয় কাঠ। কাজেই সভ্যসমাজের ব্যাবহারিক চাহিদা মেটাতে আমাদের গাছ কাটতেই হবে। সেক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে বনভূমি সৃজনের প্রয়োজন। এই কাজের একমাত্র পথ বনমহোৎসব বা বৃক্ষরোপণ উৎসব পালন। ভারতে অরণ্যসৃজনের চেয়ে অরণ্যধ্বংসের হার বেশি। যেখানে বিগত ২০-২১ বছরে ভারতে প্রায় ৩৮-৪০ লক্ষ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, সেখানে বনসৃজন হয়েছে মাত্র ২৩-২৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে।

বনমহোৎসব – ভারতের বনাঞ্চলের আয়তন বেশ কম। যেখানে বনের পরিধি হওয়া উচিত মোট ভূভাগের ১/৩ অংশ, সেখানে ভারতের বনাঞ্চলের পরিধি মোট ভূভাগের মাত্র ১/৬ অংশ। এই ১/৩ অংশের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ মনুষ্যসৃষ্ট। ভারতের মোট রাজস্বের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আসে বনজসম্পদ থেকে। যে জ্বালানি সম্পদে ভারত ঐশ্বর্যশালী তার প্রায় ৬০ শতাংশ হল বনজসম্পদের দান।

উপসংহার – বৃক্ষ আমাদের আদিপ্রাণ, আমাদের রক্ষাকর্তা। তাই তাকে রক্ষার জন্য সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। ধ্বংসপ্রায় অরণ্য যেন মমতাময়ী জননীর ন্যায় আজও আমাদের হাতছানি দেয় –

“হানো যদি কঠিন কুঠারে,
তবুও তোমায় আমি হাতছানি দেব বারে বারে;
ফল দেব, ফুল দেব, দেব আমি পাখিরও কূজন।”

[কেবল বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের জন্য]

১২. কম-বেশি কুড়িটি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও (যে কোন চারটি) : (৪×১=৪)

১২.১ “হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলেনা।” – হরিদার কোন কথার সঙ্গে তর্ক চলেনা?

উত্তরঃ শত হোক, একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা কী করে স্পর্শ করি বল? তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়। – হরিদার এই কথার সঙ্গে তর্ক চলেনা।

১২.২ “অমৃত এতেও পিছপা হতে রাজি নয়।” – অমৃত কোন বিষয়ে পিছপা হতে রাজি নয়?

উত্তরঃ অমৃত তার বাবা-মায়ের কাছে ঠিক ইসাবের জামার মতোই একটা জামার জন্য বায়না ধরে। অমৃতের মা তখন ওকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বলেন, নতুন জামা দেবার আগে ইসাবের বাবা ওকে খুব মেরেছিলেন, তুইও সেরকম মার খেতে রাজি আছিস? এই কথা শুনেও অমৃত পিছপা হতে রাজি হয়নি।

১২.৩ আফ্রিকা ‘নিভৃত অবকাশে’ কি করছিল?

উত্তরঃ নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য সংগ্রহ করেছিল আর চিনে নিয়েছিল জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত।

১২.৪ “যথাবিধি লয়ে গঙ্গোদক”। – ‘গঙ্গোদক’ কি?

উত্তরঃ ‘গঙ্গোদক’ হলো – গঙ্গাজল।

১২.৫ “নদের চাঁদ নতুন সহকারি কে ডাকিয়া বলিল, আমি চললাম হে!” – নদের চাঁদ কখন চললেন?

উত্তরঃ চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করে দেওয়ার পর নদেরচাঁদ তার সকারীকে কথাগুলি বলেছে।

১৩. কমবেশি ৬০ টি শব্দের মধ্যে যেকোনো ২ টি প্রশ্নের উত্তর দাও : (২×৩=৬)

১৩.১ “আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।” – মেয়েটি কে? অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করো। (১+২)

উত্তরঃ

মেয়েটির পরিচয় – ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার পরে যে মেয়েটি তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছিল, এখানে সেই মেয়েটির কথাই বলা হয়েছে।

অপেক্ষায় কাটানো সময়-

  • কথামুখ – পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভালোবাসার বিস্তারের কথা বলেছেন।
  • কবির চলে যাওয়া – মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে একজন বিপ্লবীকে তার সংসার, পরিজনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়।
  • প্রিয়তমা – কবির একান্ত প্রিয় মানুষ এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারে না। চলে তার অপেক্ষা। সপ্তাহ শেষ হয়ে বছর চলে যায়, প্রতীক্ষার অবসান হয় না।
  • যুদ্ধের তাণ্ডব – যুদ্ধ শুরু হয়। সাজানো শহর ধ্বংসস্তূপে রূপান্তরিত হয়। মানুষ নিরাশ্রয় হয়, শিশুহত্যার মতো নারকীয় ঘটনা ঘটে। ভেঙে পড়ে মন্দিরের প্রতিমা।
  • ধ্বংসস্তূপ – যে বিপ্লবী যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিল তার স্মৃতিচিহ্নগুলিও ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় কথকের সুন্দর বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা ইত্যাদি। শহর হয়ে ওঠে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর পাথরের মূর্তির এক ধ্বংসস্তূপ। রক্তের কালো দাগ নিশ্চিত করে দেয় ধ্বংসের উন্মত্ত চেহারাকে।
  • অন্তহীন অপেক্ষা – কিন্তু পাথরের উপরে ফুলের মতোই ধ্বংসস্তূপের উপরে জেগে থাকে ভালোবাসা। কবির প্রিয়তমা মেয়েটির অপেক্ষার শেষ হয় না।
  • তবুও – কেন-না যুদ্ধ সম্পত্তি বিনষ্ট করতে পারে, জীবনহানি ঘটাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার অবসান ঘটাতে পারে না।

১৩.২ “ছিনিয়ে নিয়ে গেলো তোমাকে।” – কে, কাকে ছিনিয়ে নিয়ে ছিনিয়ে গেল? কোথায় ছিনিয়ে নিয়ে গেল? (১+২)

উত্তরঃ

তুমি-র পরিচয় – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার উল্লিখিত অংশে ‘তোমাকে’ বলতে আফ্রিকা মহাদেশের কথা বোঝানো হয়েছে।

যে যেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে – সভ্যতা সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন, সেই সময়ে রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুক অর্থাৎ পৃথিবীর পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

১৩.৩ “এবার মারিতো হাতি লুঠিত ভান্ডার।” – এমন ইচ্ছে কে প্রকাশ করেছিলেন? তিনি কেমন ভান্ডার লুঠ করেছিলেন? (১+২)

উত্তরঃ

সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে – এমন ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন বহুরূপী হরিদা।

এক ফুরফুরে সন্ধ্যায় বিরাগীর বেশে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হন। আদুড় গা, ধবধবে সাদা উত্তরীয়, সাদা থান পরা হরিদার আধ্যাত্মিক এবং দার্শনিক কথাবার্তায় জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি বিরাগীকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চান। কিন্তু হরিদাকে এখানে পাওয়া যায় সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর ভূমিকায়। সব কিছু প্রত্যাখ্যান করে তিনি চলে যান। পরে কথকদের তিনি বলেন যে বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তার বহুরুপীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত। নিজের পেশার প্রতি সততা থেকেই হরিদা অর্থ উপার্জনের অসাধু ইচ্ছাকে ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন – Madhyamik English Question Paper 2024 PDF Download

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার পুরাতন বছরের প্রশ্ন ও উত্তর বিশ্লেষণ করেছি। আশা করি এই আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগের বছরের প্রশ্নের ধরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। এই নিবন্ধে বিশেষভাবে মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্র ২০১৭ সালের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই বছরের প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পরবর্তী বছরের প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে ধারণা দিতে পারে। আশা করি, মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার আগে মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্র ২০১৭ সালের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো দেখে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

4/5 - (1 vote)


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন