নবম শ্রেণি – বাংলা – স্বর্ণপর্ণী – বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের লেখা স্বর্ণপণী একটি ছোটগল্প। এই গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালের ১লা জানুয়ারি। স্বর্ণপণী গল্পটি একটি সামাজিক উপন্যাস। এই গল্পে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের আর্থিক অনটন, সামাজিক সমস্যা, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

Table of Contents

গল্পের প্রধান চরিত্র শ্যামল। শ্যামল একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী। শ্যামল তার বাবার সঙ্গে কলকাতায় থাকে। শ্যামলের মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। শ্যামলের সৎমা তার প্রতি খুবই অত্যাচার করে। শ্যামল তার সৎমায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায়।

বাংলা – স্বর্ণপর্ণী – বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

শ্যামল পালিয়ে গিয়ে একটি ধনী পরিবারের কাছে চাকরিতে যোগ দেয়। সেই পরিবারের বড় মেয়ে সুমনের সঙ্গে শ্যামলের প্রেম হয়। সুমনের বাবা শ্যামলকে তার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়। কিন্তু শ্যামলের সৎমা এই বিয়েতে বাধা দেয়। সে শ্যামলকে খুন করার চেষ্টা করে।

নবম শ্রেণীর বাংলা একটি শিক্ষামূলক শিক্ষামূলক পাঠ্যধারা বোঝায় যা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই পাঠ্যধারাটি নবম শ্রেণীতে বাংলা ভাষা পড়া ও পরিবেশন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা ভাষার মৌলিক জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত প্রকটমন্ত্রণা সম্পন্ন করতে এবং তাদের পাঠগুলির মাধ্যমে সঠিক উচ্চারণ, সৃজনশীলতা, পঠন এবং লেখা প্রয়োগ করতে পারা শিখানো হয়।

এই পাঠ্যধারায় বাংলা ভাষার বর্ণমালা, উচ্চারণ, বাক্য বিন্যাস, শব্দভাণ্ডার, বিপর্যয় ও ব্যাখ্যার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বাংলা ভাষায় লেখা ও রচনা প্রশিক্ষণ, গদ্য ও কবিতা পঠন এবং বানান নিয়ে সঠিক উদাহরণ এবং অনুশাসনিক কার্যক্রম বোঝানো হয়।

স্বর্ণপর্ণী গল্প হলো বাংলা সাহিত্যিক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প বিষয়ক উপাদান। এই গল্পগুলো বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক, পাঠ্যসংক্রান্ত সংশোধিত সংস্করণ বা সাহিত্যিক আন্তর্জালিক প্লাটফর্মে পাওয়া যায়।

স্বর্ণপর্ণী গল্পটি বাংলা ভাষার পাঠ্যধারায় সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক জ্ঞান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। এই গল্পটিতে সাধারণত মজার, শিক্ষাপ্রদ এবং মূর্তিমান কাহিনীগুলো প্রকাশিত হয়, যা শিশুদের মনোভাব ও বৈপ্লবিকতা বিকাশে অবদান রাখে।

স্বর্ণপর্ণী গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর আবিষ্কারের কী কী তালিকা দিয়েছিলেন ?

অথবা, প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কারগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

আবিষ্কারের তালিকা –

প্রাক্কথন -সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট চরিত্র প্রোফেসর শঙ্কু একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক হিসেবে দেশেবিদেশে প্রচুর খ্যাতি ও সম্মান পেয়েছিলেন। আলোচ্য ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে তাঁর আবিষ্কারের একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে।

মিরাকিউরল – শঙ্কুর প্রথম আবিষ্কার হল ‘মিরাকিউরল’ বা সর্বরোগনাশক বড়ি। অবশ্য তিনি এটাকে তাঁর একার কৃতিত্ব বলতে চান না। কারণ এর পিছনে টিক্‌ড়ীবাবা নামে এক সাধুর বিশেষ অবদান ছিল।

অ্যানাইহিলিন পিস্তল – ‘মিরাকিউরল’-এর পরে শঙ্কুর আবিষ্কার হল ‘অ্যানাইহিলিন পিস্তল’। এই পিস্তলের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি শত্রুকে না মেরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। প্রোফেসর শঙ্কু মোটেই রক্তপাত সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু তাঁর অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ জীবনে তাঁকে অনেক সময় মহাবিপদে পড়তে হয় আর আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রেরও প্রয়োজন হয়। তাই এই পিস্তল আবিষ্কার করেন তিনি।

এয়ারকন্ডিশনিং পিল – এরপরেই এল ‘এয়ারকন্ডিশনিং পিল’। এটি জিভের তলায় রাখলে শীতকালে শরীর গরম আর গরমকালে শরীর ঠান্ডা থাকে।

রিমেমব্রেন – তারপর তিনি আবিষ্কার করেন ‘রিমেমব্রেন’, এর সাহায্যে হারানো স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনা যায় । এরপর শঙ্কু একে-একে ঘুমের অব্যর্থ বড়ি ‘সমনোলিন’, সস্তায় উজ্জ্বল আলো দেওয়ার জন্য ‘লুমিনিম্যাক্স’, অচেনা ভাষা ইংরেজিতে অনুবাদের জন্য ‘লিঙ্গুয়াগ্রাফ’, পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ‘অরনিথন’ প্রভৃতি আবিষ্কার করেন।

বাবার এই কথাগুলো আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল।—বক্তার বাবা কে? এখানে কোন্ কথাগুলো-র কথা বলা হয়েছে?

বক্তার বাবার পরিচয় – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে আলোচ্য উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্ধৃতিটিতে উল্লিখিত ‘বাবা’ হলেন প্রোফেসর শঙ্কুর বাবা ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু। তিনি গিরিডির অপ্রতিদ্বন্দ্বী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ছিলেন।

কথাগুলো-র উল্লেখ –

বিনা পয়সায় চিকিৎসা – প্রোফেসর শঙ্কুর বাবা সারাজীবন বিনা পয়সায় বহু দরিদ্রের চিকিৎসা করেছিলেন। আর সে কারণেই তিনি প্রচুর রোজগার করলেও তা কখনও মাত্রাছাড়া হয়নি।

মানসিক শান্তি – শঙ্কুর বাবা তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন। সেগুলি হল ক্ষমতা থাকলেই অঢেল রোজগার করার দরকার নেই। সচ্ছল জীবনযাপন করতে গেলে অর্থের অবশ্যই প্রয়োজন আর তাতে মানসিক শান্তিও পাওয়া যায়।

দুস্থদের সাহায্য – কিন্তু যাদের সেই সংস্থানটুকু নেই, যারা সুখ কাকে বলে জানে না, যাদের সারাজীবন দু-বেলা দু-মুঠো ভাতের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় কিংবা যারা কোনো কারণে রোজগারে অক্ষম—তাদের দুঃখ যদি কিছুটা কমানো যায় তবে তার চেয়ে বড়ো সার্থকতা, বড়ো আনন্দ আর কিছুতেই নেই।

শেষ কথা: বাবার এই কথাগুলো প্রোফেসর শঙ্কুর মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল এবং এই কথাগুলি তিনি শেষ বয়স পর্যন্ত মনে রেখেছিলেন।

….এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে মুহূর্তের জন্য আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।—কোন্ দৃশ্য? এরপরে কী হয়েছিল?

দৃশ্য-টির পরিচয় – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু গিরিডিতে বাড়ি ফিরেই বাবার ঘরে ঢুকে দেখেন যে তাঁর বাবা কাজের টেবিলের পাশে মেঝেতে চিত হয়ে পড়ে আছেন। ব্যস্ত চিকিৎসক বাবাকে শঙ্কু আগে কখনও এমন অবস্থায় দেখেননি। তাই সেই দৃশ্য তাঁর কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছিল। এখানে সেই অদ্ভুত দৃশ্যের কথাই বলা হয়েছে।

পরবর্তী ঘটনা –

বাবার জ্ঞান হারানো – এরপর প্রোফেসর শঙ্কু আর দেরি না করে এক লাফে বাবার কাছে গিয়ে নাড়ি টিপে দেখে বুঝলেন যে, তাঁর বাবা অজ্ঞান হয়ে গেছেন। তিনি তক্ষুনি ডাক্তারকে খবর পাঠালেন। তবে ডাক্তার আসার আগেই তাঁর বাবার জ্ঞান ফিরে আসে। বাবা তাঁকে জানালেন যে, এর আগে আরও দু-বার এরকম হয়েছিল। কিন্তু তিনি শঙ্কুকে সে-কথা জানাননি।

হার্টব্লক ও মৃত্যু – তাঁর বাবা আরও বললেন যে, এই রোগে হঠাৎ করে হৃদ্যন্ত্রের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, এর কোনো চিকিৎসা নেই। এই রোগকে বলা হয় হার্টব্লক। এর ঠিক দেড় বছর পরে প্রোফেসর শঙ্কুর বাবা হার্টব্লক রোগেই মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে মারা যান ।

সেদিনই রাত্রে বাবা আমাকে একটা আশ্চর্য ঘটনা বলেন।—এখানে কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে? আশ্চর্য ঘটনা টা কী?

উদ্দিষ্ট দিন – প্রোফেসর শঙ্কুর বাবা ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু মারা যাওয়ার ঠিক তিন দিন আগে প্রোফেসর শঙ্কু যেদিন বাড়িতে আসেন এখানে সেই দিনটির কথা বলা হয়েছে।

‘আশ্চর্য’ ঘটনাটির বিবরণ – প্রোফেসর শঙ্কু সেদিন তাঁর বাবার কাছ থেকে এক আশ্চর্য ঘটনার কথা জানতে পারেন। উশ্রী নদীর ওপারে এক গ্রামে টিক্‌ড়ীবাবা নামে এক সাধু গাছতলায় বসে ধ্যান করতেন । সেই সাধু শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য শিষ্যরা তাঁকে শঙ্কুর বাবার কাছে নিয়ে আসেন। এমন সময় টিক্‌ড়ীবাবা প্রোফেসর শঙ্কুর বাবার কাছে জানতে চান যে তিনি তো টিক্‌ড়ীবাবার চিকিৎসা করছেন কিন্তু তাঁর নিজের চিকিৎসার কী হবে।

বাবাজির অলৌকিক ক্ষমতায় কিছুটা অবাক হয়েই ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু তাঁকে জানান যে, তাঁর রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। এর উত্তরে বাবাজি জানান যে, সোনেপত্তী অর্থাৎ স্বর্ণপর্ণীর দ্বারা এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব। এই স্বর্ণপর্ণীর উল্লেখ ‘চরকসংহিতায়’ থাকলেও আধুনিক যুগে এর হদিস কেউ পায়নি। টিক্‌ড়ীবাবা জানালেন, কসৌলি থেকে তিন ক্রোশ উত্তরে ভাঙা চামুণ্ডা মন্দিরের পিছনের জঙ্গলে ঝরনার পাশে এই সোনেপত্তী বা স্বর্ণপর্ণীর গাছ জন্মায়। টিক্‌ড়ীবাবার এই আশ্চর্য ক্ষমতা ও স্বর্ণপর্ণীর সন্ধান দেওয়া প্রোফেসর শঙ্কুর কাছে আশ্চর্য ঘটনা মনে হয়েছিল।

এটাই যে স্বর্ণপর্ণী তাতে কোনো সন্দেহ নেই।—কে কীভাবে স্বর্ণপর্ণী পেয়েছিলেন বিবৃত করো।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে স্বর্ণপর্ণী আবিষ্কার করেছিলেন প্রোফেসর শঙ্কু।

স্বর্ণপর্ণী পাওয়ার বিবরণ – বাবা ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কুর কাছ থেকে প্রোফেসর শঙ্কু শুনেছিলেন স্বর্ণপর্ণী নামের এক আশ্চর্য গাছড়া-র কথা ।তাঁকে এর কথা জানিয়েছিলেন টিক্‌ড়ীবাবা। বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ ত্রিলোকেশ্বর গাছের সন্ধানে যেতে না পারলেও প্রোফেসর শঙ্কু মনস্থির করে ফেলেন স্বর্ণপর্ণীর সন্ধানে যেতে। বাবা মারা যাওয়ার পরে তাঁর শ্রাদ্ধ সেরে শঙ্কু টিক্‌ড়ীবাবার নির্দেশনামতো কসৌলির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আড়াই দিনে গিরিডি থেকে কালকা। সেখান থেকে ছেচল্লিশ কিলোমিটার দূরে কসৌলি। হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে জেনে নিলেন টিক্‌ড়ীবাবা কথিত চামুণ্ডার মন্দিরের অবস্থান।

যেখানে ঘোড়ায় চড়ে যেতে হবে, ম্যানেজারের সাহায্যে ঘোড়া জোগাড় করে শঙ্কু চললেন, একমাত্র সঙ্গী ঘোড়ার মালিক ছোটেলাল। তাকে নিয়েই মন্দিরে পৌঁছে তার পিছনের জঙ্গলে ঢুকলেন। মিনিট পনেরো পরে শুনতে পেলেন ঝরনার শব্দ। চারদিকে ঘন পাতার অন্ধকার। তার মধ্যে দিয়েই সূর্যের আলো এসে পড়ায় ঝলমল করছে হলদে পাতায় ভরা একটা গাছড়া। শঙ্কু বুঝতে পারলেন, এ-ই তাঁর সন্ধানের ‘সোনেপত্তী’ বা ‘স্বর্ণপর্ণী’।

এইসময় একটা ঘটনা ঘটল, যেটা বলা যেতে পারে আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। –এখানে কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

অথবা, প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি করা মিরাকিউরলের বড়ি কীভাবে জেরেমি সন্ডার্সকে নতুন জীবন দান করেছিল লেখো।

ঘটনাটির বর্ণনা –

উৎস – উদ্ধৃতিটি সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

চিঠি লেখা – কলকাতায় থাকাকালীন নেচার পত্রিকায় জীবতত্ত্ব সম্বন্ধে একটা লেখা পড়ে প্রোফেসর শঙ্কু সেই প্রবন্ধের লেখক জেরেমি সন্ডার্সকে একটি চিঠি লেখেন।

চিঠির উত্তর – প্রফেসারের চিঠির উত্তরে সন্ডার্স একটি চিঠি পাঠান এবং জানান যে তাঁর ঠাকুরদা বত্রিশ বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থাকায় তাঁর জন্ম ভারতবর্ষের পুনা শহরে হয়েছিল। সাত বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবা-মার সঙ্গে ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যান, কিন্তু ভারতবর্ষের ওপর তাঁর এখনও টান আছে।

বন্ধুত্ব – এরপর তাঁরা দুজনে একে অপরের বন্ধু হয়ে ওঠেন।

সন্ডার্সের অসুস্থতা – আট মাস পর সন্ডার্সের স্ত্রীর কাছ থেকে চিঠি আসে যে সন্ডার্সের যকৃতে ক্যানসার হয়েছে এবং ডাক্তারের মতে তাঁর জীবনের মেয়াদ আর বেশিদিন নেই। এই খবর শোনার পর প্রোফেসর সন্ডার্সকে মিরাকিউরলের দশটা বড়ি পাঠিয়ে দেন। জানান যে, পার্সেল পাওয়া মাত্র যেন সন্ডার্সকে দুটো বড়ি খাইয়ে দেওয়া হয়। দু-দিনে কাজ না হলে আরও দুটো। এভাবে দশটা বড়িই খাওয়ানো যেতে পারে। আর তারপরেই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে।

সভার্সের সুস্থতা – প্রায় মাস দেড়েক পর সন্ডার্স সুস্থ হয়ে নিজেই প্রফেসারের বাড়িতে চলে আসেন। তিনি শঙ্কুর মিরাকিউরল বড়ির রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য ও শঙ্কুকে বিশ্বের বিজ্ঞানীমহলে তুলে ধরার জন্য তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যেতে চান। এই ঘটনাই প্রোফেসর শঙ্কুর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এমন সময় বিদ্যুৎঝলকের মতো এই ওষুধের একটা নাম আমার মাথায় এসে গেল… – কোন্ ওষুধের কথা বলা হয়েছে? কীভাবে বক্তা তা আবিষ্কার করেছিলেন?

অথবা, প্রোফেসর শঙ্কুর মিরাকিউরল আবিষ্কারের কাহিনি নিজের ভাষায় লেখো।

ওষুধ-টির নাম – স্বর্ণপর্ণী গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু যে অত্যাশ্চর্য ওষুধ মিরাকিউরল আবিষ্কার করেছিলেন, এখানে তার কথা বলা হয়েছে।

আবিষ্কার প্রণালী –

গাছ আবিষ্কার – প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর বাবার কাছে টিক্‌ড়ীবাবার বলা সোনেপত্তী গাছের কথা শুনে এবং এর অত্যাশ্চর্য ক্ষমতার কথা জেনে কসৌলিতে পৌঁছোন। সেখান থেকে সন্ধান করে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে স্বর্ণপর্ণী গাছ আবিষ্কারও করেন।

গাছটির উপযোগিতা – গিরিডিতে ফিরে গাছটিকে শুধু পোঁতাই নয়, তার ডাল থেকে আরও গাছ তৈরির চেষ্টাও শুরু হয়। এরপরে উদরি রোগে আক্রান্ত জয়গোপাল মিত্রের ওপরে স্বর্ণপর্ণীর পাতার প্রয়োগ করে এর উপযোগিতার দ্রুত প্রমাণ পাওয়া যায়।

অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ – এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরও কিছু কঠিন অসুখে আক্রান্তকে তাঁকে চিকিৎসা করতে হয়। প্রতিটা ক্ষেত্রেই ওষুধ কাজ করে।

বড়ি তৈরি – কিন্তু শুকনো পাতা গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে খাওয়ানোর প্রাচীন পন্থাটা তাঁর পছন্দ হয়নি। তাই তিনি ঠিক করেন যে, স্বর্ণপর্ণীর বড়ি তৈরি করবেন। এক মাসের মধ্যেই তাঁর সেই পরিকল্পনাকে রূপ দেওয়া হয় ৷ কলের হাতল ঘুরিয়ে নীচের নল দিয়ে বাটিতে পড়তে থাকে একটার পরে একটা বড়ি।

ওষুধটির নামকরণ – বিদ্যুৎঝলকের মতো তাঁর মাথায় চলে আসে সেই ওষুধের নাম মিরাকিউরল। যার পুরো কথা হল মিরাকল কিওর ফর অল কমপ্লেন্টস্ অর্থাৎ সর্বরোগনাশক বড়ি ।

আমার বক্তৃতার এত লোক হবে সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি।–কোন্ বক্তৃতার কথা বলা হয়েছে? বক্তৃতার বর্ণনা দাও। তার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?

বক্তৃতার পরিচয় – স্বর্ণপর্ণী গল্পে ক্যাক্সটন হলে ‘মিরাকিউরল’ বিষয়ে প্রোফেসার শঙ্কু যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন সেই বক্তৃতার কথাই বলা হয়েছে।

বক্তৃতা-র বর্ণনা – জেরিমি সন্ডার্সের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত শঙ্কুর বক্তৃতা শোনার জন্য প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। অধ্যাপনা দীর্ঘকালের পেশা হওয়ায় বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রোফেসর শঙ্কু অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি স্বচ্ছন্দভাবে ভারতে আয়ুর্বেদচর্চার কথা, চরক-সুশ্রুতের সংহিতার কথা, তাঁর বাবার কথা এবং টিক্‌ড়ীবাবার কাছে শুনে কসৌলির জঙ্গল থেকে স্বর্ণপর্ণী সংগ্রহ করে আনার কথা বলেন। সভায় উপস্থিত সকলে নিঃশব্দে তাঁর বক্তৃতা শোনে। বক্তৃতার মধ্যেই প্রোফেসর শঙ্কু দুটি অনিবার্য প্রশ্নেরও উত্তর দিয়ে দেন—তা হল মিরাকিউরলকে তিনি বাজারজাত করবেন কি না এবং লণ্ডনে থেকে কিছুদিন তিনি তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন কি না ।

প্রতিক্রিয়া – বক্তৃতার শেষে হাততালির বহর বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, শঙ্কুর বক্তৃতা সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে যাওয়ার জন্যই প্রশ্নোত্তরপর্ব দীর্ঘক্ষণ ধরে চলেনি। বহু লোকের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করে ও অনেকের অভিনন্দন নিয়ে তিনি মুক্ত হন। পরদিন লন্ডনের বহু কাগজেই ছবি-সহ শঙ্কুর বক্তৃতার খবর বেরোয়। এই বিপুল প্রতিক্রিয়ায় প্রোফেসর শঙ্কু নিজেও হকচকিয়ে যান।

তোমার আসার কারণটা জানতে পারি কি?—কে, কাকে এই প্রশ্ন করেছিলেন? তাঁর আসার কারণ কী ছিল?

প্রশ্নকর্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – আলোচ্য উদ্ধৃতিটি সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। জেরেমি সন্ডার্স তাঁর বাড়িতে আসা নরবার্ট স্টাইনারকে এই প্রশ্ন করেছিলেন।
উদ্দিষ্টের আসার কারণ – নরবার্ট স্টাইনার হলেন বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক হাইনরিখ স্টাইনারের পুত্র। ইনি জাতিতে ইহুদি। সেই সময় জার্মানিতে হিটলারের রাজত্ব চলছিল। সেখানে তখন ইহুদিদের ওপর হিটলারের নাৎসিবাহিনী অমানুষিক অত্যাচার চালাচ্ছিল। তাদের মতে ইহুদিরা নাকি মানুষই নয়। নরবার্টের বাবা হাইনরিখ স্টাইনার এই নাৎসিবাহিনীর শিকার হয়েছিলেন। একদিন দুপুরে নাৎসিবাহিনীর গুপ্ত পুলিশ গেস্টাপোর সশস্ত্র দল তাঁদের বাড়িতে এসে নরবার্টের বাবার দিকে পিস্তল উঁচিয়ে বলতে বলে, ‘হাইল হিটলার’ অর্থাৎ ‘হিটলার জিন্দাবাদ’। হাইনরিখ তা না বলায় পুলিশরা তাঁকে প্ৰচণ্ড মারধোর করে। বার্লিনের যে-কোনো হাসপাতালে ইহুদিদের প্রবেশ তখন নিষিদ্ধ ছিল। প্রোফেসর হাইনরিখের শারীরিক অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। নরবার্ট স্টাইনার কাগজে প্রোফেসর শঙ্কু ও তাঁর মিরাকিউরল বড়ির খবর পেয়ে সন্ডার্সের বাড়িতে এসেছিলেন তাঁকে বার্লিন নিয়ে যেতে। তিনি চেয়েছিলেন, শঙ্কু তাঁর ওই মিরাকিউরল বড়ি দিয়ে নরবার্টের বাবা হাইনরিখ স্টাইনারকে সুস্থ করে তুলুন।

একজন মনীষীর ত্রাণকর্তা হতে পারলে তোর জীবন ধন্য হবে।—কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই কথা স্মরণে আসে? মনীষীর ত্রাণকর্তা বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?

প্রসঙ্গ – স্বর্ণপর্ণী গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু যখন হ্যাম্পস্টেডে সন্ডার্সের বাড়িতে, সেই সময় বার্লিন থেকে নরবার্ট স্টাইনার বলে এক ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাঁর বাবা ‘হাইল হিটলার’ বলতে রাজি না হওয়ায় নাৎসি পুলিশ তাঁকে আক্রমণ করে। তাদের অত্যাচারে ভদ্রলোক আধমরা হয়ে পড়েন। কিন্তু বার্লিনের কোনো হাসপাতালে ইহুদিদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। এমনকি বাড়ির ডাক্তারও ইহুদি হওয়ার জন্য নিজের বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন না। এই অবস্থায় কাগজে মিরাকিউরলের কথা শুনে নরবার্ট আসেন শঙ্কুর কাছে সাহায্যের আশায়। আর তার প্রতিক্রিয়াতেই শঙ্কুর মনে হয় যে, তাঁর বাবা বেঁচে থাকলে বলতেন যে, একজন মনীষীর ত্রাণকর্তা হতে পারলে তাঁর জীবন ধন্য হবে।
মনীষীর ত্রাণকর্তা বলতে বক্তার ভাবনা – নরবার্টের বাবা হাইনরিখ স্টাইনার ছিলেন একজন ভারততত্ত্ববিদ। তিনি ছিলেন বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত শিক্ষক। বেদ, উপনিষদ ইত্যাদিকে তিনি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন। ভারতপ্রেমিক এই মানুষটি সাতবার ভারতবর্ষে গেছেন। তিনি বলেন — সংস্কৃত ভাষার যে ঐশ্বর্য আছে তেমন আর কোনো ভাষার নেই। এরকম একজন মানুষের জন্য নরবার্ট যখন কাতর হয়ে শঙ্কুকে বার্লিনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তখন তাঁর বন্ধু সন্ডার্স শঙ্কুর নিরাপত্তার কথা তোলেন। কিন্তু শঙ্কুর মনে হয় তাঁর বাবার অনুপ্রেরণার কথা। বাবার আত্মার শান্তি পাবে যদি তিনি একজন ভারতপ্রেমিককে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। মিরাকিউরল নিয়ে বার্লিনে গিয়ে তিনি একারণেই ‘মনীষীর ত্রাণকর্তা’ হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন।

আমি তো মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলাম, কারণ বেঁচে থেকে তো আমার কোনো লাভ নেই!—বক্তা কে? তাঁর এই মন্তব্যের কারণ কী? শঙ্ক এক্ষেত্রে তাঁকে কীভাবে সাহায্য করেছিলেন?

বক্তা – সত্যজিৎ রায়ের ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে উল্লিখিত মন্তব্যটির বক্তা অধ্যাপক হাইনরিখ স্টাইনার।

এরূপ মন্তব্যের কারণ – অধ্যাপক স্টাইনার ছিলেন নাৎসি গেস্টাপোবাহিনীর অত্যাচারের শিকার। ‘হাইল হিটলার’ বলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ তার ওপর বেপরোয়া অত্যাচার চালায়। তাঁর মাথা ফেটে যায়। সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। আধমরা অবস্থাতেও অধ্যাপক স্টাইনারকে ইহুদি হওয়ার কারণে বার্লিনের কোনো হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয় না। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি ভুল বকতে থাকেন। স্টাইনারের দুর্দশা এবং হতাশার প্রধান কারণ যদি এটা হয়, তাহলে আর-একটি কারণ হল নিজের জন্মস্থানে পরবাসী হয়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণা। সংস্কৃতে পণ্ডিত, বেদ-উপনিষদের অনুবাদক মানুষটিকে আক্ষেপ করতে শোনা গেছে এরা কিছুই করতে দেয়নি আমাকে। যেভাবে স্বস্তিককে নাৎসি পার্টি তাদের প্রতীক করে তুলেছে তাও অধ্যাপক স্টাইনারের আক্ষেপের বিষয় হয়েছে। যে কারণে বেঁচে থাকা নিয়েও তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

শঙ্কুর সাহায্য – মৃত্যুপথযাত্রী স্টাইনারকে মিরাকিউরল খাইয়ে প্রোফেসর শঙ্কু পুনর্জীবন দান করেছিলেন। একবার মিরাকিউরল প্রয়োগেই পরদিন সকালে উদাত্ত গলায় শঙ্কুকে উপনিষদ পাঠ করতে শোনা গেছে। দ্বিতীয়ত, স্টাইনারকে শঙ্কু মানসিকভাবেও উজ্জীবিত করেছেন। জার্মানি থেকে চলে গিয়ে অন্য কোথাও তাঁর কাজ আবার শুরু করার কথা স্টাইনারকে বলেছেন। এমনকি জার্মানি থেকে পালিয়ে যেতে যদি ছলের আশ্রয় নিতে হয় তাতেও ক্ষতি নেই,—এ কথা বলে স্টাইনারকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।

এটা যে একটা প্রাসাদ তাতে সন্দেহ নেই, তবে প্রাচীন নয়।— কোন্ প্রাসাদ? প্রাসাদের বর্ণনা দাও।

প্রাসাদ-টির উল্লেখ – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে নেওয়া আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে জার্মানির নাৎসিবাহিনীর সামরিক শক্তির প্রধান ও হিটলারের পরেই যাঁর স্থান, সেই হের্ গোয়রিং-এর প্রাসাদের কথা বলা হয়েছে। এই প্রাসাদটির নাম কারিনহল, গোয়রিং-এর প্রথম স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি নির্মিত।

প্রাসাদ -টির বর্ণনা – স্বর্ণপর্ণী গল্পে প্রাসাদটির যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা হল—

সামগ্রী: কারিনহল একটা বিশাল প্রাসাদ। এর সামনে রয়েছে একটা বিস্তীর্ণ বাগান, তাতে ফুলের কেয়ারি, লিলিপুল, শ্বেতপাথরের মূর্তি সবই আছে। এই বাগানের তিনদিক ঘিরে এই প্রাসাদ।

আয়তন ও গঠন – প্রাসাদের ভিতরে ঢুকতে প্রথমেই যে ঘর, তা প্রায় লম্বায় পঞ্চাশ গজ হবে। মাথার ওপর বিশাল বিশাল ঝাড়লণ্ঠন, দেয়ালে গিল্টি করা ফ্রেমে বাঁধানো জগদ্বিখ্যাত শিল্পীদের তেলরঙে আঁকা ছবি, ঘরের একপ্রান্তে দোতলায় যাওয়ার জন্য ঘোরানো সিঁড়ি। সেই ঘর পেরিয়ে গেলে রয়েছে রিসেপশন রুম বা অভ্যর্থনা কক্ষ। সেখানে বসার জন্য বড়ো বড়ো সোফা, কাউচ, বাহারি চেয়ার, প্রকাণ্ড টেবিল, টেলিফোন ইত্যাদি রয়েছে।

নিদর্শন – সব মিলিয়ে কারিনহল প্রাসাদ সম্পর্কে বলা চলে যে এটি হল রাজকীয় ঐশ্বর্য ও দম্ভের চূড়ান্ত নিদর্শন।

লোকটার প্রতি আমার অশ্রদ্ধা ক্রমেই বাড়ছিল।— লোকটা কে? তাঁর চরিত্র সম্পর্কে কী জানা যায়?

লোকটা-র পরিচয় – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে আলোচ্য লোকটি হলেন জার্মানির নাৎসিবাহিনীর সামরিক প্রধান হের্ গোয়রিং।

চরিত্র বর্ণনা – হের্ গোয়রিং-এর চরিত্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য হল-

অহংকার – প্রচণ্ড অহংকারী এই মানুষটি নিজেই শঙ্কুকে জানান যে তিনিই জার্মানির সামরিক শক্তির প্রধান এবং জার্মানিতে হিটলারের পরেই তাঁর স্থান। নিজের প্রাসাদ তথা প্রথম স্ত্রীর স্মৃতিসৌধ কারিনহল নিয়েও তাঁর গর্বের শেষ নেই।

নীচ ও স্বার্থপর মানসিকতা – হিটলারের মতোই গোয়রিংও ছিলেন ইহুদি-বিদ্বেষী। তাদের নির্বংশ করা নাৎসিদের অন্যতম কর্মসূচি ছিল। তাই তিনি মহান মানুষ হাইরিখ স্টাইনার ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে অকথ্য গালিগালাজ করেন। এ ছাড়া কৃত্রিমভাবে মিরাকিউরল তৈরি করে শুধু নাৎসি দলের জন্য ব্যবহার করতেও চেয়েছেন তিনি। এই ধরনের চিন্তার মধ্য দিয়ে তাঁর নীচতা প্রকাশ পেয়েছে।

লোভ: জার্মানির অন্যতম রাষ্ট্রনেতা হের্ গোয়রিং অসুস্থ ছিলেন। তা সত্ত্বেও খাবারের প্রতি ছিল তাঁর প্রচণ্ড লোভ। সে-কারণে তিনি ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্যান্ডউইচ, বিয়ার আনিয়ে খেতেন।

নির্বুদ্ধিতা – গোয়রিং গ্ল্যান্ডের অসুখ সারাতে এতই মরিয়া ছিলেন যে, শঙ্কুর কথার চালাকিতে ভুলে স্টাইনারদের পালাতে দেন। কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই তিনি শঙ্কুর দেওয়া চারটি বড়ি গিলে নেন এবং ওগুলি আসলে ঘুমের বড়ি হওয়ায় ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে শঙ্কু পালাতে সক্ষম হন।

ইতিকথা – তাই বলা চলে, হের্ গোয়রিং একজন অহংকারী, নীচ, লোভী, স্বার্থপর এবং ওপরচালাক কিন্তু আসলে বুদ্ধিহীন মানুষ।

আমি মনে মনে স্থির করে নিয়েছিলাম, এ অবস্থায় যা বললে কাজ হবে, সেটাই বলব।—কোন্ অবস্থার কথা বলা হয়েছে? বক্তা কী বলেছিলেন?

অবস্থার বিবরণ – জার্মানির নাৎসিবাহিনীর একজন নেতা হের্ গোয়রিং ইহুদি প্রোফেসর হাইনরিখ স্টাইনারের বাড়ি থেকে প্রোফেসর শঙ্কুকে তাঁর প্রাসাদ কারিনহলে ধরে নিয়ে আসেন। হের্ গোয়রিং-এর নিষ্ঠুরতা ও শয়তানির পাশাপাশি একটা অসহায়তাও ছিল। তাঁর ওজন ছিল একশো সত্তর কেজি আর তিনি প্রচণ্ড ঘামতেন কারণ তাঁর গ্ল্যান্ডের অসুখ ছিল। তিনি প্রোফেসর শঙ্কুকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে, তাঁর বিখ্যাত মিরাকিউরল বড়ি খেয়ে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। শঙ্কু এ কথা শোনার পর গোয়রিংকে শর্ত দেন, স্টাইনারের পরিবারকে নির্বিঘ্নে প্যারিসে চলে যেতে দিলে তিনি তাঁকে ওষুধ দেবেন। শঙ্কুর এই শর্তে রেগে গিয়ে তিনি শঙ্কুকে পিস্তল দেখিয়ে সেই ওষুধ ছিনিয়ে নিতে যান। সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে এই অবস্থার কথাই বলা হয়েছে।

বক্তার বক্তব্য বিষয় – শঙ্কু ঠিক করে নিয়েছিলেন যে, যা বললে কাজ হবে সেটাই বলবেন তিনি। তিনি গোয়রিংকে বলেন যে, এ ওষুধ স্বপ্নে পাওয়া। কারোর অনিচ্ছা সত্ত্বে এই ওষুধ প্রয়োগ করলে অসুখ দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই রিভলভার দেখিয়ে কোনো লাভ নেই, গোয়রিং স্টাইনারদের জার্মানি ছাড়তে বাধা না দিলে শঙ্কু স্বেচ্ছায় তাঁকে ওষুধ দেবেন। শঙ্কুর এই কথায় সত্যিই কাজ হয়েছিল।

কী অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!—এখানে কার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে? তাঁর সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা-র বিবরণ দাও।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে প্রোফেসর শঙ্কুর ‘অদ্ভুত অভিজ্ঞতা’-র কথা বলা হয়েছে।

অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বিবরণ – নরবার্ট স্টাইনারের সঙ্গে লন্ডন থেকে বার্লিনে আসার পর চব্বিশ ঘণ্টায় শঙ্কুর বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

ওষুধ প্রয়োগ – বার্লিনে এসে নরবার্টের পিতা সংস্কৃতের অধ্যাপক হাইনরিখ স্টাইনারের ওপর মিরাকিউরল ওষুধ প্রয়োগ করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন শঙ্কু। এই ইহুদি অধ্যাপক নাৎসিবাহিনীর অত্যাচারে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছিলেন।

শঙ্কুর পরবর্তী অবস্থা – শঙ্কুর ওষুধের কথা জানতে পেরে পরের দিন সকালে নাৎসিবাহিনীর এক নেতা হের্ গোয়রিং-এর আদেশে তাঁর লোকেরা শঙ্কুকে তাঁর প্রাসাদে ধরে নিয়ে যান। গোয়রিং ইহুদিদের প্রতি খারাপ মন্তব্য করার পর শঙ্কুর কাছে মিরাকিউরলের বড়ি চান নিজের অসুখ সারানোর জন্য। শঙ্কু শর্ত দেন যে আগে স্টাইনারের পরিবারকে নির্বিঘ্নে প্যারিসে চলে যেতে দিতে হবে। এতে গোয়রিং ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে পিস্তল দেখিয়ে ওষুধ ছিনিয়ে নিতে চাইলে শঙ্কু কথার চালাকিতে তাঁকে বোকা বানান। তিনি বলেন, এ ওষুধ অনিচ্ছায় প্রয়োগ করলে বিপরীত ফল হতে পারে। তখন হের্ গোয়রিং শঙ্কুর শর্তে রাজি হন ও চারটে বড়ি চেয়ে খান। তারপর গোয়রিং ওপর তলায় গেলে পুলিশকর্মী এরিখ ফ্রোমও তাঁর এপিলেপ্সি রোগ সারানোর জন্য চারটে বড়ি চেয়ে খান। এরপর শঙ্কু বিগত চব্বিশ ঘণ্টার অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা ভাবতে থাকেন ।

মনের মধ্যে দুটো বিপরীত ভাবের দ্বন্দ্ব চলেছে। — কীসের দ্বন্দ্ব?

দ্বন্দ্বের বিবরণ – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর মনের মধ্যে যে বিপরীত ভাবের দ্বন্দ্ব চলেছে তা হল—

লন্ডন থেকে বার্লিনে যাত্রা – নরবার্ট স্টাইনার তাঁর পিতা সংস্কৃতের অধ্যাপক ইহুদি হাইনরিখ স্টাইনারকে সুস্থ করে তোলার জন্য প্রোফেসর শঙ্কুকে লন্ডন থেকে বার্লিনে নিয়ে যান। হাইনরিখ নাৎসিবাহিনীর অত্যাচারে শয্যাশায়ী।

সুস্থ করে তোলা – শঙ্কু সেখানে গিয়ে মিরাকিউরল বড়ির সাহায্যে তাঁকে সুস্থ করে তোলার পর নাৎসিবাহিনীর এক প্রধান হের্ গোয়রিং- এর লোকেরা শঙ্কুকে তাঁর প্রাসাদে ধরে নিয়ে যায়। গোয়রিং-এর ওজন বেশি হওয়ায় তিনি সবসময় ঘামতেন। এই রোগের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তিনি মিরাকিউরল বড়ি চান।

শর্তপ্রদান – শঙ্কু শর্ত দেন, স্টাইনারের পরিবারকে নির্বিঘ্নে প্যারিসে চলে যেতে দিতে হবে। রাজি না হয়ে গোয়রিং ওষুধ ছিনিয়ে নিতে চাইলে শঙ্কু বলেন যে ওই ওষুধ অনিচ্ছায় প্রয়োগ করলে উলটো ফল হবে । ঘাবড়ে গিয়ে হের্ গোয়রিং শঙ্কুর শর্তে রাজি হন ও চারটে বড়ি নিয়ে খান। তাঁর অনুচর এরিখ ফ্রোমও এপিলেপ্সি রোগের থেকে মুক্তির জন্য চারটে বড়ি নিয়ে খান। ওষুধ খেয়ে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লে শঙ্কু পালিয়ে আসেন।

মনখারাপ – মিরাকিউরল দিয়ে পৃথিবীর দুই পাষণ্ডের অসুখ সারিয়েছেন ভেবে শঙ্কুর মনটা বিষিয়ে ওঠে। আবার এই বড়ি দিয়েই তিনি হাইনরিখ স্টাইনারকে সুস্থ করে তাঁর পরিবারকে বিপদমুক্ত করতে পেরেছেন—এটা ভেবে তাঁর আনন্দও হয়। শঙ্কুর মনের এই দুই বিপরীত ভাবের দ্বন্দ্বের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

তোমার মহৌষধ বিশ্বের হীনতম প্রাণীর উপকারে আসবে এটা আমি চাইনি, চাইনি, চাইনি! – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এখানে কোন্ মহৌষধের কথা বলা হয়েছে লেখো। তিনি কী করেছিলেন?

মহৌষধের পরিচয় – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর বন্ধু লন্ডনের জীবতত্ত্ববিদ জেরেমি সন্ডার্স এই কথা বলেছেন। এখানে ‘মহৌষধ’ বলতে স্বর্ণপর্ণী গাছের পাতা থেকে প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি ‘মিরাকিউরল বড়ি’র কথা বলে হয়েছে।

বক্তার কার্যকলাপ – প্রোফেসর শঙ্কু লন্ডন থেকে নরবার্ট স্টাইনারের পিতা হাইনরিখ স্টাইনারকে সুস্থ করার জন্য বার্লিনে যাওয়ার আগে সন্ডার্স গোপনে তাঁর মিরাকিউরলের বড়ির শিশি থেকে বড়িগুলি বের করে সেখানে ঘুমের বড়ি রেখে দেন। সন্ডার্সের আশঙ্কা ছিল জার্মানিতে গিয়ে প্রোফেসর শঙ্কু নাৎসিবাহিনীর খপ্পরে পড়তে পারেন। তাঁর আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে নাৎসিদের একজন নেতা হের্ গোয়রিং জোর করে মিরাকিউরল বড়ি আদায় করার চেষ্টা করেন। পরে বাধ্য হয়ে শঙ্কুর শর্তে রাজি হওয়ায় শঙ্কু হের্ গোয়রিং ও তাঁর অনুচর এরিখ ফ্রোমকে চারটে করে বড়ি দেন।

তাঁরা সেই বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে প্রোফেসর সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। লন্ডনে ফেরার পর তিনি সন্ডার্সের কাছে জানতে পারেন যে ওই শিশিতে মিরাকিউরলের বড়ি ছিল না, ছিল ঘুমের ওষুধ। সন্ডার্সের এই বুদ্ধিদীপ্ত কাজে প্রোফেসর শঙ্কু শুধু যে নাৎসিদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিলেন, তাই- ই নয়, মিরাকিউরলের মতো মহৌষধকে কতকগুলো হীন মানুষের উপকারে লেগে কলঙ্কিত হতেও হয়নি।

আমার মন থেকে সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে গেল। — এখানে কোন্ অন্ধকারের কথা বলা হয়েছে? তা কীভাবে দূর হয়ে গেল?

অন্ধকারের পরিচয় – সত্যজিৎ রায় রচিত ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু বার্লিন থেকে ফিরে এসে বন্ধু সন্ডার্সকে সমস্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। বার্লিনে প্রথম ধাপে শঙ্কু সফল হন। অর্থাৎ নরবার্ট স্টাইনারের পিতা সংস্কৃতের অধ্যাপক হাইনরিখ স্টাইনারকে তিনি সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হন। কিন্তু তার পরেই তাঁকে পড়তে হয় এক বিপদের মধ্যে। নাৎসিবাহিনীর এক প্রধান হের্ গোয়রিং-এর লোকেরা শঙ্কুকে ধরে নিয়ে যান।

সেখানে হের্ গোয়রিং তাঁর অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শঙ্কুর কাছে মিরাকিউরল বড়ি চান। শঙ্কু  বুদ্ধি করে এর পরিবর্তে স্টাইনার পরিবারের প্যারিসে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। হের্ গোয়রিং প্রোফেসর শঙ্কুর এই কথায় রাজি না হয়ে জোর করে ওষুধটা কেড়ে নিতে চান। কিন্তু শঙ্কুর বুদ্ধির কাছে তিনি হার মানেন এবং তাঁর শর্তে রাজি হন। হের্ গোয়রিং মিরাকিউরলের চারটে বড়ি খেয়ে ওপর তলায় চলে গেলে তাঁর অনুচর এরিখ ফ্রোমও রোগমুক্তির জন্য চারটে বড়ি চেয়ে খান। এইভাবে পরিস্থিতির চাপে পড়ে মিরাকিউরলের বড়ির সাহায্যে দুই পাষণ্ডের অসুখ সারানোটা প্রোফেসর শঙ্কু মন থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। এটাই ছিল তাঁর মনের অন্ধকার বা দুঃখের কারণ।

অন্ধকার দূরীভূতকরণ – সন্ডার্স সমস্ত ঘটনা শোনার পর হাসিমুখে শঙ্কুর হাতে একটি শিশি তুলে দিয়ে বলেন এটিই আসল মিরাকিউরল। শঙ্কু জার্মানি যাওয়ার আগে সন্ডার্স আসল ওষুধগুলি সরিয়ে দিয়ে শিশিতে ঘুমের ওষুধ রেখে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ গোয়রিং ও এরিখকে মিরাকিউরলের বদলে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। এই খবরে শঙ্কুর মনের অন্ধকার দূর হয়ে গিয়েছিল।

স্বর্ণপর্ণী গল্পটিতে মানবিক মতো চরিত্র, উপকথা, শিশুদের জীবনের সমস্যা এবং দূরদর্শী মনোভাবের বিষয়গুলো বিবর্ণ করা হয়। এই গল্পগুলোর মাধ্যমে শিশুরা সমাজের মধ্যে সুন্দর বিচরণ করতে শিখে থাকে এবং নীতিমালা ও মরালের গল্প থেকে সম্পর্কিত মানবিক মূল্যায়নে তাদের মনের জ্ঞান উন্নতি করে দেয়।

গল্পটি আমাদের সমাজের দরিদ্র ও অনাথদের প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দেয়। গল্পটি আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের সুখ আসে হৃদয়ের পবিত্রতার মধ্য দিয়ে

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন